চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

শীতলকুচি দখল রাখতে মরিয়া বিজেপি, পুনরুদ্ধারে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুথস্তরের সংগঠন কার শক্তিশালী?‌ এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ একদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন, তাঁরা এবার ক্ষমতায় আসবেই। তাই তাঁরা আত্মতুষ্টিতে রয়েছে। অপরদিকে বুথস্তর সংগঠন শক্তিশালী করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষিত হয়নি। কিন্তু ভোটের উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে চায়ের দোকান, আড্ডার ঠেকে। বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলিতে সকাল, সন্ধ্যা নিয়ম করে ভোট–চর্চার আসর বসছে। সেখানে বসলেই কানে আসবে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। আলোচকদের কেউ কেউ আবার ভোটের ফল পর্যন্ত ঘোষণা করে দিচ্ছেন। এই আবহে সবার নজর শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রে।

রাজ্য–রাজনীতিতে চর্চিত বিধানসভা কেন্দ্র শীতলকুচি। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র শীতলকুচি। কোচবিহার লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এই নির্বাচনী এলাকা সমগ্র শীতলকুচি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক এবং মাথাভাঙ্গা ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত—বৈরাগিরহাট, গোপালপুর, জোরপাটিকি, কেদারহাট, কুরসামারি, নয়ারহাট এবং শিকারপুর। এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ আসন যেখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই। এই আসনটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে এবং তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত ১১ বার ভোটগ্রহণ হয়। প্রথম নির্বাচনে ফরওয়ার্ড ব্লকের বিজয় কুমার রায় জয়ী হন। তবে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত শীতলকুচি আসনটি রাজ্য–রাজনীতিতে চর্চিত ছিল না।

এই বিধানসভা কেন্দ্রটি সিপিএম টানা সাতবার জয়লাভ করে। যার মধ্যে ৬ বার সুধীর প্রামাণিক প্রার্থী ছিলেন। ২০১১ সালে বামপন্থীদের আধিপত্য ভেঙে যায় যখন তৃণমূল কংগ্রেস সিপিএমকে ২৫৭ ভোটের সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করে দেয়। হিতেন বর্মণ ওই নির্বাচনে বিশ্বনাথ প্রামাণিককে পরাজিত করেন। হিতেন বর্মণ ২০১৬ সালে সিপিএমের নমদীপ্তি অধিকারীকে ১৫,৪৮৩ ভোটে পরাজিত করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। তবে ২০২১ সালে এখানের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী বরেনচন্দ্র বর্মন ভোট পান—১২৪৯৫৫। আর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায় ১০৭১৪০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার থেকে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। যা একটা বড় ফ্যাক্টর।

এবারের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শীতলকুচি কেন্দ্রে জোরদার লড়াই হবে সেটা বোঝা যাচ্ছে। এখানেই একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেটা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর থেকেই রাজ্য–রাজনীতিতে চর্চিত নাম হয়ে ওঠে শীতলকুচি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শীতলকুচির নথিভুক্ত ভোটার ছিল ২৮৫,২৬০ জন, যা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বেড়ে ৩০৪,৬০৯ জন দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৬১,৩৪৮ জন। এবারের এসআইআর পর্বে এখানের মানুষজনকে চরম হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। সুতরাং এই ঘটনার একটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

চারজন বাউন্সারকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারে নামলেন বিজেপি প্রার্থী, মহারাষ্ট্র থেকে বাংলায় কেন?‌

‘১০ হাজার ভোট ডাউন দেব’, কার্যালয়ে বসেই দলীয় প্রার্থীকে হারানোর ছক তৃণমূল নেতার

‘কলকাতা বস্তির শহর’, তিলোত্তমাকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য শাহের

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

মালদার তিনটি ডিসি আর সি সেন্টারে ভোট কর্মীদের চরম ব্যস্ততা

হুডখোলা গাড়িত চেপে ভোটপ্রচারে শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ