আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলদের নিয়ে জোট, প্রশ্ন বিজেপির অন্দরেই

নিজস্ব প্রতিনিধি: একদিকে ২৬। অন্যদিকে ৩৮। খালি চোখে দেখলে মনে হতেই পারে পাল্লা ভারী ৩৮’র। কিন্তু তলে গিয়ে খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, পাল্লা ভারী ২৬’রই। আর তাই প্রশ্ন উঠেছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই, সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলের সঙ্গে জোট গড়ে কী লাভ হবে? এদের সঙ্গে জোট করে কত শতাংশ বাড়তি ভোট পাওয়া যাবে? এরা নিজেরা ডুবে বসে আছে বা ডুবতে বসেছে, এরা এখন নিজেরা বাঁচার জন্য খড়কুটোর মতো জোটকে আঁকড়ে ধরেছে, এরা কী অ্যাডভান্টেজ দেবে? এদের হাত ধরে বা এদের জোটে টেনে এনে কী আদৌ ২৪’র ভোট বৈতরণী পার হওয়া যাবে? এত শত প্রশ্ন উঠেছে গেরুয়ার অন্দরে। প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির অন্দরে। প্রশ্ন উঠেছে সঙ্ঘের অন্দরেও। নজরে বিজেপির নেতৃত্বাধীন National Democratic Alliance বা NDA।

২৪’র ভোটে বিজেপি তথা মোদি বাহিনীকে টক্কর দিতে জন্ম নেওয়া জোট INDIA-তে আছে মোট ২৬টি দল। তাঁদের মধ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় আছে ৪টি রাজ্যে। কর্ণাটক, রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে। প্রতিটিতেই কংগ্রেস(INC) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আছে। এই ৪টি রাজ্যের মোট লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৮। জোটে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস(TMC) ক্ষমতায় আছে বাংলায়। সেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা ৪২। জোটের অপর শরিক ডিএমকে, ক্ষমতায় আছে তামিলনাড়ুতে। সেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা ৩৯। জোটের আরেক শরিক আপ, ক্ষমতায় আছে দিল্লি ও পঞ্জাবে। দুই রাজ্যে এবং একটি কেন্দ্রশাসিত এলাকা চন্ডিগড়কে নিয়ে মোট লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ২১। জোটের অপর দুই শরিক সংযুক্ত জনতা দল ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল ক্ষমতায় আছে বিহারে। সেখানে লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ৪০। হেমন্ত সোরেনের দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চাও এই জোটের শরিক। তাঁদের রাজ্যে আসন সংখ্যা ১৪। সিপিআই(এম) ক্ষমতায় আছে কেরলে। তাঁদের রাজ্যে লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ২০। অর্থাৎ এই ৮ দলের হাতে থাকা ১১টি রাজ্যে মোট লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ২৪৪। এর বাইরে যারা ক্ষমতায় নেই, কিন্তু প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে তাঁদের মধ্যে আছে এনসিপি, শিবসেনা(উদ্ভব ঠাকরে), সমাজবাদী পার্টি, এছাড়াও আছে কিছু ছোট দল যাদের হাতে আরও ১৩৪টি আসনের ভাগ্য ঝুলে আছে।

সেই জায়গায় এই জোটকে টক্কর দিতে বিজেপি(BJP) এমন কিছু দলকে শরিক হিসাবে টেনেছে যাদের লোকসভায় কোনও সদস্যই নেই। এমন দলের সংখ্যা ২৫টি। সেই জোটে এমন ৮টি দল আছে যাদের লোকসভায় সদস্য সংখ্যা মাত্র ১জন করে। বাকি ৫টি দলের মধ্যে আপনা দলের সাংসদ আছেন মাত্র ২জন। রামবিলাস পাসোয়ানের দল লোক জনশক্তি পার্টির সাংসদ সংখ্যা মাত্র ৬। এই দলটিরই অপর শাখা রাষ্ট্রীয় লোক জনশক্তি পার্টির সাংসদ সংখ্যা ৭। অর্থাৎ দুই দল মিলে গেলে সাংসদ সংখ্যা হয় ১৩। একনাথ শিন্ডে যিনি শিবসেনা ভেঙে দিয়েছেন, তাঁর হাতে আছে ১২জন সাংসদ। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে বিজেপির পাশে থাকছে মাত্র দুটি দল। এক রামবিলাস পাসোয়ানের মিলিত দল এবং দুই একনাথ শিন্ডের শিবসেনা। কিন্তু প্রাথমিক সমীক্ষা বলছে এই দুই দলই বড় রকমের ধাক্কা খেতে চলেছে নিজ নিজ রাজ্যে আগামী লোকসভা নির্বাচনে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন, বিজেপির হাতে কী থাকলো? যাদের নিজেদের ক্ষমতা নেই আসন বের করার বা তা বাড়াবার, যাদের নিজেদের অস্তিত্ব আজ প্রশ্নের মুখে, যারা নিজেরা বাঁচতে বিজেপিকে আঁকড়ে ধরছে, তাঁদের সঙ্গে জোট গড়ে বিজেপি কী পাবে? এই প্রশ্ন এখন শুধু যে বিজেপির অন্দরে উঠছে তাই নয়, প্রশ্ন উঠেছে সঙ্ঘের অন্দরেও। কেননা সঙ্ঘ এই জোট গঠনে জড়িয়ে নেই। সেটা অমিত শাহ আর যে পি নাড্ডাই করছেন। এই জোট কীভাবে ৮ দলের হাতে থাকা ১১টি রাজ্যের ২৪৪টি আসনে লড়াই করবে সেটারই কোনও ব্যাখা নেই। স্বাভাবিক ভাবে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে পদ্মের অন্দরে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মধ্যপ্রদেশে ৩১ যাত্রী নিয়ে মাঝ নদীতে ডুবল ক্রুজ! মৃত অন্তত ৪, নিখোঁজ অনেকে

শুক্র থেকেই মহারাষ্ট্রের রিকশা-ক্যাব চালকদের মরাঠিতে কথা বলা বাধ্যতামূলক

‘তিনি মাদ্রাজ-এর এপস্টিন’, তামিল সুরকারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গায়িকার

নিরাপত্তা প্রত্যাহার ইস্যুতে পঞ্জাবের আপ সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হরভজন

মিশন পঞ্জাব, মাদক ইস্য়ুতে আম আদমি পার্টিকে জব্দ করতে ব্লু প্রিন্ট তৈরি শাহের

বাবার বিশাল সম্পত্তির অধিকার নিয়ে লড়াই, করিশ্মার সন্তানদের পক্ষে কী রায় দিল্লি হাইকোর্টের?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ