আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘তু বাহার আ’, কলেমা পড়তে না পারায় তাঁবু থেকে বের করে গুলি করে মারা হয় পুণের সন্তোষকে

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভূস্বর্গে পহেলগাঁওয়ে বৈসরন ভ্যালিতে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি চালিয়ে বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের হত্যা করেছে লস্কর-ই-তৈয়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সন্ত্রাসীরা। পুণের ব্যবসায়ী সন্তোষ জগদালে এবং তাঁর পরিবার গুলি চালনার শব্দ শুনেই চিৎকার করছিলেন। গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যেতেই একটি তাঁবুর ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন।

সন্তোষের মেয়ে আশাভরি বর্ণনা করেছেন যে, “স্থানীয় পুলিশের মতো পোশাক পরা লোকজন” পাহাড় থেকে নেমে আসার পর তারা যখন গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পান, তখন ভয়াবহতা শুরু হয়। আশাবরী, তাঁর মা প্রগতি এবং তার বাবা সন্তোষ অন্যান্য পর্যটকদের সঙ্গে কাছাকাছি একটি তাঁবুতে ছুটে যান। তারা ধরে নিয়েছিলেন বাইরে গুলিবর্ষণ আসলে হচ্ছে আক্রমণকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে। কিন্তু ভুল ভাঙে যখন পাশের একটি তাবুতেই গুলি চলে।

এরপর বাইরে থেকে হঠাৎ করেই আসে ঠান্ডা গলার নির্দেশ। আশাবরীর বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, “চৌধুরী, তুমি বাইরে এসো”। কোনও সুযোগ না দিয়েই সন্তোষ জগদালেকে বাইরে বের করে আনা হয়। এরপর আক্রমণকারীরা তাঁকে দোষারোপ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করার জন্য।

আশাভরী বলেন, “আশেপাশে বেশ কয়েকজন পর্যটক ছিলেন, কিন্তু সন্ত্রাসীরা বিশেষভাবে পুরুষদের লক্ষ্য করে জিজ্ঞাসা করেছিল যে তারা হিন্দু না মুসলিম। তারপর তারা আমার বাবাকে একটি ইসলামিক আয়াত (সম্ভবত কলমা) আবৃত্তি করতে বলে। কিন্তু তা করতে না পারায় বাবাকে পরপর তিনটি গুলি করে। একটি মাথায়, একটি কানের পিছনে এবং একটি পিঠে।”- ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী নিজের বাবাকে হারিয়ে পাথর হয়ে গিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, এরপর আক্রমণকারীরা আশাবরীর কাকার দিকে ফিরেও বারবার গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী ২০ মিনিট পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে ,জানিয়েছেন আশাভরী। তাঁর অভিযোগ বাবা এবং কাকা বেঁচে আছেন কিনা তা না জেনেই স্থানীয়রা এবং নিরাপত্তা বাহিনী আশাভরী, প্রগতি এবং আত্মীয়দের পহলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে মহারাষ্ট্রের  সন্তোষ জগদলেও রয়েছেন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন হলেন অতুল মানে, সঞ্জয় লেলে এবং হেমন্ত যোশী। এরা সকলেই থানের বাসিন্দা। এছাড়া রয়েছেন পুনের কৌস্তুভ গানবোতে এবং নভি মুম্বাইয়ের দিলীপ দোসালে। ৪৫ বছর বয়সী অতুল মানে সেন্ট্রাল রেলওয়ের একজন সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। দিলীপ দোসালে নভি মুম্বাই থেকে আসা ৩৯ জন পর্যটকের একটি দলের অংশ ছিলেন যারা জম্মু ও কাশ্মীর বেড়াতে গিয়েছিলেন।

বৈসরন উপত্যকাকে বলা হয় ভারতের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’। সবুজের মাঝে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন পর্যটকরা। সেখানেই হতে হল রক্তাক্ত। আহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার আসে। স্থানীয়রাও সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করেছিলেন। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীরে সবচেয়ে ভয়াবহ নাশকতার সাক্ষী থাকল ভূস্বর্গ। এই হামলায় ২৬ জন নিহতের মধ্যে দুজন বিদেশী এবং দুজন স্থানীয় রয়েছেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বাড়ির শৌচালয় থেকে বিচারকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, ভয়ঙ্কর ঘটনা দিল্লিতে

ছত্তিশগড়ের কাঙ্কেরে মাইন নিস্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন চার নিরাপত্তারক্ষী

১০০ বছরের পুরনো মহাকাল মন্দিরে,চারিদিকে সবুজের সমাহার,নেই শহরের কর্মব্যস্ততা

পর্যটকদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত লক্ষদ্বীপ প্রশাসনের, ঢুকতে প্রয়োজন হবে না পুলিশি ছাড়পত্রের

৭১ বছর বয়সে নেট দুনিয়ার হিরো বনগাঁর আবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, নেটিজেনদের মন জয় ‘গান দাদু’র

সমুদ্রে ডাইভ করার সময় খেলেন কচ্ছপের ‘থাপ্পড়’! ভাইরাল ভিডিও দেখে হেসে লুটোপুটি নেটনাগরিকরা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ