এই মুহূর্তে

হিন্দু নিধন যজ্ঞের হোতাদের জামাই আপ্যায়ন ঢাকার ভারতীয় দূতের, ক্ষোভে ফুঁসছেন মুক্তিযোদ্ধারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও মিসেস মানু ভার্মার আমন্ত্রণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। এই খবর সামনে আসতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে এপারে। মুখে হিন্দুদের নিধন নিয়ে কড়া বার্তা দিলেও এমন তঞ্চকতা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। জামাতের বিরুদ্ধে বহুবার সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরা। এমনকী এপার বাংলার বিজেপি নেতারাও সুর সপ্তমে চড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল জামাত–এ–ইসলামি। এক দশকের বেশি সময় ধরে ভোটের রাজনীতিতেও নিষিদ্ধ জামাতই বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলের পথে হাঁটছে। ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মাপারে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে জামাত নিজেদের ঢেলে সাজার কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেখানে এমন দৃশ্য সমালোচিত হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দলটির বাড়বাড়ন্তে উদ্বিগ্ন সেখানকার উদারপন্থী ও সংখ্যালঘুরা। জামাত ক্ষমতায় এলে মৌলবাদীদের দাপাদাপি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের। এই আবহে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রাক্তন সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন অংশ নেন বলে সূত্রের খবর। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও আওয়ামি লিগের নেতা–কর্মীদের উপর হামলার আবহেই নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয় জামাত। সেখানে দেখা গেল, হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে স্বাগত জানান।

অন্যদিকে মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। বিএনপিকে রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে জামাত। সেই জামাতের নেতাদের নিয়ে আদিখ্যেতা করছে ভারত। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা ভারতের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার ঘটনার সঙ্গে আগের করা বক্তব্যের কোনও মিল খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকেই। তাই বিতর্ক চরমে উঠতে শুরু করেছে। এই দৃশ্য দেখে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে হিন্দুরা। হাসিনা পরবর্তী পর্বে এমনিতেই আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। জামাত ও তাদের জোট ক্ষমতায় এলে এমন হামলা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। সেখানে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা ভারতের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ভাবিয়ে তুলেছে সকলকে।

তাছাড়া এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্তা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্তা এবং সিভিল সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের এমন ভূমিকার নেপথ্য কারণ জানতে চাইছেন পদ্মাপারের হিন্দুরা। এমনকী ক্ষোভে ফুঁসছেন মুক্তিযোদ্ধারাও। তাই একটি সংগঠনের নেতার বক্তব্য, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে কোনও সরকারই বিশেষ ভাবেনি। কিন্তু আমরা এখন যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছি সেটা নজিরবিহীন। জামাত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ পুরোপুরি ইসলামপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির কথা ভেবেই আমরা এখন আতঙ্কিত।’‌

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাংলাদেশের একজন সাংসদের বেতন কত? কী-কী সুবিধা পান?

৭২ ঘন্টায় বাংলাদেশের ৩৯ জায়গায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় চালু, ঘুম ছুটেছে জামায়াতের

কাঁধে বাঁক নিয়ে ১৭০ কিমি হেঁটে শিবলিঙ্গে জল ঢাললেন মুসলিম তরুণী

‘উপদেষ্টাদের নিরাপদে বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে দিন’, তারেককে কাতর আর্জি ইউনূসের  

ইজরায়েলি পর্যটককে গণধর্ষণের পরে খুনের দায়ে তিন পাষণ্ডকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নজির গড়ছেন তারেক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ