চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘হলদিয়া বন্দর থেকে টাকা কোথায় পাচার হচ্ছে?’, মোদি সরকারকে প্রশ্ন মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি,হলদিয়া: ‘পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া বন্দরে ড্রেজিং করে না। কত টাকা হলদিয়া বন্দর থেকে কোথায় যায় সব তথ্য আমি কিন্তু জানি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছ। এবার আমি তোমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেব।’ মঙ্গলবার হলদিয়ার নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এভাবেই তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে(Nandigram) লোডশেডিং করে কাউন্টিং লুট করেছ। যাদের বসিয়েছিলে, তাদের আমি চিনি। যারা যারা এবার যেখানে দায়িত্বে থাকবে সব নাম ঠিকানা রেখে দিন। ভোটের কাউন্টিং এর পরে নাড়ু পাঠাতে হবে। জগন্নাথের প্যাড়া পাঠাতে হবে তাদেরকে। মাতঙ্গিনী হাজরার নাম বিজেপি উল্টো বলছে। যিনি কিনা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।’ 

তৃণমূল জমানায় হলদিয়ায় শিল্পে কি কি উন্নয়ন হয়েছে তার খতিয়ান তুলে ধরে এদিন মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, ‘হলদিয়ায় অত্যাধুনিক ব্যাটারি তৈরির কারখানা হয়েছে। এই যে কাজ হয়নি, কাজ হয়নি বলেন হলদিয়ায় একাধিক শিল্প হয়েছে। তাজপুর বন্দর হয়ে গেলে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে।  নন্দীগ্রামে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। দিঘা হাসপাতালকেও একটা বড় হাসপাতাল করা হবে। হলদিয়ায় যে মহিলারা কাজ করেন তাদের জন্য ৩৬ টি শয্যা বিশিষ্ট আবাসিক হোটেল তৈরি হয়েছে। নন্দীগ্রামে উন্নয়ন হয়েছে কলেজ থেকে হাসপাতাল থেকে নতুন বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, বাস টার্মিনাস তৈরি হয়েছে। কাঁথিতে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির(P.M. Narendra Modi) দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘আপনি নাকি বলেছিলেন সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ করে টাকা দেবেন সেই টাকা কি দিতে পেরেছেন? এখন বলছেন বেকারদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা দেবেন? যারা মঞ্চে নাটক করেন তারা শিক্ষা নিয়ে নাটক করেন তাদের সম্মান করি। আর রাজনৈতিক মঞ্চে যে বা যারা নাটক করেন তার সমালোচনা করি।’ 

বহিরাগতদের এনে মোদির সভা ভরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘সব মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী বিহার থেকে ট্রেনে করে লোক নিয়ে আসেন। হেলিপ্যাডেও গাড়ি করে ঘোরেন। মিটিংয়ে যারা আসেন তাদেরকে কাউকে ৫০০ টাকা, কাউকে ১০০০ টাকা দেন। যেন ভিক্ষা দিচ্ছেন।’ ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলায় কথা বললে মারধর করা হচ্ছে। বাঙালিদের জন্য মাছ খাওয়া বন্ধ। মাংস খাওয়া বন্ধ। ডিম খাওয়া বন্ধ। আমি একদিন মাছ রান্না করে দেব। এখানে এসে মাছ খাবেন কি? আমি নিজে সারা বাংলা ঘুরেছি। বিজেপি জিতবে দাবি করছে। ছাই জিতবে বাংলায় আবার ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল কংগ্রেস।’

মহিলা সংরক্ষণ বাড়িয়ে লোকসভার আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিলে ভোটাভুটিতে হেরেছে মোদি সরকার। ওই প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা  দিয়ে শ্লেষের সঙ্গে মমতা বলেন, ‘মোদিবাবুর পতন শুরু হয়ে গিয়েছে।’ ভোটের মুখে ইডি-সিবিআই সহ কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘ওরা প্রত্যেকের বাড়িতে-বাড়িতে এনআইএ টিম পাটাচ্ছে। প্রত্যেকের বাড়ি-বাড়িতে গিয়ে সিবিআই হানা দিচ্ছে। ওরা এখানে ইন্ডাস্ট্রি করতে দেয় না। ওরা পহেলগাঁও সামলাতে পারে না। ওরা কাশ্মীর সামলাতে পারে না। ওরা দিল্লি সামলাতে পারে না। তাঁরা স্বপ্ন দেখছে বাংলা দখল করবে। এটাকে বলে হ্যাংলামো। আগে দুয়ারে সরকার করেছিলাম   এবার দুয়ারে স্বাস্থ্য করব। ব্লকে ব্লকে চিকিৎসক আসবেন। আপনাদের সবার চিকিৎসা করবেন।’ কাঁথি, তমলুক-সহ বাংলার সর্বত্র তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে বলে দাবি করে মমতা বলেন, ‘ভোটের দিন একটা করে ভোট দিন এবং আপনার প্রতি যে অত্যাচার করেছে তার বদলা নিন। আপনাদের ৫০ টি ক্যামেরা থাকলে, আমাদেরও সূর্য-গ্রহ-চন্দ্র, সব এক একটি ক্যামেরা থাকবে। বিহার ,উত্তরপ্রদেশের লোক যাতে এখানে এসে ভোট না দিতে পারে তার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসও নজরদারি চালাবে।’  ভোট হয়ে যাওয়ার পর যাতে গণণায শ্যলথ গতি না হয় সে দিকে নজর রাখতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নির্দেশ দেন মমতা।  

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের কাজ করতেই হবে অধ্যাপকদের, জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ

মালদায় নির্বিঘ্নে ভোট করতে ১৭২ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী রাস্তায় নামছে

ভোট না দিলে নাম কাটার আতঙ্ক, চড়া ভাড়া গুনেই কেরল থেকে বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ীরা

বাইকবাহিনীর দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ, সময় বেঁধে দিল কমিশন

রাস্তার পাশে উদ্ধার মহিলার রক্তাক্ত দেহ, খুন নাকি অন্যকিছু?

ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষককে সরিয়ে দিলেন জ্ঞানেশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ