দেবীর ভোগে দেওয়া হয় কাঁচা মাছ, আজও এই প্রথা চলছে ঝাড়গ্রামের সেনগুপ্ত বাড়ির দুর্গাপুজোয়

ঝাড়গ্রামের সেনগুপ্ত বাড়িতে আজও এই প্রথা মেনে পুজো হয়। এই পুজোর বয়স তিনশো বছর। আজ এখানে পুজো দেখতে ভিড় জমান দুর দুরন্ত থেকে আসা ভক্তরা।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্গাপুজো কলকাতার পুজো। গোটা রাজ্য জুড়ে দুর্গাপুজো পালিত হয়। শহরের বাইরে গ্রামবাংলার পুজোগুলিও এ সময়ে খুবই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ বনেদি, জমিদার, রাজবাড়ির পুজো গুলিও দেখার মতো। যেখানে হয়তো কোনও থিম নেই, কিন্তু লুকিয়ে আছে অনেক ইতিহাস। তাই আজ আমরা এমন একটি জমিদার বাড়ির গল্প বলব, যা শুনলে আপনার ছুট্টে সে বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করবে। আজ আমাদের আলোচনার বিষয় ঝাড়গ্রামের সেনগুপ্ত বাড়ি। জানা গিয়েছে, বর্গী হামলার কারণে এখানে গোপনে পুজো শুরু হয়েছিল। গোপনেই পুজোর সব আয়োজন করা হত। ভয়ে ভোগ রান্না করা হত না। তাই দেবীকে কাঁচা কাঁচা ভোগ দেওয়া হত। নবমীর দিন ‘শত্রু বলি’ দেওয়া হত। ঝাড়গ্রামের সেনগুপ্ত বাড়িতে আজও এই প্রথা মেনে পুজো হয়। এই পুজোর বয়স তিনশো বছর। আজ এখানে পুজো দেখতে ভিড় জমান দুর দুরন্ত থেকে আসা ভক্তরা।

দেবীর সামনে কাঁচা সবজি, চাল, ডাল ভোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি থাকে কাঁচা মাছও। পুরাণে বর্গীদের ভয়ে রেঁধে দেবীকে ভোগ দেওয়া যেত না। তাই কাঁচাই ভোগ দেওয়া হত। মাও তা সাদরে গ্রহণ করতেন। আজও এই প্রথাই রয়েছে। জানা গিয়েছে, সেনগুপ্ত বাড়ির পুজো প্রথম শুরু হয়েছিল অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে। সেখানেই ছিল সেনগুপ্তদের আদি নিবাস। কিন্তু দেশভাগের পরে সেনগুপ্ত বাড়ির বংশধররা ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবায় চলে আসেন। সেখানেই পাকাপোক্ত বসবাস শুরু করেন। সেই সময় থেকেই দুর্গাপুজো শুরু করেন তাঁরা। বাড়ির কর্তা ছিলেন রামগতি সেনগুপ্ত, তিনি ছিলেন বড় কবিরাজ। সেই সময় থেকেই সেনগুপ্ত বাড়ির দুর্গাপুজোর জৌলুস বেড়েছিল। প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরও বাড়ির রজনীকুটিরের চণ্ডীমণ্ডপ সেজে উঠবে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তোড়জোড়।

সেনগুপ্ত বাড়ির পুজোয় কাঁচা ভোগে থাকে চাল–ডাল–আনাজ এবং নুন–হলুদ মাখিয়ে ভোগের কাঁচা মাছ দেওয়া হয় দেবীকে। বাড়ির পুজোর ইতিহাস প্রসঙ্গে সেনগুপ্ত পরিবারের সদস্য দীপঙ্কর সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ১৭৪৫ সালে বর্গী হামলার জেরে সেনগুপ্তদের পূর্বপুরুষরা গোপনে পুজো শুরু করেন। বর্গীদের ভয়ে ভোগ রাঁধার সময় ও সুযোগ থাকত না। এখনও সেই নিয়মেই ভোগ দেওয়া হয়। প্রতিদিন আলু ,ফুলকপি, বেগুন, মুলো, কাঁচকলার মতো অন্তত পাঁচ রকম কাঁচা আনাজ ভোগে দেওয়া হয় দেবীকে। যা পুরোটাই ব্রাহ্মণকে দান করা হয়।যেহেতু দেবীকে বর্গী হানার জন্য রান্না করা ভোগ নিবেদন করা যায়নি। তাই কাঁচা ভোগের এক কণাও পরিবারের সদস্যরা গ্রহণ করেন না। যদিও দেবীকে প্রতিদিন ফল, খই, মুড়কি, নারকেল নাড়ুর নৈবেদ্য দেওয়া হয়।’ সেনগুপ্তদের বাড়িতেই একচালার মূর্তি তৈরি করা হয়। প্রতিমার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দুর্গার ডানদিকে আছেন লক্ষ্মী ও কার্তিক আর দুর্গার বাঁ পাশে সরস্বতী ও গণেশ থাকেন। আর নবমীর দিন সেনগুপ্ত বাড়িতে শত্রু বলির প্রথা রয়েছে। আর তার জন্যে কচুপাতার উপরে চালের গুঁড়ি দিয়ে বানানো হয় মানুষে প্রতিকৃতি। হোম ও ধুনুচির কালি দিয়ে আঁকা হয় মানুষের চুল ও চোখ। সিঁদুর দিয়ে তৈরি করা হয় মুখ। এরপরে তাকেই বলি দেওয়া হয়। এবং অশুভশক্তির বিনাশ করা হয়। এই বাড়িতে দশমীর দিনেই মায়ের বিসর্জন দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

‘দয়া করে সবাই বন্যায় বিপর্যস্ত অসমের পাশে দাঁড়ান’, দেশবাসীর কাছে কাতর আর্জি পাপনের

ভিনধর্মী প্রাপ্তবয়স্ক যুগলের বিয়েতে বাধা নয়! পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের

যোগ্যরা সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন, ধোঁয়াশা কাটালেন শুভেন্দু

‘সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবীতে আমি এসেছি’, ডি. লিট সম্মান পেয়ে জানালেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়

উদ্বোধনের ১২ দিনেই ফাটল ৪,২০০ কোটি টাকার এক্সপ্রেসওয়েতে

নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে প্রথম দিনের শুনানিতে অনুপস্থিত সিবিআইয়ের আইনজীবী

মহেশতলায় জিন্স কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বয়লার ফেটে প্রাণ গেল শ্রমিকের

ভেঙেছিল পা, হার্ট সার্জারি করলেন চিকিৎসকরা! করুণ পরিণতি মহিলার

‘আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে আরও ১০-১২টি চা বাগান খুলবে,’ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

সিকিমের দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও সরকারি চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

ধর্মতলায় সাংবাদিক নিগ্রহে ধৃতদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ, গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬

কলকাতা পুরভোটের তোড়জোর, শুক্রবারই প্রকাশ হতে পারে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া তালিকা

E-20 নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপমানজনক মন্তব্য, বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ নীতিন গড়করি

কলেজ চত্বর থেকে উদ্ধার আইআইটি পড়ুয়ার দেহ, মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু