চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বন্যপ্রাণ বাঁচাতে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল জুড়ে রেলপথে কার্যকর হচ্ছে IDS

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের(North Bengal) বুকে NJP বা New Jalpaiguri থেকে শিলিগুড়ি জংশন, মাল জংশন হয়ে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত মিটার গেজের লাইনকে যখন ব্রড গেজে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হয়েছিল, তখনই পরিবেশবিদ থেকে বন্যপ্রানী প্রেমী এবং অরণ্য বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত বন্যপ্রানীদের ক্ষেত্রে চরম প্রাণঘাতী হতে পারে। সেই দাবি যে ভুল ছিল না তা পরবর্তীকালে এই লাইনেই একাধিকবার অসংখ্য হাতি মৃত্যুর ঘটনায় তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় ওই সব হাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর জেরে বার বার রেলকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। শেষে তাঁরা নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হন, এই মৃত্যু ঠেকাতে। সেই সূত্রেই রেললাইনের পাশে অপটিকাল ফাইবার নিয়ন্ত্রিত Intrusion Detection System বা IDS বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রেল বোর্ডের তরফে। এবার সেই ব্যবস্থাই কার্যকর হতে চলেছে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা যাবতীয় রেলপথে।

আরও পড়ুন, সুপ্রিম নির্দেশ মেনে OBC মামলায় হলফনামা দাখিল রাজ্যের

কী এই Intrusion Detection System বা IDS? অপটিকাল ফাইবার নিয়ন্ত্রিত এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বন্য প্রানীদের সঙ্গে ট্রেনের সঙ্ঘাত(Train Clash with Wild Animals) রুখে দেবে। বন্য প্রাণীরা রেল লাইনের কাছাকাছি চলে এলেই কাছাকাছি থাকা যে কোনও স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে সঙ্কেত মাধ্যম সেই খবর পৌঁছে যাবে। এই ব্যবস্থায় রেলপথের দু’দিকে অন্তত ২০ মিটার দূর পর্যন্ত বন্য প্রাণীরা চলে এলে সতর্কতার সঙ্কেত পাঠানো শুরু হবে। রেলপথে বন্য প্রাণীদের উঠে আসার তথ্য পেতে নানা Censor ব্যবস্থা রয়েছে। এই ব্যবস্থার নানা Model-ও রয়েছে। রেলপথের আশপাশে বন্য প্রাণীর উপস্থিতি টের পেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। রাতে রেলপথের কাছাকাছি বিশেষত হাতি চলে এলে সেই ব্যবস্থায় তা ধরা পড়ে। তবে সেই সব ব্যবস্থার মধ্যে Intrusion Detection System সব থেকে বেশি কার্যকর হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে। কেননা বিন্নাগুড়ি-ক্যারণ শাখায় এই ব্যবস্থা কার্যকর করে পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই পরীক্ষা সফলও হয়েছে। তারপরেই শিলিগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত ১৬৮ কিলোমিটার রেলপথে অপটিক্যাল ফাইবারের Intrusion Detection System বা IDS বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন, সঞ্জয়ের হয়ে আইনি লড়াই লড়বেন আইনজীবী কবিতা সরকার

জঙ্গলের মধ্যে থাকা বন্যপ্রানীদের ট্রেনের ধাক্কা থেকে বাঁচাতে বন দফতরের তরফে Intrusion Detection System বা IDS বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রেল মন্ত্রককে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে খবর, বন দফতরের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে রেল বোর্ড। তারপরেই শিলিগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত ১৬৮ কিলোমিটার রেলপথে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে চলেছে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে হাতি-সহ অন্য প্রাণীর ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু রোখা সম্ভব হবে। বন্য প্রাণীদের মৃত্যু এড়াতে রেলপথে স্বয়ংক্রিয় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উত্তরবঙ্গের পুরো রেলপথে বসানোর প্রস্তাব রয়েছে। এখন উত্তরবঙ্গের রেলপথের মধ্যে মাত্র ২৮-৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এই ব্যবস্থা রয়েছে। উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের রেলপথে ট্রেনের ধাক্কায় সাম্প্রতিক অতীতে ৭০টিরও বেশি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা ঘটেছে রাতে। সব ঘটনাই ঘটেছে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মাল জংশন হয়ে আলিপুরদুয়ার জংশন রুটে। হাতির মৃত্যু ঠেকাতে ওই রুটে ট্রেনের গতিও কমানো হয়েছে৷ তার পরেও ট্রেনের ধাক্কায় বন্য প্রাণীর মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ট্রেনের ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা হাতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের আগে নদিয়ার ভোটার তালিকায় পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য রদবদল

নিখোঁজ অভিজিৎ গাঙ্গুলী,ভোট প্রচারে নেই সাংসদ,পড়ল একাধিক নিখোঁজ পোষ্টার

বিধানসভা নির্বাচনে মদের দোকান খোলা–বন্ধের নিয়মে ব্যাপক রদবদল, চাপ সুরাপ্রেমীদের

ফরাক্কায় কংগ্রেস কর্মীর বাড়ির ছাদে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ, ভেঙে পড়ল পাঁচিল

ব্রাত্য লাল, তুমুল রেষারেষি চলছে গেরুয়া–সবুজের মধ্যে, বড়বাজারে তুঙ্গে চর্চা

‘‌বাংলার মানুষ–তৃণমূলের বন্ধন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি’‌, বার্তা ঘাসফুলের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ