এই মুহূর্তে

এবার পুজো কমিটিতেও ব্রাত্য পার্থ, ইডির নজরে ৬ পুজো কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি: দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মন্ত্রিসভা থেকেও তাঁকে সরিয়ে দিয়েছেন। এবার তাঁর নিজের এলাকার দুর্গাপুজো কমিটিগুলিও তাঁকে সরিয়ে দিল পুজো কমিটির মাথা থেকে। তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়(Partha Chattopadhay)। স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ ঘিরে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে সেই ঘটনাতেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে শুধু যে নগদ ৫০ কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে তাই নয়, দুইজনের নামে থাকা বিপুল সম্পত্তির সন্ধানও পেয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। এই অবস্থায় কলকাতার যে সব পুজো কমিটির মাথায় পার্থ ছিলেন সেই সব পুজো কমিটির তরফে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই সব পুজো কমিটির মাথা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। এই ঘটনা সব থেকে বেশি চোখে পড়ছে বেহালা(Behala), ঠাকুরপুকুর(Thakurpukur) ও নাকতলা(Naktala) এলাকায়। 

জানা গিয়েছে, বেহালা থেকে ঠাকুরপুকুর মায় নাকতলা এলাকাতেও প্রায় ২০০টি ছোট-বড় পুজো(Kolkata Durgapuja) কমিটির চেয়ারম্যান বা সভাপতির পদে থাকতেন পার্থ। কিন্তু এখন তিনি ইডির হেফাজতে। খুব শীঘ্র যে ছাড়া পেয়ে যাবেন এমনটাও মনে করছেন না কেউ। আর ভবিষ্যতে ছাড়া পেলেও তাঁর আগেকার ভাবমূর্তি যে আর কোনও ভাবেই ফিরবে না সেটা সবাই ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছেন। তিনি টাকাপয়সা সংক্রান্ত দুর্নীতিতে জড়িত কিনা সেটা এখনও প্রমাণসাপেক্ষ। কিন্তু নিজের হাঁটুর বয়সী মেয়ে অর্পিতার সঙ্গে যে তিনি বিশেষ সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সেটা নিয়ে আর কারও কোনও সন্দেহ নেই। কার্যত তাঁর এই চারিত্রিক অধঃপতনই এখন সবার কাছে সব থেকে চর্চার বিষয়, নিন্দিত বিষয়ও। কেননা তাঁরা একে অপরকে বিয়ে করেননি। বিয়ে করলে আজ তাঁদের ঘিরে এই রকম চর্চা হত না। এই অবস্থায় পুজো কমিটিগুলি এই নিন্দার শরিক হতে চায় না বলেই পার্থকে তাঁদের কমিটির মাথা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আবার অনেকে এটাও মনে করছেন পার্থ যে সব পুজোর মাথা ছিলেন তাঁর মধ্যে কিছু পুজোতে দুর্নীতির টাকা ঢুকেছে। ইডির(ED) চোখে তা পড়ে যাওয়ার আগেই পার্থকে সরিয়ে দিলেন তাঁরা।

বেহালা, ঠাকুরপুকুর ও নাকতলা এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ পুজো কমিটির বিভিন্ন শীর্ষপদে ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কোনও পুজো কমিটির সভাপতি পদে ছিলেন তিনি, কোথাও চেয়ারম্যান, কোথাও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, কোথাও বা প্রধান পরামর্শদাতা। আবার কোথাও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও রাখা হত বেহালা পশ্চিমের পাঁচ বারের বিধায়ককে। কিন্তু রাতারাতি সেই ছবিটাই বদলে গিয়েছে। এইসব পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের দাবি, যে ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তাতে আর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পুজো কমিটিতে রাখা সম্ভব হচ্ছে ন তাঁদের পক্ষে। তাঁকে না সরালে নিন্দার কাদা তাঁদের গায়ে তো লাগবেই, এমনও হতে পারে যে ইডির নজরে তাঁদের পুজোর আয়ব্যয়ের হিসাব চলে আসবে। এমনিতেই ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে বেহালা এলাকার ৩টি পুজো, ঠাকুরপুকুর এলাকার ১টি পুজো এবং নাকতলা এলাকার ২টি পুজো কমিটির দিকে তাঁদের নজর রয়েছে। কেননা তাঁরা জানতে পেরেছেন ওই ৬টি পুজোয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে পুজোয় মোটা অঙ্কের টাকা ঢুকতো। কিন্তু সেই টাকা পুজোয় খরচ হত না। তার একটা অংশ ওই ৬টি পুজোর কিছু কর্মকর্তাদের পকেটে ঢুকেছে এবং বাকি টাকা কার্যত উধাও হয়েছে। সেই টাকা কোথায় গিয়েছে, কার কাছে গিয়েছে সেটাই এখন খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকেরা। সূত্রের দাবি এই ৬টি ক্লাবের পুজোর মাধ্যমে প্রায় ১২ কোটি টাকা এদিক ওদিক হয়েছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বৃহস্পতি থেকেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ৬ জেলায় সতর্কতা জারি

ম্যান্ডারিন ভাষায় প্রচার তৃণমূল কংগ্রেসের, চিনা ভোট টানতেই অভিনব পদক্ষেপ

অভিষেক–রুজিরার গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ!‌ নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ তৃণমূলের

বিজেপির আসন সংখ্যা নিয়ে দোটানায় গেরুয়া শিবির, পদ্ম দিঘিতে প্রশ্নবাণে গুঞ্জন চরমে

নববর্ষের সকালে মাছ নিয়ে গড়িয়ায় প্রচার অরূপ বিশ্বাসের, বিঁধলেন বিজেপিকে

নববর্ষে কীর্তনের তালে দিলীপের তুমুল নাচ, মনীষীদের ছবি হাতে মিছিল শুভেন্দুর

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ