দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বিজেপিকে পিছনে ফেলে বিরোধী পরিসরে ফিরছে বামেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিরোধী পরিসরের অভিমুখ বদল। অন্তত কলকাতার পুরভোট সেটাই বলছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির শ্লোগান তুলেছিল ‘আবকে বার ২০০ পার’। কিন্তু সেই ভোটে পদ্মশিবিরের দৌড় থেমেছিল ৭৭ আসন পেয়েই। কার্যত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও তাঁরা ছুঁতে পারেনি। কলকাতার পুরভোটে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দলীয় প্রার্থীদের সামনে অন্তত ১০টি আসন জেতার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবারেও দেখা যাচ্ছে সেই লক্ষ্যমাত্রারও অর্ধেক ছুঁতে পারছে না বিজেপি। তাঁদের দৌড় থেমে যাচ্ছে মাত্র ৩টি আসন পেয়েই। আর এই জায়গাতেই বিরোধী পরিসরের অভিমুখ পরিবর্তনের ছবি উঠে আসছে। কেননা বিজেপিকে পিছনে ফেলে উঠে আসছে বামেরা। শুধু ভোট প্রাপ্তির শতকরা হিসাবেই নয়, আসন প্রাপ্তির হিসাবেও বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে বামেরা। যা কার্যত বলে দিচ্ছে বিজেপি রাজ্য রাজনীতিতেও এবার বিরোধী দলের আসন ধরে রাখতে অক্ষম হিসাবে এগিয়ে চলেছে। 

মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা পুরনির্বাচনের গণনা যতই এগিয়ে ততই বিরোধী পরিসরে জমি খুইয়েছে বিজেপি। ২০১৫ সালে বিজেপি কলকাতার পুরনির্বাচনে জিতেছিল ৭টি আসন। সেখানে বামেরা পেয়েছিল ১৫টি আসন। পুরনিগমের বিরোধী আসনে ছিল বামেরাই। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির এ রাজ্য থেকে ১৮টি আসন প্রাপ্তির ঘটনা বলে দিয়েছিল বামের ভোট রামের ঝুলিতে গিয়েই কপাল খুলেছে পদ্মশিবিরের। সেই জায়গায় কপাল পুড়েছিল বামেদের। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি আসনেও জয়ের মুখ দেখেনি তাঁরা। কার্যত সেটা ছিল অশনিসঙ্কেত। হয়তো সেই ফলাফলেই লুকিয়ে ছিল একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য বিধানসভা থেকে বাম শূন্য হওয়ার সম্ভাবনার তত্ত্ব। বাস্তবেও সেটাই হয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী পরিসরের সবটাই দখল করে নেয় বিজেপি। শুধু ৭৭টি আসন জয়ই নয়, ভোট প্রাপ্তি ও আসনগত ভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকার নিরিখেও বিজেপি বামেদের যোজন কদম দূরে ফেলে এগিয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু সেই ছবিটাই ফের বদলে যেতে শুরু করে রাজ্যের ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সময় থেকে। অর্থাৎ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ৬ মাসের মধ্যেই বাংলার বিরোধী পরিসরে আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে দিয়েছিল সেই সময় থেকেই। ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৩টিতে সেই সময় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল বামেরা। আর তখন থেকেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল তালে কী এবার রামের ঝুলি থেকে ফের ভোট ফিরে পেতে শুরু করে দিয়েছে বামেরা। কলকাতা পুরনির্বাচন কিন্তু সেই সম্ভাবনাকেই শিলমোহর দিয়ে দিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা পুরনির্বাচনের গণনা যতই এগিয়েছে ততই বিজেপি অপেক্ষা বামেরা এগিয়ে গিয়েছে দ্বিতীয় স্থানের দখলের লড়াইয়ে। তৃণমূলের সঙ্গে কিবা আসন কিবা ভোট প্রাপ্তির শতাংশের বিচারে বিরোধীরা বহু যোজন পিছিয়ে। কিন্তু বিজেপির ঘাড়ে বামেরা যেভাবে নিশ্বাস ছাড়ছে তাতে এটা পরিষ্কার এই নির্বাচনে বিরোধী পরিসরের অনেকটাই ফের নিজেদের জমি ফেরাতে সক্ষম হচ্ছে বামেরা। এটা সত্যি বামেরা বামেদের অপেক্ষা বেশি আসনে জিততে চলেছে। কিন্তু ভোটপ্রাপ্তির দিক থেকে বামেরা পিছনে ফেলেছে বিজেপিকে। বেম্রা ১০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছে। সেখানে বিজেপির প্রাপ্তি মাত্র ৮ শতাংশ ভোট। শহরের ১৬টি বোরোর মধ্যে সব কটিতেই দেখা যাচ্ছে ভোট প্রাপ্তির শতাংশের বিচারে বিজেপি অপেক্ষা প্রধান বিরোধী হিসাবে উঠে এসেছে বামেরা। আর সেটাই বলে দিচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে বিরোধী পরিসরে আবারও ফিরছে বামেরা, জমি খোয়াচ্ছে বিজেপি। দিন শেষে দেখা যাচ্ছে কলকাতার পুরনির্বাচনে ৬৬টি আসনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। সেখানে বিজেপি ৪৭টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। যদিও আসন প্রাপ্তির দিক থেকে বামেরা ২টি আসনে জিতলেও বিজেপি জিতেছে ৩টি আসনে। কিন্তু ভোট প্রাপ্তির হার ও দ্বিতীয় স্থান দখলের নিরিখে বিজেপিকে পিছনে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকেই এবারে বড় জয় হিসাবে দেখছেন আলিমুদ্দিনের কর্তারা। 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘‌নাগরিকের অধিকার হরণ করা যায় না’‌, মোটরবাইক বন্ধে কমিশনকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

শহরে বসেই বাংলার ভোটে নজরদারি শাহের, আচমকাই হাজির সল্টলেকের ‘ওয়ার রুম’-এ

বাইকের পর গাড়ি ব্যবহারেও শুরু কড়াকড়ি, কারা পাবেন ছাড়? জেনে নিন…

চার ঘণ্টায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে জমা পড়ল ২৬০ অভিযোগ, নজর তৃণমূলের

জায়গায়-জায়গায় EVM খারাপ, নওদায় বোমাবাজি, কী বার্তা CEO মনোজ আগরওয়ালের?

‘আগে ভোট, তারপর জলপান,’ বার্তা শাহের! মহিলা ও যুবদের বেশি করে ভোট দেওয়ার আর্জি মোদির

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ