আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অধীর লাইনে হাঁটতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের একাংশ

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিলম্বিত বোধোদয়। শোনা যাচ্ছে, প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ এখন আর অধীর লাইনে হাঁটতে চাইছেন না। অধীর লাইন অর্থাৎ, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর(Adhir Ranjan Chowdhury) দেখানো লাইন। তীব্র তৃণমূল(TMC) বিরোধিতার লাইন। আর সেই লাইনে অটুট থাকতে বামেদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দোস্তি। পর্দার আড়ালে বন্ধুত্ব বিজেপির সঙ্গেও। কিন্তু এই লাইনে হেঁটেও অধীর না পেরেছেন বাংলার বিধানসভায় কংগ্রেসের বিলুপ্তি ঠেকাতে, না পেরেছেন বিজেপির উত্থান ঠেকাতে। বামেদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েও পারেননি নিজের আসন বাঁচাতে। নিজ দুর্গে নিজেই হেরেছেন তৃণমূলের কাছে। তিনি যদি সঠিক হতেন তাহলে তো তাঁর নিজে জেলা, নিজ সংসদীয় এলাকার মানুষজন তাঁর পাশে থাকতো। কিন্তু তাঁরা তো থাকেননি। সদ্য হয়ে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের মানুষ বেছে নিয়েছেন তৃণমূলকে। বিদায় জানিয়েছেন অধীরকে। আর এই সব দেখে এখন প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের একাংশও চাইছেন, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, অধীর লাইন ছেড়ে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে।   

আরও পড়ুন বাবার ভুলের মাশুল নিজের জীবন দিয়ে গুণল মেধাবী ধ্রুবজ্যোতি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে হাতেকড়ি কংগ্রেসের(INC) হাত ধরেই। জীবনে প্রথমবার সাংসদ হয়েছেন কংগ্রেসের টিকিটেই। প্রথমবার কেন্দ্রে মন্ত্রী হয়েছেন, কংগ্রেসের সাংসদ হিসাবেই। সেই কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে বিশেষ করে সিপিএমের সঙ্গে বাংলার(Bengal) মাটিতে লড়াই করার খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব তো বটেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও মমতার লড়াইকে খুব একটা দাম দিতে চাননি। তার জেরেই মমতার কংগ্রেস ত্যাগ আর তৃণমূলের জন্ম। সেই তৃণমূলের জন্মের পরে পরেই রাজ্যে ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হতে শুরু করে কংগ্রেস। একসময় তা কার্যত সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলে পরিণত হয়। তৃণমূল কিন্তু উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে জন্মের ১৩ বছরের মধ্যেই বাংলার শাসক দল হয়ে ওঠে। মমতাই সেই কাজ করে দেখান। বাংলা থেকে বিদায় দেন ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে। যদিও সেই সময় তাঁকে কংগ্রেসের সঙ্গেই জোট গড়ে লড়তে হয়েছিল। কিন্তু একুশের ভোটে তৃণমূল একাই লড়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। কংগ্রেস লড়েছিল সিপিএমের সঙ্গে হাতে হাত ধরে। রেজাল্ট রাজ্য বিধানসভা থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে বাম আর কংগ্রেস দুইই।

আরও পড়ুন ১৫ বছরের বাস বসে যাওয়ার নিয়ম লাগু শুধুমাত্র বৃহত্তর কলকাতায়, জানালেন পরিবহণমন্ত্রী

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরে পরেই বাংলায় কংগ্রেস বিলুপ্তিকরণের জন্য রাজনৈতিক সমীক্ষক অধীরকেই দায়ী করেছিলেন। অধীর অবশ্য তাতে কান দেননি। তিনি অনড় থেকেছেন মমতা আর তৃণমূল বিরোধিতায়। তার ফায়দা তুলেছে বিজেপি(BJP)। কিন্তু এবার অধীরকেই হারাতে হল তাঁর সাংসদ পদ। চলে গিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদও। দ্রুত সেই শূন্যস্থান পূরণও হয়ে যেতে চলেছে। নতুন কেউ আসবেন অধীরের জায়গায় যার কাজই হবে তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাজ্যে কংগ্রেসের হারানো জমি ফিরিয়ে আনা। তবে অধীর ফিরছেন না। কেননা অধীরকে ফেরাতে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডও রাজী নন। কেননা তাঁদের তরফ থেকে একাধিকবার অধীরকে বলা হয়েছে, মমতা আর তৃণমূল বিরোধিতার জায়গা থেকে সরে আসতে। অধীর সেই কথা কানে তোলেননি। এখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের মতো প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদেরও একাংশ মানছেন, অধীরের নীতি দলকে লাভের মুখ তো দেখাতেই পারেনি, উল্টে ক্ষতির মুখে এসে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার মাটিতে কংগ্রেস যদি মমতা আর তৃণমূল বিরোধিতা চালিয়ে যায় তাহলে বিধানসভায় ফেরা তো দূরের কথা, আগামী দিনে রাজ্যের একমাত্র লোকসভা কেন্দ্রটিও হয়তো ধরে রাখা যাবে না। থাকবে না প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব।

আরও পড়ুন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস আপাতত নেই

কার্যত নিজেদের সেই রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাওয়ায় এখন প্রদেশ কংগ্রেসের অনেক নেতাই আর অধীর লাইনে হাঁটতে নারাজ। বরঞ্চ তাঁরা চাইছেন, তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে না পারলেও তীব্র মমতা বিরোধিতা নয়। অন্ধ তৃণমূল বিরোধিতা নয়। কার্যত অধীর অধ্যায়কেই তাঁরা ক্লোজড চ্যাপটার হিসাবে দেখতে চাইছেন। সেই সম্ভাবনাও ক্রমশ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, অধীর নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতেই বাধ্য হবেন বিজেপির পথে হাঁটতে। তবে সেক্ষেত্রে তিনি জার্সি বদল করলে, তাঁর সঙ্গে অনেকেই জার্সি বদল করবেন। কিন্তু সবাই নন। এরাই এখন চাইছেন, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে, সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে। দেখার বিষয় কংগ্রেস হাইকম্যান্ড কাকে নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করে আর তৃণমূল ২৬’র ভোটে কংগ্রেসকে কিছু আসন ছাড়ে কিনা। অভিষেক কিন্তু ইঙ্গিত দিয়েই দিয়েছেন, অধীর উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে। রাজ্য বিধানসভায় ফিরতে তাই কংগ্রেস হাইকম্যান্ডও এখন তৃণমূলকে কাছে টানবে। কেননা বামেদের সঙ্গে জোড় গড়ে কোনও লাভই হয়নি কংগ্রেসের। তাই সেই রাস্তাতেও হাঁটতে চান না কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। প্রশ্ন, তৃণমূল কী জমি ছাড়বে কংগ্রেসকে!

Published by:

Share Link:

More Releted News:

কোন কোন বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, এখনও খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন

‘মানুষের ভোট যেন সুরক্ষিত থাকে,’ স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে বললেন মমতা, ক্ষোভ পুলিশের ভূমিকায়

কালবৈশাখীর মধ্যেই ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের পাহারায় মমতা

তৃণমূলের EVM-বিকৃতির অভিযোগ খারিজ কমিশনের, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে মোতায়েন বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী

কার দখলে থাকবে বাংলা? সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যেই পূর্বাভাস দেবে ইভিএম

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে যাচ্ছেন মমতা, স্ট্রংরুম পাহারায় তৃণমূল সুপ্রিমো

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ