এই মুহূর্তে

কোচবিহার উত্তর আসন কি ধরে রাখতে পারবে বিজেপি?‌ টানটান লড়াইয়ের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে সব দল ঘর গোছাতে ব্যস্ত। আর কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রটি নিয়ে এখন ভাবনায় পড়েছে গেরুয়া শিবির। কেন এমন ভাবনা?‌ কারণ এই আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। ১৯৫১ সালে এই আসনটি ছিল শুধু কোচবিহার বিধানসভা কেন্দ্র। তখন ১৯৫১ সালে এই আসনটি জেতে কংগ্রেস। ১৯৫৭ সালেও হাত শিবিরেই যায় আসনটি। কিন্তু ১৯৬২ সালে এই আসনটি তিন ভাগে বিভক্ত হয়—কোচবিহার উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিম। তখন ১৯৬২ এবং ১৯৭২ সালে কংগ্রেস জেতে এই আসনগুলি। তবে ১৯৭৭ সালে এই তিনটি আসনকে ভেঙে ফেলা হয়। গড়ে ওঠে কোচবিহার উত্তর আর পশ্চিম। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসন দুটি ধরে রাখে বামফ্রন্টের শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক। মাঝে ১৯৯৬ সালে কংগ্রেস এখানে আবার জায়গা করে। তারপর ২০০৮ সালে এই আসন দুটি ভেঙে গড়ে ওঠে কোচবিহার উত্তর এবং দক্ষিণ।

এই ইতিহাস থাকলেও ২০১১ সালে বাংলার ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পালাবদলের বাজারেও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রসেনজিৎ বর্মনকে ২ হাজার ১৯৭ ভোটে পরাজিত করে আসন ধরে রাখে ফরওয়ার্ড ব্লকের নগেন্দ্র নাথ রায়। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায়। কিন্তু তখনও এই আসনটি (‌কোচবিহার উত্তর)‌ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরিমল বর্মনকে পরাজিত করে ১২ হাজার ২৯৭ ভোটে জেতেন ফরওয়ার্ড ব্লকের নগেন্দ্রনাথ রায়। কিন্তু ২০২১ সালে এখানে অদ্ভূত পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিপুল আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু কোচবিহার উত্তর আসন জিতেছিল বিজেপির সুকুমার রায়। ১৪ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার থেকে সাংসদ হন বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক। যাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল—৭৩১,৫৯৪।

তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আসনটি ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। হেরে যান নিশীথ প্রামাণিক। আর জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। যাঁর প্রাপ্ত ভোট—৭৮৮,৩৭৫। এবার আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। এখানে বহু কাজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই এবার এই আসনটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। এই অঞ্চলটি রায়ডাক ১ এবং ২, গদাধর, কালজানি, তোর্সা এবং ঘরঘরিয়া নদী দ্বারা ঘেরা। এখানের অর্থনীতি মূলত কৃষি, ধান, পাট এবং শাকসবজির উপর নির্ভরশীল। গভীর নলকূপ এবং নদী থেকে জল তোলার ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই সেচের কাজ করা হয়। পশুপালন, দুগ্ধ এবং মৎস্য চাষও আয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে। এখানে ক্ষুদ্র শিল্পের উপস্থিতি আছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে এসআইআরের প্রভাব পড়েছে। তাতে মানুষ বিজেপির প্রতি বীতশ্রদ্ধ। এটা তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে একটা বাড়তি অক্সিজেন। এই আসনটি তিনটি শহরতলি দিয়ে ঘেরা। এক, তুফানগঞ্জ দুই, মাথাভাঙা এবং তিন, আলিপুরদুয়ার। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠন মজবুত করেছে। বিজেপির সংগঠন আগের মতো না থাকলেও আছে। বামফ্রন্টের এবং কংগ্রেসের সংগঠন এখানে তেমন শক্তিশালী নয়। সুতরাং এই আসনে লড়াই হবে তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিজেপির। ভোট কাটাকাটির কোনও জায়গাও এখানে নেই। তবে কে জিতবে এবং কে হারবে সেটা বিধানসভার ফলাফলেই স্পষ্ট হবে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

কলকাতা শহর জুড়ে ১০৯ টি পয়েন্টে নাকা চেকিং, পথে পুলিশ কমিশনার

ভোটের আগে ৫০০ জনের কপালে সরকারি ফ্ল্যাট, মাত্র ৬ লাখ টাকায় মিলল নিউটাউনে

সামসেরগঞ্জ থেকে বাংলাদেশে চোরাই মোবাইল পাচারের পাণ্ডা গ্রেফতার

বাদুড়িয়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশের নর্দমায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের পাহাড়, এলাকায় চাঞ্চল্য

লজ্জা, লজ্জা! বাবা দুরারোগ্য HIVতে আক্রান্ত, স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হল ৪ বছরের পড়ুয়াকে

সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রে স্নায়ুর চাপে বিজেপি?‌ উত্তরের ময়দানে বড় সমীকরণ দুই ফুলের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ