চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মমতার বার্তায় বিশ্বাস, তৃণমূলের পাশে ঢেউচা-পাঁচামি

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: বীরভূম জেলায়(Birbhum District) সিউড়ি সদর মহকুমার মধ্যে রয়েছে মহম্মদবাজার ব্লকটি(Muhammad Bazaar Block)। সেই ব্লকে রয়েছে ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। ২০১১ সালের আগে মহম্মদবাজার বিধানসভা কেন্দ্রও ছিল। কিন্তু সেই কেন্দ্রের অবলুপ্তি ঘটিয়ে সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়। পরিবর্তে মহম্মদবাজার ব্লকের মধ্যে থাকা ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা যায় সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে, বাকি ৬টি যায় রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। কিন্তু সেই দুই বিধানসভা কেন্দ্রই রয়েছে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে। আবার এই মহম্মদবাজার ব্লকের মধ্যেই আছে ঢেউচা-পাঁচামি কয়লাখনি এলাকা। এবারের লোকসভা নির্বাচনে সারা রাজ্যের দৃষ্টি ছিল এই ঢেউচা-পাঁচামির দিকে। কেননা সকলের এটাই দেখার বিষয় ছিল যে, এই এলাকায় কয়লা খনি শিল্প গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) যে সব সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন তাতে আমজনতা কতখানি সায় দেয়। ভোট শেষে দেখা গেল, ঢেউচা-পাঁচামি তো বটেই, গোটা মহম্মদবাজার ব্লক জুড়ে বড় ভোটের লিড পেয়েছে তৃণমূল(TMC)। অর্থাৎ মমতা ও তৃণমূলের পাশেই থাকছে ঢেউচা-পাঁচামি(Deucha Pnachami)। 

লোকসভা নির্বাচনের আগে গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে মহম্মদবাজার ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূলের দখলে গেলেও ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত গিয়েছিল বিজেপির দখলে। সেই ৩ গ্রাম পঞ্চায়েত হল – কাপিষ্ঠা, রামপুর ও আঙারগড়িয়া। একই সঙ্গে রাজ্যে পরিবর্তনের পরে এই প্রথম বীরভূমে ভোট হল অনুব্রত মণ্ডলকে ছাড়াই। তাই ভোটের আগে থেকেই একটা চাপ ছিল জোড়াফুল শিবিরের জেলা ও মহম্মদবাজার ব্লক নেতৃত্বের কাছে যে, ভোট বৈতরনী তাঁরা ঠিক ভাবে পার হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে। এখন দেখা যাচ্ছে, মহম্মহবাজার ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা টলি অভিনেত্রী শতাব্দী রায় ১২৭০০ ভোটের লিড পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিজেপির দখলে থাকা ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেও অল্প ভোটে হলেও লিড পেয়েছেন শতাব্দী। এই সাফল্যের পিছনে ঢেউচা-পাঁচামি কয়লাখনি প্রকল্প প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে কাজ করছে বলে একবাক্যে স্বীকার করছেন প্রত্যেকে। কেননা প্রকল্প শুরুর আগেই রাজ্য সরকার ১৪২২ জন জমিদাতাকে রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল ও রাজ্য সরকারের নানা দফতরে গ্রুপ ডি পদে চাকরি দিয়েছে। যাদের ১৮ বছর হয়নি, তারা মাসে ১০ হাজার টাকা করে পাচ্ছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমে ভোট প্রচারে এসে এই প্রকল্প নিয়ে বিশাল সম্ভবনার কথা ঘোষণা করে গিয়েছিলেন।

বীরভূমে ভোট প্রচারে এসে মুখ্যমন্ত্রী ঢেউচা-পাঁচামী সহ মহম্মদবাজারবাসী এবং বীরভূম জেলাবাসীকে মনে করিয়ে দেন যে, এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম কয়লাখনি হতে যাচ্ছে বীরভূমের ঢেউচা-পাঁচামি। কমপক্ষে ৩৫ হাজার কোটি টাকা সেখানে বিনিয়োগ হবে। বাংলার ১০০ বছরের বিদ্যুতের জোগান দেবে এই ঢেউচা-পাঁচামি। পাশাপাশি মহম্মদবাজার এলাকায় একটি ইন্টিগ্রেটেড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, বিদ্যুৎ স্টেশনের কথাও বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এরই ফল মিলল ভোটবাক্সে। এলাকার মানুষ যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন, তারই প্রমাণ দিল এবারের ভোটে। সব থেকে বড় কথা ঢেউচা-পাঁচামিকে ঘিরে সারা বীরভূম জুড়ে অন্তত ১ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হতে চলেছে। প্রকল্প শুরুর মুখেই হাজারের বেশি মানুষকে চাকরি পেতে দেখে এখন মহম্মদবাজার ব্লকের সবাই অপেক্ষা করছেন, কবে তাঁদের বাড়ির ছেলেমেয়েরাও চাকরি পাবে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নিখোঁজ অভিজিৎ গাঙ্গুলী,ভোট প্রচারে নেই সাংসদ,পড়ল একাধিক নিখোঁজ পোষ্টার

বিধানসভা নির্বাচনে মদের দোকান খোলা–বন্ধের নিয়মে ব্যাপক রদবদল, চাপ সুরাপ্রেমীদের

ফরাক্কায় কংগ্রেস কর্মীর বাড়ির ছাদে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ, ভেঙে পড়ল পাঁচিল

ব্রাত্য লাল, তুমুল রেষারেষি চলছে গেরুয়া–সবুজের মধ্যে, বড়বাজারে তুঙ্গে চর্চা

‘‌বাংলার মানুষ–তৃণমূলের বন্ধন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি’‌, বার্তা ঘাসফুলের

কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু ও ২ ছেলেকে ইডির তলব, সোনা পাপ্পু যোগে তদন্ত

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ