চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘একটানা ভ্রমণ করছি, আর বাসে যাওয়া সম্ভব নয়’, ইরান থেকে ভারতে ফিরে ক্ষুব্ধ কাশ্মীরি পড়ুয়ারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি:  উর্মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের মেডিক্যাল ছাত্রী নার্জিস বলেন, “দূতাবাস খুবই সহায়তা করেছে। আমাদের সড়কপথে আর্মেনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় প্রথমে। তারপর কাতার হয়ে ভারতে নিয়ে আসা হয়।” ইরান থেকে ভারতে ফেরা পড়ুয়ারা তেহরানের পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা জম্মু ও কাশ্মীরের ছাত্র ছাত্রীরা কেন্দ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। কিন্তু দিল্লি পৌঁছানোর পর যে বাসগুলি রাখা হয়েছে তাঁদের বাড়ি পাঠানোর জন্য, সেগুলি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। পড়ুয়াদের বক্তব্য, অন্যান্য রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা যেমন বিমানবন্দর এবং অভ্যন্তরীণ বিমানে উন্নত সুযোগ সুবিধা পেয়েছিলেন, কাশ্মীরের ছাত্রছাত্রীদেরও একই সম্মান দেওয়া উচিত ছিল।

জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছে, “ইরান থেকে চার দিনের ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু এখানে আসার পর তাদের খুব খারাপ SRTC বাসে করে আসতে বলা হয়। অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষার্থীরা আরও ভাল অভ্যর্থনা, যত্ন ও বিমান পেয়েছিল। এটাই কি কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য্যের প্রতিদান?”

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একজন ছাত্র বলেন, “আমরা ভারত সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা কোনও সমস্যার সম্মুখীন হইনি, এখন আমরা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা তিন দিন ধরে এক দেশ থেকে দ্বিতীয় দেশে, দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় দেশে ভ্রমণ করেছি। আমরা বাসে যেতে রাজি নই। বাসের অবস্থাও খুব একটা ভাল নয়। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করছি আমাদের জন্য এমন কিছু ব্যবস্থা করুন যাতে আমরা দ্রুত বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারি। তাঁরাও আমাদের জন্য চিন্তিত।”

বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে  দেখে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে সরকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য পরিবহন কর্পোরেশনের(SRTC) মাধ্যমে আরও ভাল ডিলাক্স বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কাশ্মীরের এক ছাত্র ইয়াসির জাফর ইরানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, “গত দু’দিন ধরে উর্নিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এখন উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের সরিয়ে আনা এখন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।” পড়ুয়াদের প্রত্যেকেই খুব খুশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন তা ভেবে।

ইরানের উর্মিয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১১০ জন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে সরিয়ে প্রথমে আর্মেনিয়া, তারপর দোহা হয়ে দিল্লিতে আনা হয়। এর ৯০ জন কাশ্মীরের বাসিন্দা। ইরানে পড়াশোনার খরচ তুলনামূলক কম, তাই কাশ্মীরের পড়ুয়ারা ইরানকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেছে নেন। বর্তমানে ইরানে প্রায় ৪০০০ ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী ইরানে লেখাপড়া করছেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘আমার থেকে খুশি আর কেউ নয়’,সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কুর্নিশ মমতার

র‍্যাম্প থেকে যুদ্ধক্ষেত্র! ‘মিস ইন্ডিয়া’ কাশিশ এখন ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট

ইনস্টাগ্রামে হেলিকপ্টার রাইডের লোভনীয় টোপে ৫৪ হাজার টাকা খোয়ালেন মহিলা

ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের, নিষ্পত্তি হওয়া নাম তুলতে হবে ভোটার তালিকায়

যুদ্ধ শেষ হলেও ভারতে জ্বালানি সঙ্কট মিটতে সময় লাগতে পারে ৪ বছর

মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘায়েলে চিনের তৈরি বিশেষ অস্ত্র ব্যবহার ইরানের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ