এই মুহূর্তে

মোল্লা ইউনূসের জমানায় সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশ, প্রতিদিন খুন ১১ জন

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সময় যত গড়াচ্ছে ততই তালিবান নেতা মোল্লা ওমরের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী হয়ে উঠছেন মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। গত বছরের ৫ অগাস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেই ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের ইন্ধনে দেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জঙ্গি আর সন্ত্রাসীরা। খুন, ধর্ষণ আর ছিনতাই জলভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কার্যত রসাতলে। সাধারণ মানুষ প্রতি মুহুর্তেই মৃত্যুভয়কে সঙ্গী করে সময় কাটাচ্ছেন।

গত বছর ৮ অগস্ট ক্ষমতায় এসেই হাসিনা জমানায় গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি  আর কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল ইউনূস সরকার। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চলা মামলা প্রত্যাহার করার পাশাপাশি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হিযবুত তাহরীর সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। জঙ্গি আর অপরাধীদের অপরাধ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে যাতে বাধা তৈরি না হয়, তার জন্য রেজাউল মল্লিক, শেখ সাজ্জাত আলীর মতো হিযবুত তাহরীর সঙ্গে জড়িত পুলিশ আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। আর পুলিশের শীর্ষ পদে বসার পরেই তাঁরা চি‍ৎকার করে চলছেন, ‘দেশে জঙ্গিবাদ বলে কিছু নেই। সব ছিল শেখ হাসিনার সাজানো নাটক।’

ইউনূস জমানায় দেশের আইনৃশৃঙ্খলা কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে তা পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। পুলিশের সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে খুন হয়েছেন ১,৯৩০ জন। অর্থা‍ৎ দিনে ১১ জনের মতো। জানুয়ারিতে ২৯৪ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০ জন, মার্চে ৩১৬ জন, এপ্রিলে ৩৩৬ জন খুন হয়েছেন। মে মাসে ৩৪১ব জন ও জুন মাসে ৩৪৩ জন খুন হয়েছেন। অর্থা‍ৎ জুনে চলতি বছরের সর্বোচ্চ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ মাসে সারা দেশে মোট ৩৪৩ জন খুন হয়েছেন। বেশি খুন হচ্ছে ঢাকা মহানগর,  ঢাকা রেঞ্জ ও চট্টগ্রাম রেঞ্জে।

খুনের পাশাপাশি সারা দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডাকাতি, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপহরণের মতো অপরাধও সংগঠিত হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৩৬৬টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৪টি ডাকাতি হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। এছাড়া প্রথম ছয়মাসে ১১ হাজার ৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে গত এপ্রিলে। ওই মাসে ২,০৮৯টি ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৫১৫টি। অর্থা‍ৎ দিনে গড়ে তিন জন অপহৃত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে জানুয়ারিতে। বছরের প্রথম মাসে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১০৫টি। অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে যখন সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে, তখন ঢাকার পুলিশ কমিশনার তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর প্রাক্তন শীর্ষ নেতা শেখ সাজ্জাত আলী দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। কোনও অবনতি ঘটেনি। একই দাবি করেছে মোল্লা ইউনূসের প্রেস উইং-ও। প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকরা মনে করছেন, ইউনূস জমানায় যেভাবে পুলিশের শীর্ষ পদগুলোতে জামায়াতী ও জঙ্গিকরণ ঘটেছে, তার খেসারত চোকাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

ভয় দেখিয়ে তিন ছাত্রকে ধর্ষণ, গ্রেফতার নরপিশাচ মাদ্রাসা শিক্ষক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ