অনন্ত মহারাজের ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ উত্তরবঙ্গে

নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে বৈঠকের পরেই অনন্ত মহারাজের ঘোষণা পৃথক রাজ্য হচ্ছেই। তারপর থেকেই এখন ভয়, আতঙ্ক, উদ্বেগের ছবি ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গজুড়ে।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ১৯০৫ সালে একবার চেষ্টা করা হয়েছিল বাংলাকে(Bengal) ভেঙে দেওয়ার। সেই চেষ্টা করেছিল বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনে ভীত সন্ত্রস্ত ব্রিটিশ সরকার। সেদিন হাত হাত মিলিয়ে গর্জে উঠেছিল বাঙালি। ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা ভাগ করার ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলেন তাঁরা। প্রবল পরাক্রান্ত ব্রিটিশ সরকার তাতে ভয় পেয়ে ১৯১১ সালে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত শুধু যে প্রত্যাহার করেছিল তাই নয়, তাঁদের ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে স্থানান্তর করেছিল দিল্লিতে। কিন্তু সেই ধর্মের বিভাজন ঘটিয়েই তাঁরা ১৯৪৭ সালে সক্ষম হয় দেশ ভাগ করতে। তখন বাংলাও ভাগ হয়েছিল দুইভাগে। তারই এক ভাগ এখনকার স্বাধীন বাংলাদেশ। আবারও বাংলা ভাগের চক্রান্ত। নেপথ্যে গেরুয়া ব্রিগেড। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি(BJP) সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের(Nishith Pramanick) সঙ্গে বৈঠক শেষেই গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের মুখ্য উপদেষ্টা অনন্ত মহারাজ(Anant Maharaj) জানিয়ে দিয়েছেন, ‘রাজ্য ভাগ হচ্ছেই এবং খুব দ্রুত। আলাদা রাজ্য হচ্ছেই, ১০০ ভাগ হচ্ছে। এখন তা শুধু সময়ের অপেক্ষা।’ আর এই ঘোষণার জেরেই এখন ভয়, আতঙ্ক, উদ্বেগের ছবি ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গজুড়ে(North Bengal)।

বাংলা দখলের ডাক দিয়ে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিজেপি। সেই জয়ের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপির জাতীয় সভাপতি বাংলার বুকে যেমন ডেলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছিলেন তেমনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে চলেছিল ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার কাজ। নির্বাচন কমিশনের কাজও যে খুব নিরপেখহ ছিল এমন কথা মোটেও জোর গলায় বলা যায় না। বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দিতে রীতিমত হুমকি দিয়েছে ভোটারদের। বুথে আসতে বাধা দিয়েছে, বিনা কারণে মারধর করেছে। সর্বোপরি বিনা কারণে গুলি চালিয়ে শীতলকুচিতে নিরীহ ভোটারদের গুলি করে মেরেছে। বাংলার মানুষও প্রত্যাঘাত দিয়েছে। মাত্র ৭৭ আসনেই আটকে দিয়েছেন তাঁরা বিজেপিকে। বাংলার দায়িত্ব তাঁরা বাংলার মেয়ের হাতেই তুলে দিয়েছেন। সেই হারের জ্বালা আজও ভুলতে পারেননি বিজেপির শীর্ষস্তরের কেষ্টুবিষ্টুরা। তারই জেরে এখন বাংলা ভাগের ষড়যন্ত্র। উত্তরবঙ্গকে বাংলা থেকে কেটে আলাদা করার চক্রান্ত।

বঙ্গ বিজেপি সূত্রের খবর, শুধু বাংলা ভাগই নয়, সঙ্গে রয়েছে বিহার ও অসমকেও ভাগ করার নোংরা চক্রান্ত। আর তাতে যে শুধু বিজেপির নেতা, মন্ত্রীরা সামিল তাই নয়, সামিল কেন্দ্রীয় আমলাদের একাংশ এবং সর্বোপরি কামতাপুর প্রোগ্রেসিভ পার্টি, কেএলওর বর্তমান জঙ্গিদের মাথা জীবন সিং, প্রাক্তন জঙ্গিদের নতুন সংগঠন ‘বাহাদুর কৃষক মঞ্চ’, পাহাড়ের কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের মুখ্য উপদেষ্টা অনন্ত মহারাজ। এরাই এখন সর্বাগ্রে বাংলা ভাগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়অ্যা ও নানা সভা-সমিতির মাধ্যমে নানা খবর ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। এদের দাবি, আগামী এপ্রিলেই দু’টুকরো হয়ে যাবে বাংলা। উত্তরবঙ্গের আট জেলা, বিহারের কিষানগঞ্জ এবং পূর্ণিয়া এবং অসমের ধুবড়ি জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত রাজ্য গঠন করা হবে। তার নাম নাকি দেওয়া হবে সীমান্ত প্রদেশ, হিমাঞ্চল বা হিমালয় প্রদেশ, এই ৩টির মধ্যে কোনও ১টির নামে। বিষয়টি নাকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকদের একাংশের ‘এজেন্ডা’। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ঘনঘন উত্তরবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। যাচ্ছেন অসম এবং বিহারেও। চলছে জনমত সমীক্ষা, আর্থ-সামাজিক বিশ্লেষণ। পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় কানাঘুষোর পাশাপাশি সোশ্যাল মাধ্যমেও এই প্রচার চলছে। আর তার জেরেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে উত্তরবঙ্গজুড়ে।

শেষ রক্ষা হল না, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মা-বাবার সমাধিস্থলে চারা রোপণ করলেন মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো

অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩০০০ টাকা পেয়ে হতবাক গ্রামীণ চিকিৎসক

তৃণমূলের ডামাডোলে পোয়াবারো কংগ্রেসের, মেখলিগঞ্জ পুরসভার দখল নিল

তৃণমূল বিধায়ককে দেখে ‘চোর-চোর’ শ্লোগান, পুলিশি পাহারায় এলাকা ছেড়ে পালালেন

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের নিজস্ব ক্লাব ঘর থেকে উদ্ধার সরকারি কৃষি সামগ্রী, ত্রিপল, কম্বল

বিহারে বিজেপির হয়ে বিধান পরিষদের ভোটে লড়ছেন ভোজপুরি নায়ক পবন সিংহ

বিদ্রোহীদের কাছে মাথা নোয়ালেন না মমতা, ফের স্বপদে বহাল অভিষেক

বিরোধী দলনেতা নিয়োগ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল

দিল্লিকে চাপে রাখতে এবার ‘ভারত-শত্রু’ তুরস্কের সঙ্গে সামরিক চুক্তি তারেকের

কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ইস্তফা ফিরহাদের

স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতারের পর সুরুচি সংঘে ভাঙচুর, মিলল খাট-বিছানা

ভোটের আগে তৈরি হয় রাস্তা ,ফল প্রকাশের পরেই বেরিয়ে পড়েছে কঙ্কালসার চেহারা

‘ব্রিটেনের রাজনীতিতে নাক গলাবেন না’, মাস্ককে হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের