এই মুহূর্তে

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ৪২ ঘণ্টা পর আটক গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাস

নিজস্ব প্রতিনিধি: নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যকে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোর তিনটে নাগাদ আনন্দপুরে অবস্থিত ওয়াও মোমো, অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার পরপর দুটো গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত আটজনের দেহাংশের হদিশ মিলেছে। আরও ১৭ জনের পরিবার নিখোঁজ অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় এখনও ভস্মীভূত গুদামের ভাঙা কারশেডের নিচে আরও কর্মীদের দেহ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনার ৪২ ঘন্টা পর অবশেষে গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে আটক করল নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

তাঁকে বারুইপুরের জেলা পুলিশ দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হবে। বুধবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হতে পারে। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের একটি দল মেদিনীপুরে হানা দেয়। আর এদিন বাড়ি থেকে বের হতেই গঙ্গাধর দাসকে আটক করা হয়। যদিও গুদাম মালিক বরাবরই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দায় চাপিয়েছেন মোমো সংস্থার ঘাড়ে। কিন্তু গুদাম যে জমিতে অবস্থিত, তার মালিক ছিলেন গঙ্গাধর। মোমো কোম্পানি তাঁর কাছ থেকেই গোডাউন লিজে নিয়েছিল। ঘটনার দিন সেখানেই কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এরপরেই গুদাম মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। প্রথমত গুদামের পরিসর অনেকটাই ছোট, সেখানে এতগুলো শ্রমিক কি করে কাজ করতেন। মাত্র একটা দরজা রয়েছে গুদামের। তাই আগুন লাগার পর কর্মীরা সেখান থেকে বেরোতে পারেনি। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এছাড়া এত বড় একটা গুদামে কেন কোনও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) নেই, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দমকলের তরফে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করা হলে গঙ্গাধর দাসকে অফিসিয়ালি গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

রবিবার-সোমবার ভোর তিনটে নাগাদ নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত আনন্দপুরের ডেকরেটর্সের অফিস গোডাউন দাউ দাউ করে আগুন ধরে ওঠে। তেল, গ্যাস, বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রীতে দ্রুত আগুন ধরে যায়। সেই মুহূর্তে বেরোনোর পথ না পেয়েই পরপর মৃত্যু হয় কর্মীদের! এখনও পর্যন্ত ৮ জনের দেহাংশের হদিশ মিলেছে। কিন্তু এখনও ধ্বংসাবশেষের ভাঙা কারশেডের নিচে আরও কর্মীদের দেহ আটকে রয়েছে বলে আশঙ্কা। জানা গিয়েছে, গোডাউনের পাশেই ডেকরেটর্সের অফিস। সেখানেই থাকতেন কর্মীরা। প্রচুর দাহ্য থাকলেও নিয়মিত চলত রান্না। কর্মীদের থাকার জায়গায় একটি দরজা রয়েছে। আগুন লাগায় দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়! কোনও মতে সেখান থেকে বের হন কর্মীরা! কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। কারণ অফিসের পাশের গোডাউ নেও আগুন জ্বলে ওঠে! তাই জ্বলন্ত গোডাউন পেরিয়ে কর্মীরা শেষমেষ বাইরে বেরোতে পারেনি। সেখানেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে একের পর এক কর্মীর মৃত্যু হয়। ভাঙা কারশেডের নিচে আরও কর্মীর দেহ আটকে রয়েছে কিনা, তার উদ্ধারকার্য চলছে। এখনও দু’টি গুদামের ইতিউতি ধিকিধিকি জ্বলছে আগুন। গোডাউনে বেশ কিছু জায়গায় পকেট ফায়ার রয়েছে। সেগুলি নির্মূলে চলছে কুলিং প্রসেস। কুলিং প্রসেস শেষ হলে ফরেনসিক পরীক্ষা হবে। ফরেনসিকের নমুনা সংগ্রহের পরই আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে। অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে যাওয়া দেহগুলিকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। এখনও ১৭ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছে। তাঁদের পরিবারের থেকে DNA সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেননা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে কর্মীদের দেহ। সনাক্ত করার উপায় নেই। আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ওই গুদামে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার, ঠান্ডা পানীয়ের বোতল মজুত করা থাকত। তাই কী ভাবে সেখানে আগুন লাগল, এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অনুমান, গুদামের ভিতরে থাকা কর্মীদের জন্যে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে৷ প্রথমে অনলাইন খাবার সরবরাহ করা সংস্থার গোডাউন আগুন লাগে। সেখান থেকে পাশের ডেকরেটার্সের গোডাউন আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে চোদ্দটা দমকলের গাড়ি নরেন্দ্রপুরে পৌঁছয়। কিন্তু জায়গা ছোট হওয়ার কারণে দমকলকর্মীদের আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। বিধ্বংসী আগুনে গোডাউনের টিনের ছাউনির একাংশ ভেঙে পড়ে পড়ে। দেওয়ালে ফাটল ধরে। প্রায় ১১ ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

হাইকোর্টের নির্দেশে রামপুরহাট আদালত থেকে বগটুই মামলা সরল

দলীয় পতাকার জামা গায়ে ৬০ কিমি পথ পাড়ি, মমতার টানে খানাকুল থেকে হেঁটে সিঙ্গুরে তাইবুল

মমতার হাত শক্ত করতে হবে, কলকাতায় এসে বললেন ওমর আবদুল্লা

তিনজনের গলার নলি কাটা, একজনের দেহ ঝুলছে সিলিংয়ে, মুর্শিদাবাদে হাড়হিম ঘটনা

‘‌কৃষি ও শিল্প চলবে, কারও জমি কেড়ে নয়’‌, সিঙ্গুর থেকে শিল্পের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে দেব না, সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ