চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সাম্প্রদায়িক হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি তৈরি করে দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপুজোর সময়ে সাম্প্রদায়িক হিংসার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর নতুন করে তৈরি করে দেবে বাংলাদেশ সরকার। দেশজুড়ে অবাধে পুজোমণ্ডপ ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সেই ক্ষতে প্রলেপ লাগাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার জেরে পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। যাদের ঘরবাড়ি পুড়েছে সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে ঘরবাড়ি তৈরি করে দেবে প্রশাসন।’

দুর্গাপুজোর সময়ে কুমিল্লার এক পুজোমণ্ডপে কোরআন শরীফ রাখার ঘটনা ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুজোমণ্ডপের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মন্দিরেও হামলা চালানো হয়। রেহাই পায়নি হিন্দুদের বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। আর ওই ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে মুখ পুড়েছে বাংলাদেশ সরকারের। ভাবমূর্তি অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে। সেই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে শেখ হাসিনা প্রশাসন।

এদিন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামি লিগের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা সত্যিই খুব দুঃখজনক। কারণ মানব ধর্মকে সম্মান করা এটা ইসলামের শিক্ষা। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে, অন্যের ধর্মকে কেউ হেয় করতে পারে না। এটা ইসলাম শিক্ষা দেয় না। নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়। অন্যের ধর্মকে যদি হেয় করা হয় তাহলে নিজের ধর্মকেই অসম্মান করা হয়। এই দেশের মাটিতে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ- সে মুসলমান হোক, খ্রিস্টান হোক, হিন্দু হোক, বৌদ্ধ হোক, সবাই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে। মানুষকে মানুষ হিসেবে আমি দেখি। আমরা বাংলাদেশে একটা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি সেখানে সব ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরেই কিন্তু সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু ধর্ম দেখে না। সব ধর্মের মানুষের রক্ত একাকার হয়ে মিশে গেছে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সব ধর্মের, সব বর্ণের।’

ধর্ম অবমাননার ধুয়ো তুলে আইন হাতে তুলে নিলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও এদিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ধর্ম ব্যবসায়ী ও দাঙ্গাবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই হোক অপরাধীদের বিচার হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে।’

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের দলের নেতা-কর্মীদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এলাকায় এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন শেখ হাসিনা। শান্তি-সম্মেলন, শান্তি-মিছিল, শান্তি-সভা করার উপরে জোর দিতে বলেছেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভিমরুলের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ বৃদ্ধের, তারপর যা হল…

তেলের ভান্ডার শূন্যের পথে, জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশে স্থগিত নির্বাচন

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ