চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

টাকি পূর্বে ২০৩ বছরের পুজো, মায়ের মৃন্ময়ী রূপ দেখতে ভিড় জমান ওপার বাংলার মানুষও 

নিজস্ব প্রতিনিধি, টাকি: “হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড় চীন—
শক-হুন-দল পাঠান মোগল এক দেহে হল লীন।
পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার, সেথা হতে সবে আনে উপহার
দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে—
এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে।”

বিশ্কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারততীর্থ’ কবিতার এই পংক্তিগুলি অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায় ভারতের সঙ্গে। সারা বিশ্বে থেকে কত জাতি কত ধর্মের মানুষ এসেছেন। কেউ কেউ ভারতকে শুষে নিয়েছেন, কেউ আবার ভারতকে ভালবেসে ভারতেই রয়ে গিয়েছেন। এদেশের ইতিহাস তো বহু প্রাচীন।  বঙ্গদেশের ইতিহাস ততোধিক প্রাচীনত্বের গন্ধ মাখা। কত পরিবারের ওঠাপড়া, ছিন্নমূল হওয়ার যন্ত্রণা, কত আচার সব মিলে মিশে এক হয়ে গিয়েছে এখানে। যার যত কষ্টই হোক আর যার যত সুখই থাকুক উভয়ের মধ্যে একটি বিষয় কিন্তু একেবারে এক, তা হল দুর্গাপুজো। সারা বছর ধরে মানুষ অপেক্ষা করে থাকে এই একটি দিনের জন্য। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার টাকির জমিদার বাড়ির প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতির লোককথা দালানকোঠার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে।

তার মধ্যে টাকি পূর্বের বাড়ির ইতিহাস একেবারে প্রাচীন। মহালয়ার পর দিন অর্থাৎ প্রতিপদ থেকে পুজো শুরু হয়। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত এই পুজোর দালানকোঠায় চলে দেবীর আরাধনা। এমনকি বিদেশী দর্শনার্থীরাও এখানে আসেন। পুজো উপলক্ষে একেক দিন এক এক রকমের ভুরিভোজের আয়োজন থাকে। মায়ের ভোজনের পর প্রসাদ গ্রহণ করেন সবাই। টাকির বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল বিসর্জন। বিজয়া দশমীতে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের ইছামতি নদীর পারে যতক্ষণ পর্যন্ত টাকি পূর্বের জমিদার বাড়ির প্রতিমা বিসর্জন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনও জমিদার বাড়ির (বিশেষ করে রায় চৌধুরী বাড়ি, মুখোপাধ্যায় বাড়ি, চক্রবর্তী বাড়ি, ঘোষ বাড়ি সহ একাধিক বারোয়ারী পুজো) প্রতিমা নদীর ঘাটে নিয়ে যেতে পারবেন না কেউ। অবিভক্ত বাংলা থেকেই এই রীতি ও পরম্পরা ইতিহাসে এক নিদর্শন।

এখনও বাংলাদেশ থেকে বহু দর্শনার্থীরা এখানে আসেন প্রতিমা দর্শনে। ওপার বাংলার দর্শনার্থীরা বরাবরই ইছামতির তীরে টাকিতে বিসর্জন দেখতে ভালবাসেব। দুই বাংলার প্রাচীন ইতিহাস সংস্কৃতি আজও তাই একইরকম হয়ে রয়ে গিয়েছে। টাকি পূর্বের বাড়ির নতুন প্রজন্মের সদস্য শর্মিষ্ঠা ঘোষ বলেন, “আমরা এখনও প্রাচীন ইতিহাস সংস্কৃতি মেনে চলি। বিশেষ করে বিজয়া দশমীর দিন মা পান্তা ভাত, কচুর শাক, চালতার চাটনি খেয়ে বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে যান ২৪ জন বেহারার কাঁধে চড়ে। তিন কিলোমিটার শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে টাকির রাজবাড়ি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় মাকে। সেখানে নিয়ম তিথি মেনে ইছামতি নদীতে প্রথম টাকি পূর্বের মায়ের বিসর্জন। তারপর একে একে জমিদার বাড়ি বারোয়ারী পুজোর ক্লাবের প্রতিমা গুলো নিরাঞ্জন হয়।” তাই এখন অপেক্ষায় দিন গুনছেন টাকি পূর্বের পরিবার।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

মোদির ঝালমুড়ির পাল্টা, ভোটপ্রচারে বেরিয়ে ফুচকা খেলেন তৃণমূল প্রার্থী

‘ভবানীপুরের তিন ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ছাপ্পা করাবে’, বিস্ফোরক মমতা

মোদির ‘দিদি ও দিদি’র পর এবার মমতাকে ‘এই দিদি’ বলে ব্যঙ্গ অমিত শাহের

ফের রাজপথে মমতা, ২৭ এপ্রিল যাদবপুর থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত মিছিলে হাঁটবেন

বঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটে ২৩২১ কোম্পানি আধা সেনা, কলকাতায় কত?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ