চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সুকান্ত-নিশীথ-বার্লার উত্তরবঙ্গে বড় ধাক্কা বিজেপির

নিজস্ব প্রতিনিধি: উনিশের লোকসভা নির্বাচনে পদ্মঝড় দেখেছিল উত্তরবঙ্গ(North Bengal)। একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও যোগ্য সঙ্গত করেছিল উত্তরবঙ্গ। কিন্তু বাইশের পুরভোটে উত্তরবঙ্গ দেখল সবুজ সুনামি। এই সুনামি যে ধেয়ে আসতে চলেছে সেটা কিন্তু শিলিগুড়ি পুরনিগমের ফলই ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছিল। ওই নির্বাচন নিয়ে কিন্তু বিরোধীরা কোনও অভিযোগই তোলেনি। ফলাফল সামনে আসতেই দেখা গিয়েছিল এই প্রথমবার শিলিগুড়িতে একক ভাবে বড় জয়ের মুখ যেমন দেখেছে তৃণমূল(TMC) তেমনি একক শক্তিতেই পুরবোর্ড গঠন করতে চলেছে তাঁরা। একই সঙ্গে সামনে এসেছিল বিজেপি(BJP) বা বামেরা সেখানে শুধু যে হেরেছে তাই নয়, হেরেছেন বিজেপির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, হেরেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বামেদের মুখ অশোক ভট্টাচার্যও। কার্যত সেই ফলই বলে দিয়েছিল উত্তরবঙ্গের মানুষ এবার তৃণমূলকেই চাইছেন রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ আর্থসামাজিক প্রকল্প বাধাহীন ভাবে পেতে। এদিন রাজ্যের ১০৮টি পুরসভার রায় সামনে আসার পর থেকেই কিন্তু দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে শিলিগুড়ির প্রতিচ্ছবি। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের(Sukanta Majumdar) উত্তরবঙ্গ, কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক(Nishith Pramanick) ও জন বার্লার(John Barla) উত্তরবঙ্গে তৃণমূল সুনামি।

উনিশের ভোটে বড় জয়ের মুখ দেখলেও একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলই কিন্তু বলে দিয়েছিল উত্তরবঙ্গে জমি হারাচ্ছে বিজেপি। কিন্তু অদ্ভূত ভাবে সেই জমি ধরে রাখার কোনও চেষ্টাই করেননি পদ্মশিবিরের নেতারা। বরঞ্চ উত্তরবঙ্গ জুড়ে অস্থিরতা বাড়াতে তাঁরা একের পর এক পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি ছড়িয়ে দেন। কখন পৃথক রাজ্য চেয়েছেন জন বার্লা, কখনও রাজু বিস্তা, কখনও রাজবংশী নেতারা। পৃথক রাজ্যের দাবিতে সরব হয়েছেন সেখানকার বিজেপির বিধায়কেরাও। কিন্তু উত্তরবঙ্গের আমজনতা কী চান সেটাই বোঝার চেষ্টা করেননি তাঁরা। জোর দেননি উত্তরবঙ্গে দলের সংগঠন মজবুত করার দিকেও। এবারের পুরনির্বাচনে সকলের চোখ ছিল বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দিকে, নজর ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিকের জেলার দিকে, নজর ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লার জেলা আলিপুরদুয়ারের দিকেও। জনতার রায় বলছে সর্বত্রই তৃণমূল সুনামি।  

সুকান্ত মজুমদারের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ২টি পুরসভায় এবারে ভোট হয়েছিল। বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর। দুটি পুরসভাতেই কার্যত বিজেপিকে নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতা দখল করেছে তৃণমূল। বালুরঘাটের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টিতে ফুটেছে ঘাসফুল। ২টি ওয়ার্ড গিয়েছে বামেদের দখলে। কোথাও নেই বিজেপি। গঙ্গারামপুরের ১৮টি ওয়ার্ডের সবকটিতেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল। নজর ছিল নিশীথ প্রামাণিকের জেলা কোচবিহারের ৬টি পুরসভার দিকেও। সেখানেও সবুজ ঝড়। কোচবিহার টাউন, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ, মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ি পুরসভাতে নিরঙ্কুশ জয়ের মুখ দেখেছে তৃণমূল। দিনহাটায় তাঁরা ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে বসে আছে। এদিন জনতার রায় সামনে আসতেই দেখা গেল তৃণমূলকে লড়াই দিচ্ছে বামেরা ও নির্দলেরা। ভ্যানিশ বিজেপি। খাস কোচবিহার শহরে ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডে জিতেছে তৃণমূল। জিতেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি ৭৩১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নির্দলেরা জিতেছে ৩টি ওয়ার্ডে, বামেরা ২টি ওয়ার্ডে। কিন্তু কোনও ওয়ার্ডেই জয়ের মুখ দেখেনি বিজেপি। একই ছবি জন বার্লার আলিপুরদুয়ার জেলাতেও। সেখানেও ২টি পুরসভাতে ভোট হয়েছে। আলিপুরদুয়ার টাউন ও ফালাকাটা। আলিপুরদুয়ার শহরের ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টিতে জিতেছে তৃণমূল। ৩টিতে নির্দল প্রার্থীরা, ১টি জয়ী কংগ্রেস। ফালাকাটায় এবারেই প্রথম ভোট হল। সেখানেও ১৮টি আসনের সবকটিতেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল, কোথাও নেই বিজেপি।  

বস্তুত এবারের পুরনির্বাচনে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও জন বার্লা কাউকেই বিজেপির হয়ে প্রচার করতে দেখা যায়নি। তার জেরে বিজেপির এই মুখ থুবড়ে পড়ার পরে এখন বিজেপির অন্দর থেকেই অভিযোগ উঠেছে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীই তলে তলে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার তাল করেছেন। সেই কারণেই তাঁরা পুরনির্বাচনে তৃণমূলকে ভোট ভেট দিয়েছেন। জমি ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও উত্তরবঙ্গের অনান্য জেলাগুলির দিকে তাকালে বোঝা যাবে দার্জিলিং ব্যাতীত প্রতিটি পুরসভায় স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐক্যশ্রী বিরোধীদের কোমর ভেঙে দিয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার ৪টি পুরসভার সবকটিতেই, উত্তর দিনাজপুর জেলার ৪টি পুরসবার মধ্যে সবকটিতেই এবং মালদা জেলার ২টি পুরসভার সবকটিতেই জয়ি হয়েছে তৃণমূল। বিজেপি সর্বত্রই ভ্যানিশ। বরঞ্চ মাঠে থাকছেন বামেরা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘বিজেপি প্রার্থীকে দলের কর্মীরাই মানছে না’, সবংয়ে মানস-অমলের তফাৎ বোঝালেন অভিষেক

মালদায় ভোটারদের নজর কাড়ার মরিয়া চেষ্টা ইংরেজ বাজারের সিপিএম প্রার্থীর

‘গণতন্ত্রে বুলেট নয়, ব্যালট চলে’, কোচবিহার থেকে কড়া বার্তা মমতার

‘‌যেখানে ক্ষমতা নিরঙ্কুশ, সেখানে পরিণাম ঐচ্ছিক’‌, অভিষেকের নিশানায় মধ্যপ্রদেশের বিধায়কের ছেলে

অধ্যাপকদের ভোটে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করে হাইকোর্টে মুখ পোড়াল জ্ঞানেশ গ্যাং

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ