আটপৌরে থেকে আধুনিক শাড়ির নেপথ্যে ঠাকুরবাড়ির নারীরা, বঙ্গে কীভাবে বদলেছিল ফ্যাশন

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় নারীদের পোশাকের কথা উঠলেই প্রথমে শাড়ির কথা মনে পড়ে। ছয় গজ কাপড়ে জড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্য শুধু ফ্যাশন নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও নারীত্বের এক অনন্য পরিচয়। তবে বর্তমান আধুনিক শাড়ির নেপথ্যে রয়েছে এক অন্য কাহিনি। সামনে নিখুঁত প্লিট, কাঁধে গুছিয়ে ফেলা আঁচল, সঙ্গে ব্লাউজ ও পেটিকোট এই পরিচিত স্টাইল কিন্তু বহু পুরোনো নয়। আধুনিক শাড়ির এই রূপের পিছনে রয়েছে বঙ্গ ও গুজরাতের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ঠাকুরবাড়ির প্রগতিশীল নারী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী। ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে ভারতীয় নারীদের পোশাক ছিল অনেকটাই অঞ্চলভিত্তিক। বাংলায় নারীরা মূলত ‘আটপৌরে’ ঢঙে শাড়ি পরতেন। সেই শাড়িতে থাকত না আজকের মতো সামনের প্লিট, ব্লাউজ বা আলাদা পেটিকোট। কাপড় জড়ানোর ধরন ছিল ঢিলেঢালা ও ঘরোয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই সময় শাড়ি ছিল মূলত অন্তঃপুরের পোশাক। উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলারা ঘরের বাইরে খুব কম বের হতেন। ফলে মহিলাদের পোশাকেও ‘পাবলিক স্পেস’ এর প্রয়োজনীয়তা তেমন ছিল না। কিন্তু ঔপনিবেশিক যুগে সমাজে শিক্ষার প্রসার, নারী স্বাধীনতা ও সামাজিক মেলামেশা বাড়তে শুরু করলে বদল আসে পোশাকেও । এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে আসেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, যিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী। তিনি শুধু একজন লেখিকা বা সমাজসংস্কারক ছিলেন না, ভারতীয় নারীদের পোশাক ভাবনায়ও তিনি এনেছিলেন বিপ্লব। স্বামীর সঙ্গে বোম্বাইয়ে (বর্তমান মুম্বই) গিয়ে তিনি প্রথম দেখেন পারসি ও গুজরাতি নারীদের শাড়ি পরার ভিন্ন ধরণ। সেখানে শাড়ির আঁচল কাঁধে গুছিয়ে ফেলা হতো, সঙ্গে থাকত ব্লাউজ ও ইননার লেয়ার। এই স্টাইল ছিল অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ, চলাফেরার উপযোগী এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত।

কথিত আছে, একবার ব্রিটিশ ক্লাবে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে যাওয়ার কারণে জ্ঞানদানন্দিনী দেবীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ভাবতে বাধ্য করে কীভাবে শাড়িকে আধুনিক ও ব্যবহারিক রূপ দেওয়া যায়। এরপরই তিনি গুজরাতি ও পারসি ড্রেপিং স্টাইলের সঙ্গে বাঙালি শাড়ির ঐতিহ্য মিশিয়ে তৈরি করেন নতুন ধারা, যা পরে ‘ব্রাহ্মিকা শাড়ি’ নামে পরিচিত হয়। সামনের প্লিট যোগ হওয়ার ফলে শাড়ি আরও আরামদায়ক ও চলাফেরার উপযোগী হয়ে ওঠে। আধুনিক ‘নিভি’ ড্রেপের সঙ্গে এই স্টাইলের মিল দেখা যায়। শাড়ির এই পরিবর্তন শুধুমাত্র স্টাইলের বিবর্তন ছিল না; এটি ছিল নারীর সামাজিক স্বাধীনতার প্রতীক। ব্রাহ্মিকা শাড়ি নারীদের প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি নারীদের মধ্যে এই স্টাইল দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আধুনিক প্রি-স্টিচড শাড়ি, বেল্টেড ড্রেপ, করসেট ব্লাউজ, কেপ স্টাইল কিংবা ফিউশন ড্রেপ  সবেতেই কোথাও না কোথাও লুকিয়ে রয়েছে সেই আধুনিকীকরণের ইতিহাস। বঙ্গের ঐতিহ্য, গুজরাতের ড্রেপিং স্টাইল, ঔপনিবেশিক প্রভাব ও ঠাকুরবাড়ির নারীদের সাহসী পদক্ষেপ  সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে আধুনিক শাড়ির পরিচিত অবয়ব। ফলে শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়; এটি ভারতীয় নারীর সামাজিক বিবর্তন, আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতারও এক জীবন্ত দলিল।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! কেষ্টপুরে গাড়ি-সহ পুকুরে ডুবে মৃত্যু গৃহবধূর

স্বাধীনতা দিবসের দুপুরে পাতে রাখুন নেতাজির প্রিয় পদ ‘পালং শাকের বাটি চচ্চড়ি’

কলকাতা বিমানবন্দরে ধুন্ধুমার, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উড়তে দেরি বিমানের, বিক্ষোভ যাত্রীদের

বাব-এল মান্দেবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৬, আহত ১০

মেয়াদ শেষের আগে হঠাৎ পদত্যাগ করলেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান, নেপথ্যে কোন কারণ?

নানুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে সাদা থান ও হুমকি চিঠি, চাঞ্চল্য এলাকায়

মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে গাড়ি! হিমাচলের সিরমৌরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত ৯

১৫ অগস্ট হামলার ছক! জঙ্গি সন্দেহে কলকাতায় ধৃত পাকিস্তানি নাগরিক

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝেঁপে নামবে বৃষ্টি! কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় সতর্কতা

মুম্বইয়ের বহুতলে ভয়াবহ আগুন, মৃত ২, আহত ৬

কলকাতা-হাওড়ায় ওয়ার্ড বাড়ানোর তোড়জোড়, আজ বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনছে রাজ্য সরকার

আদ্যাপীঠে আরতি করে আদ্যা মায়ের পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, সেবা করলেন গোমাতার

‘রাখে হরি, মারে কে’, কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের ৩৬ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার জীবিত মহিলা