চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মেরেছিলেন বিজেপির অনন্ত, নিগৃহীত সন্ন্যাসীকে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন মমতা

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিজেপি(BJP) থেকে থেকেই বেশ বড় মুখে গর্ব করে বলে তাঁরাই নাকি হিন্দু ধর্মের রক্ষক, অভিভাবক। অথচ তাঁদের দলেরই সাংসদ যখন এক হিন্দু সন্ন্যাসীকে মারধর করে তখন সেই সাংসদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা তো দূরের কথা, দলের রাজ্য ও কেন্দ্র স্তরের একটা নেতাও মুখ ফুটে কোনও প্রতিবাদ করেন না। কার্যত পদ্ম শিবির এই প্রসঙ্গে বুঝিয়েই দেয় যে, হিন্দু ধর্মের ধারক বাহক অভিভাবক একমাত্র তাঁরাই। তাই তাঁদের হাতেই আছে হিন্দু ধর্মের লোকেদের শাসন করার। আর সেই শাসনের কদর্য নমুনাই দেখেছে তামাম বঙ্গবাসী। দিন তিনেক আগে উত্তরবঙ্গের(North Bengal) কোচবিহার জেলার(Coachbehar District) সিতাইয়ে(Sitai) রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সেবাশ্রমে(Ramkrishna Vivekananda Sevasram) গিয়ে সেখানকার সন্ন্যাসী বিজ্ঞদানন্দ তীর্থনাথ মহারাজকে মারধর করেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ(Ananta Maharaj)। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপি তরফেই হোক কী বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফেই হোক, কেউ একটাও প্রতিবাদ করেননি। কোনও পদক্ষেপই করেননি তাঁরা। কিন্তু লক্ষ্মীপুজোর দিন সেই নিগৃহীত সন্ন্যাসীর পাশে দাঁড়ালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)।

আরও পড়ুন, ভিড়ে ঠাসা মণ্ডপ থেকে উধাও লক্ষ্মী ফিরলেন না কোজাগরীতেও, মন খারাপ করবাগানের

অনন্ত স্বঘোষিত মহারাজ। থাকেনও রাজার হালে। সেখানে পাইক বরকন্দাজ থেকে লাঠিয়াল সবই হাজির থাকে। তাঁর অনুমতি ছাড়া সেই রাজপ্রাসাদে মাছিও গলতে পারে না। তিনি রাজবংশীদের মাথা। সেই রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোট পেতে বিজেপি তাঁকে দলের রাজ্যসভার সাংসদও করেছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় তিনি সিতাইয়ের রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সেবাশ্রমে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলাকারই দুই বাসিন্দা। তখন আশ্রমে ছিলেন বিজ্ঞদানন্দ তীর্থনাথ মহারাজ। সন্ন্যাসীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে মতবিরোধ হয় অনন্তের। এই আবহে কথা কাটাকাটি থেকে সেই সন্ন্যাসীকে গালাগালি শুরু করেন অনন্ত। এরপরই নাকি রাগের মাথায় সন্ন্যাসীর গায়ে হাত তোলেন অনন্ত মহারাজ। সেই ঘটনা জানাজানাই হতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে অনন্তকে গ্রেফতারির দাবি জানায়। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদে বুঝিয়ে শুনিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন সেই আশ্রমেই গিয়েছিলেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী তথা কোচবিহার জেলারই দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ(Udayan Guha)। তিনিই নিগৃহীত সন্ন্যাসীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলিয়ে দেন। সন্ন্যাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।  

আরও পড়ুন, ‘ভোটের কার্নিভালে আসুন, জনতার দরবারে বিচার হোক’, চ্যালেঞ্জ ডাক কুণালের

এদিন ফোনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার ওপর এরকম হয়েছে, আমার এত খারাপ লেগেছে। আমি টিভিতে সেদিন দেখছিলাম। উদয়নকে সেদিনই বলেছিলাম, তুমি যাও।’ এর পর সন্ন্যাসী বলেন, ‘আপনার প্রেরিত ভিক্ষা আমি পেয়েছি মা।’ মমতা বলেন, ‘এটা ভিক্ষা বলবেন না, আমাদের প্রণাম।’ সন্ন্যাসী বলেন, ‘কাল প্রসাদ তৈরি করে সকল গ্রামবাসীকে দেব।’ সব শেষে মমতা বলেন, ‘আপনি আপনার প্রণাম নেবেন। ভালো থাকবেন। আমি কখনও গেলে, আপনার সঙ্গে অবশ্যই দেখা করব। কোনও সমস্যা হলে উদয়ন তো আছে, ওকে জানাবেন।’ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে খুব কথা হলেও বেশ আপ্লুত ‘আক্রান্ত’ সন্ন্যাসী। এলাকার দাপুটে সাংসদ তাঁকে মারধর করে গেলেও যখন বিজেপির কোনও নেতাই প্রকাধ্যে তাঁর পাশে দাঁড়াননি তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফোন করে তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন, এ বড় কম প্রাপ্তি নয় সন্ন্যাসীর কাছে। তবে এই ঘটনার পরে বিজেপির ওপর চাপ আরও বেড়ে গেল। কেননা সামনেই সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী যে সুনামি উঠবে সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে গিয়েছেন পদ্মের ভোট ম্যানেজাররা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম-সহ ৬৬ আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

‘পদ্ম পাঁকে ফোটে, বাংলার মাটিতে ফুটবে না’, পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে হুঙ্কার সায়নীর

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, দাগিদের প্রার্থী করায় তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ