এই মুহূর্তে

‘হিন্দুদের নিয়োগ নয়’, বাংলাদেশি শিল্পপতিদের নির্দেশ মোল্লা ইউনূস সরকারের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: প্রশাসনকে হিন্দু শূন্য করার পরে এবার বেসরকারি ক্ষেত্রেও যাতে কোনও হিন্দুদের নিয়োগ না করা হয় তার জন্য কোমর কষে ঝাঁপাল ‘রাজাকার’ মোল্লা ইউনূসের সরকার। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি শিল্পপতি এবং বহুজাতিক সংস্তাগুলির শীর্ষ কর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন করে সংস্থায় আর কোনও হিন্দুদের নিয়োগ করা যাবে না। মুসলিমদেরই শুধুমাত্র নিয়োগ করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই হুমকিতে খানিকটা হলেও বিপাকে পড়ে গিয়েছেন ‘ট্রান্সকম’ ‘প্রাণ’, ‘বসুন্ধরা’, ‘ইউনিলিভার বাংলাদেশ’, ‘সিটি’, ‘রুপায়ন’ ও ‘র‍্যাংগস’ সহ শীর্ষ শিল্প সংস্থাগুলির পদাধিকারীরা।

সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের শীর্ষ শিল্প ও বণিক সংগঠনের শীর্ষ পদাধিকারীদের সঙ্গে দফায়-দফায বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বৈঠকে দুজনেই স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তদারকি সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের স্পষ্ট নির্দেশ রযেছে, নতুন করে আর কোনও হিন্দুদের নিয়োগ করা যাবে না। ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে হিন্দুদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে হবে। কোনও নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এনবিআর ও বিডার প্রতিনিধিকে অবশ্যই রাখতে হবে। যাতে নিশ্চিত হয়, কোনও হিন্দুকে চাকরি দেওয়া হচ্ছে না। ‘ট্রান্সকম’ ও ‘রূপায়ন’ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান শিমিন রহমান ও লিয়াকত আলি খান মুকুল বলার চেষ্টা করেছিলেন, ‘হিন্দুদের নিয়োগ না করার বিষয়টি জানাজানি হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থাগুলো থেকে রফতানির অর্ডার কমতে পারে।

যদিও তাদের সেই কথাকে গুরুত্বই দিতে চাননি এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। উল্টে দুজনকে থামিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে দেশের মধ্যে নিজেদের ব্যবসা বাঁচান। তার পরে বিদেশে ব্যবসার কথা ভাববেন।’এনবিআর ও বিডার চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে থাকা একাধিক শিল্প সংস্থার মালিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, ‘হিন্দুদের নতুনভাবে নিয়োগেই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। এমনকি সংস্থায় কর্মরত হিন্দুদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য লাগাতার চাপ দিচ্ছে সরকারের শীর্ষ মহল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। যার ফলে অনেক পদস্থ হিন্দু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের পরিবর্তে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা ল্যাজেগোবরে হচ্ছেন। ব্যবসা মার খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্যবসাই বন্ধ করে দিতে হবে। এমনিতেই বহু বিদেশি সংস্থা পাততাড়ি গুটিয়ে দেশ ছেড়েছে। দেশীয় সংস্থাগুলিও ধুঁকছে। এইভাবে কতদিন ব্যবসা টেনে নিতে পারবেন তা নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

ভয় দেখিয়ে তিন ছাত্রকে ধর্ষণ, গ্রেফতার নরপিশাচ মাদ্রাসা শিক্ষক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ