দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অপমৃত্যুজয়ী শক্তির দাত্রী রূপে পূজিতা হন এই দেবী, চেনেন নাকি?

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভারতীয় পৌরাণিক শাস্ত্রে অসংখ্য জানা-অজানা দেবীর উল্লেখ রয়েছে। তার পাশাপাশি রয়েছে অজস্র ডাকিনী-যোগিনীর উল্লেখও। জানা যায়, অগ্নিপুরাণের ৫২তম অধ্যায়ে উল্লিখিত ৬৪ যোগিনীদের অন্যতম এক মহাশক্তিময়ী দেবী হলেন যোগিনী অক্ষয়া। তাঁর এই নামের মধ্য দিয়ে অতি সহজে বোঝা যায় এর অর্থ। যেন এই নামেই লুকিয়ে তাঁর অসীম ও অনন্ত মাহাত্ম্যের ইঙ্গিত। “অক্ষয়” শব্দের অর্থ—যার বিনাশ নেই, যা অবিনশ্বর বা অবিনাশী।  তাই এই যোগিনী তন্ত্রসাধকদের কাছে অক্ষয় জীবন, অমরত্ব ও অপমৃত্যুজয়ী শক্তির দাত্রীরূপে পূজিতা।

যোগিনী অক্ষয়ার রূপ-মহিমা অপরূপ। ইনি গৌরবর্ণা, উজ্জ্বল শুভ্র কান্তিময়ী। চতুর্ভূজা এই দেবী নানা অলঙ্কারে ভূষিতা, দেবীয় ঐশ্বর্যের প্রতীক স্বরূপ। তাঁর বাহন কূর্ম বা কচ্ছপ—যা স্থৈর্য, দৃঢ়তা ও নিরবিচল শক্তির প্রতীক। এ বাহনও ইঙ্গিত দেয় যে সাধনপথে স্থিতপ্রজ্ঞ ও ধীর চিত্ত না হলে অক্ষয়া সাধনার সিদ্ধি লাভ দুরূহ।

যোগিনী অক্ষয়ার চারটি হাতে রয়েছে বিশেষ প্রতীক ও শক্তিচিহ্ন। বামদিকের উপরের হাতে পদ্ম, যা আধ্যাত্মিক জাগরণ ও পবিত্রতার প্রতীক। বামদিকের নিম্নহস্তে বরমুদ্রা, যা আশীর্বাদ ও ইচ্ছাপূরণের প্রতীক। দক্ষিণদিকের উপরের হাতে তিনি জলপূর্ণ কলস ধারণ করেন—জীবনের ধারাবাহিকতা ও অক্ষয়তার প্রতীক এই পাত্র এবং দক্ষিণদিকের নিম্নহস্তে রয়েছে অক্ষমালা— যা তপস্যা, জপ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতীক। কখনো কখনো তাঁর বাম পার্শ্বে এক পবিত্র ধ্বজার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা বিজয়, স্থায়িত্ব ও শাশ্বত শক্তির ইঙ্গিতবাহী।

সন্মোহিনী তন্ত্র অনুসারে, দেবী জলদুর্গার অঙ্গবিদ্যাদের একজন হলেন এই যোগিনী অক্ষয়া। কথিত আছে, তাঁর সাধনায় বিশেষ ফলাফল পাওয়া যায়—সাধক অক্ষয় জীবনলাভ করেন, অর্থাৎ এই সাধনায় অপমৃত্যুর ভয় চিরতরে নষ্ট হয়। তান্ত্রিক মতে, যার জীবন অসময়ে ছিন্ন হয়, তার আত্মোন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু যোগিনী অক্ষয়ার কৃপায় সাধকের জীবন স্বাভাবিক ও পরিপূর্ণ হয়, ফলে তার আত্মার মুক্তি ও সিদ্ধি লাভ ঘটে। যোগিনী অক্ষয়ার পৃথক মাহাত্ম্যের নিদর্শন আজও খুবই বিরল।

তবে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কোন্নগরের রাজরাজেশ্বরী মঠে ৬৪ যোগিনীর কষ্টিপাথরের প্রাচীন মূর্তি সংরক্ষিত রয়েছে। যার মধ্যে যোগিনী অক্ষয়ার মূর্তিও অন্যতম। তন্ত্রপন্থীদের মতে, এই যোগিনীর সাধনপদ্ধতি গভীর গুপ্ত, গুরুগম্য ও প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। সাধারণ মানুষ এ সাধনায় প্রবেশ করতে পারে না—এ শুধুই প্রকৃত তান্ত্রিক সাধকদের পথ। তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, যোগিনী অক্ষয়া একদিকে যেমন অক্ষয় জীবনের দাত্রী, তেমনই তন্ত্রমার্গের রহস্যঘেরা এক শক্তিস্বরূপা—যিনি সাধকের অন্তরে স্থায়ী শক্তির অমোঘ বীজ রোপণ করেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ