আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

দিঘা থেকে ফিরে সরাসরি বড়বাজারের ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পরের দিনই কলকাতা ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরই সরাসরি পৌঁছে যান বড়বাজার এলাকায়। সেখানের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুরেই বড়বাজার এলাকা পরিদর্শনে আসেন। এবং তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা ও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। সেখানে গিয়ে মমতা হোটেলের আশপাশে থাকা বাড়িগুলি দেখেন। আর অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এমনকি তিনি সেখান থেকে জানান, আগুন ধরে যাওয়া হোটেলটিকে ‘সিল’ করে দেওয়া হবে। তিনি জানান, যেখান থেকে দমকল প্রবেশ করবে সেই পথও বন্ধ ছিল।

জানা গিয়েছে, কলকাতার বড়বাজারের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশি মানুষই আগুনে নয়, ধোঁয়ার কারণে মারা গিয়েছেন। তবে, যখন এই ঘটনাটি ঘটে তখন মুখ্যমন্ত্রী দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের কারণে পূর্ব মেদিনীপুরে ছিলেন। সেই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দিঘায় থাকাকালীনও সারা রাত তিনি না ঘুমিয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগে ছিলেন, দমকলমন্ত্রী সুজিত এবং কলকাতা পুলিশ।

এদিন ঘটনাস্থলের অনেক বিপজ্জনক বাড়ি দেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতায় বহু বাড়ি রয়েছে, যেগুলিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করেছে পুরসভার তরফ থেকে। তবে শরিকি মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাড়ির মেরামত করা হয় না।

এরপরই সতর্ক বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “১৫ দিন সময় দিচ্ছি তার মধ্যে কেউ কথা না শুনলে, না সরলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তো সারাজীবন ছেড়ে যেতে বলছি না, তিন মাসের মধ্যে তো সংস্কার করে আবার আপনাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”  মমতা বলেন আরও বলেছেন, “কিছু জায়গায় অনেক প্লাস্টিক মজুত রয়েছে। কথা শোনে না। শুনতে হবে। আমি কারও বিরুদ্ধে নই। আপনারা ভাল থাকুন, আমি সেটাই চাই। এটা বলার জন্য আমাকে ভোট না-দিলে, না-দিন। চাই না। কিন্তু দয়া করে নিজেদের জীবন বাঁচান।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলছেন, “দমকল কর্মীদের ধন্যবাদ, ওরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাশের বিল্ডিং দিয়ে ভেতরে ঢুকে ৯০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। কিন্তু হোটেলের ঘরের ধোঁয়া বাইরে বেরোনোর জায়গা ছিল না। ছিল না হোটেলের ভিতর পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা। দু’জন তো সিঁড়ির কাছ অব্দি পৌঁছেও বাইরে বেরোতে পারেনি। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।”

বড়বাজারের অগ্নিকাণ্ডের জেরে হোটেলের এক মালিক ও ম্যানেজারকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। এদিন মুখ্যমন্ত্রী হোটেল মালিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দ্যেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হোটেলের ব্যবসা দেখলেই হবে না, অতিথিদের সুরক্ষাও দেখতে হবে। এটা মানুষের জীবনের বিষয়। জীবন চলে গেলে তো আর কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না।”

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “টাকা দিয়ে তো আর মানুষের জীবনের দাম মেটানো যায় না। তাই সুরক্ষার প্রশ্নে সকলকেই সচেতন হতে হবে।”

Published by:

Share Link:

More Releted News:

রবিবার স্ট্রং রুমে ইভিএম পাহারায় বিজেপির মহিলা বাহিনী অবস্থানে বসছে

মুখপাত্র থেকে একেবারে গণনা পর্যবেক্ষক, বাড়তি দায়িত্ব পেলেন প্রতীক উর রহমান

কালীঘাট থানার সাসপেন্ড হওয়া ওসি–সহ পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা

রাজীব কুমার থাকছেন বিশেষ দায়িত্বে, গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করলেন মমতা–অভিষেক

‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করা দলীয় কর্মীদের পুরস্কৃত করা হবে,’ ঘোষণা মমতার

‘লোডশেডিং হতে পারে, গণনার সময়ে সতর্ক থাকবেন,’ কাউন্টিং এজেন্টদের বার্তা অভিষেকের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ