দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জানেন কী, মহামুনি ভৃগুর অভিশাপে শৈশবে স্মৃতিবিলোপ হয়েছিল সঙ্কটমোচনের?

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : অঞ্জনাদেবীর কোল আলো করে জন্ম নেওয়া বজরংবলী হনুমান ছোট থেকেই ছিলেন এক অপরিসীম শক্তির ধারক। তাঁর পিতা পবনদেবের বর আর দেবতাদের আশীর্বাদে তাঁর যে অসম্ভব শক্তি ছিল—তা শৈশব থেকেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তবে খুব স্বাভাবিক ভাবেই শৈশবকালে এই অপার শক্তির যথাযথ ব্যবহার বোধ তখনও তাঁর মধ্যে জন্মায়নি। ফলে তাঁর দুষ্টুমি, দুরন্তপনা কখনও কখনও সীমা ছাড়িয়ে যেত।

জানা যায়, শৈশবে বজরংবলী তপস্যারত ঋষি-মুনিদের নানাভাবে বিরক্ত করতেন। যজ্ঞের উপচার ছুঁড়ে নষ্ট করা, কৌপীন টেনে খুলে ফেলা, তাঁদের দীর্ঘ দাড়ি-জটাধরা চুল টেনে টেনে হাসাহাসি করা—এসব যেন তাঁর নিত্যকার খেলা ছিল। মুনিরা ধৈর্য ধরে অনেক দিন তাঁকে সহ্য করলেন। ভাবলেন, এ তো দেবশক্তিধর এক শিশু, অবোধ বলেই এমন করছ। কিন্তু হনুমানের দস্যিপনা দিন দিন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। গভীর ধ্যানে লিপ্ত সাধকদের সাধনায় তিনি বারংবার বিঘ্ন ঘটাতে লাগলেন। এমনকি অনেক সময় তাঁদের কঠিন ব্রতের উপচারে তিনি তাঁর ছেলেমানুষির বশত  ব্যাঘাত ঘটিয়ে ফেলতেন।

এই ধৃষ্টতা আর সহ্য করতে পারলেন না মুনিসংঘ। অতঃপর একদিন ভৃগু ও অঙ্গিরা বংশীয় মহামুনি রুষ্ট হয়ে হনুমানকে অভিশাপ দিলেন। বললেন, “হে বালক, তুমি তোমার নিজের শক্তির সীমাহীন ভান্ডার নিয়ে অহঙ্কারে মত্ত হয়েছ। তুমি বুঝছ না কার সাধনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছ। তাই অভিশাপ দিচ্ছি—তুমি বহুদিন পর্যন্ত তোমার নিজের সেই অসীম শক্তির কথা ভুলে থাকবে। তোমার মধ্যে সেই বল, তেজ, বীর্য লুকিয়ে থাকবে, কিন্তু তুমি নিজেই তা জানতে পারবে না। তবে যখন কোনও মহাপুরুষ তোমাকে তোমার গৌরবগাথা স্মরণ করিয়ে দেবে, তখনই আবার তোমার আসল রূপের জাগরণ ঘটবে।”

ঋষিদের এই অভিশাপ লেগে গেল। হনুমান সত্যিই ভুলে গেলেন নিজের অসীম শক্তির কথা। তাঁর বালকবেলায় আর সেই দুরন্ত উচ্ছ্বলতা রইল না। তিনি শান্ত, নম্র, ভদ্র, ভক্তিপূর্ণ এক বালকে রূপান্তরিত হলেন। বাইরের জগতের চোখে তিনি যেন এক সাধারণ বানরশিশু। কিন্তু অন্তরের অন্তঃস্থলে তখনও সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেল তাঁর অপরিসীম বল, বীর্য, তেজ ও প্রতাপ।

যদিও নিজের দৈবশক্তির কথা বিস্মৃত হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর চরিত্রের মূল গুণাবলি অটুট রইল। অন্তরে ছিল অপরিসীম ধৈর্য, নিরাসক্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা, ঈশ্বরভক্তি ও অসীম সাধনার শক্তি। এভাবেই গড়ে উঠেছিল এক অনন্য চরিত্র—যিনি একদিন সমগ্র বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন তাঁর লীলা দিয়ে।

অভিশাপের ফলে হনুমানের অন্তঃশক্তি যেমন সুপ্ত হয়ে রইল, তেমনি তাঁর জীবনধারায় প্রবাহিত হতে লাগল বিনয়, নম্রতা ও শিষ্টাচার। তিনি গুরুজনের আজ্ঞাবহ, সেবাপরায়ণ, সৎ, সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ হয়ে উঠলেন। এই গুণাবলিই তাঁকে পরবর্তী কালে রামের পরম ভক্ত ও সর্বশ্রেষ্ঠ সেবকের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পায়ে, ঋষিদের সেই অভিশাপ একদিকে অভিশাপ হলেও, অন্যদিকে ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। কারণ এর ফলে হনুমান অহংকারমুক্ত, বিনয়ী ও সেবাধর্মী চরিত্রে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর শক্তির অপব্যবহারের সুযোগ ছিল না। বরং সেই শক্তি ধরা দিল সঠিক সময়ে, সঠিক উদ্দেশ্যে—যা রামকাজ সাধনে অপরিহার্য ছিল।

এইভাবেই ঋষি ভৃগুর অভিশাপ হনুমানের জীবনকে এক নতুন দিকনির্দেশ করেছিল, যা তাঁকে চরিত্রগুণে পরিপূর্ণ করে রামের পরম ভক্ত, এবং বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সেবক ও বীরে পরিণত করেছিল।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ