কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গা পূজিতা হন রাজরাজেশ্বরী রূপে

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় মহাসমারোহে দুর্গাপুজো করতেন। তাঁর সময়তেই ধারে-ভারে ও আয়তনে-পরিসরে দুগ্গা পুজোর বহর বেড়েছিল। সর্বসাধারণের মধ্যে দুর্গোৎসবের প্রচলনের নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গে দুর্গাপুজোকে সার্বজনীন করছেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রই। অবশ্য রাজ পরিবারে দুর্গাপুজো তাঁর জন্মের আগে থেকেই হয়ে আসছে। মহারাজা রুদ্র রায় ১৬৬৩ সালে, রাজপরিবারে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন বলে জানা যায়। সিরাজের পতনের পর অর্থাৎ ১৭৫৭ সালের পর থেকে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির(Krishnanagar Rajbari) দুর্গাপুজোর রমরমা শুরু হয়েছিল। রায় পরিবারে মাতৃশক্তির আরাধনা চলে আসছে আজ দীর্ঘদিন, সূত্রপাত হয়েছিল অন্নপূর্ণা পুজোর মধ্য দিয়ে। তারপর একে একে দুর্গাপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন ঘটেছে।রাজবাড়ির দুর্গার প্রচলিত নাম রাজরাজেশ্বরী। এখানে তিনি যুদ্ধের বেশে সজ্জিতা, বর্ম পরিহিতা। ঘোটকাকৃতি সিংহের উপর তিনি অধিষ্ঠান করেন। কী অদ্ভুত! ঘোটকমুখী সিংহ প্রধানত বৈষ্ণব বাড়ির প্রতিমাতে দেখা যায়। কৃষ্ণনগরের রাজবাড়িতে তেমনই সিংহের দেখা মেলে।

কিন্তু দেবী রণং দেহী, যোদ্ধার বেশে। আবার এ বাড়ির দুগ্গা পুজোয় এক সময় ছাগ বলিও হত। শাক্ত, বৈষ্ণব সব মিলে যাচ্ছে…আদপে নদিয়াই এমন এখানে যেমন চৈতন্যর ভক্তিবাদ আছে, তেমনই আগমবাগীশের কালীও আছেন। আবার শিবও। শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব সব মিলেমিশে একাকার।প্রচলিত ডাকের সাজের চেয়ে দেবীর সাজ আলাদা। একে বলা হয় ‘বেদেনি ডাক’। আজও নিয়ম মেনে এখানে মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদে রাজরাজেশ্বরীর হোম জ্বালানো হয়। রাজবাড়ির দুর্গা দালানে দেবী রাজরাজেশ্বরীর ডান পাশে বিশালাকার হোমকুণ্ডে রাজবাড়ির সদস্যদের উপস্থিতিতে আগুন জ্বালানো হয়। ঘি, বেলকাঠ, মধু, কলা, বেলপাতা ইত্যাদি উপাচারে যজ্ঞ হয়। আগুন জ্বলে টানা নবমী পর্যন্ত। তারপর আগুন নেভানো হয় নবমী নিশিতে। গঙ্গা জল, মধু, ঘি, কলা, পানের আহুতি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। আজও পুজোর জন্য গঙ্গা জল আনা হয় নবদ্বীপ থেকে।রাজরাজেশ্বরী পাটে আসীন হন বোধনের সময়ে। ষষ্ঠীর দিন বোধন হয়। নাটমন্দিরের পিছনে বোধনের ঘরে হয় দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা। বেহারাদের কাঁধে চাপিয়ে দেবীকে রাজবাড়ির পঙ্খ অলঙ্কৃত দুর্গাদালানে অধিষ্ঠিত করা হয়।

উল্টোরথের পরদিন পাটপুজোর(Pat Puja) মাধ্যমে শুরু হয় পুজোর প্রস্তুতি। ওই দিন থেকেই প্রতিমা নির্মাণের কাজ আরম্ভ হয়। চিরাচরিত দুর্গা প্রতিমার থেকে রাজরাজেশ্বরীর মূর্তি আলাদা। দেবী দুর্গার সামনের দু’টি হাতই বড়, পিছনের আটটি হাত আকারে অপেক্ষাকৃত ছোট। অর্ধচন্দ্রাকৃতি চালচিত্র থাকে দেবীর পিছনে, তার এক দিকে দশাবতার, অন্য দিকে দশমহাবিদ্যা আঁকা। মধ্যিখানে থাকেন পঞ্চানন শিব।রাজবাড়ির পুজোর অন্যতম সেরা আকর্ষণ সন্ধীপুজো, আজও ওই সময়টাতে ভিড় করেন মানুষ। এক সময় কামান দেগে সন্ধিপুজো শুরু হত। এখন আর তা হয় না। ১০৮টি পদ্মফুলে এবং ১০৮টি প্রজ্জ্বলিত প্রদীপে সন্ধীপুজো হয়। পশু বলি এখন বন্ধ, তবে বলিদানের রীতি আজও পালন করা হয়। আখ ও চালকুমড়োর বলি হয়। এছাড়াও শত্রুবলির রেওয়াজ রয়েছে।

প্রতিমা নিরঞ্জনের পর পুরনো প্রথা মেনে বোধনের বেলতলায় কাঁচা মাটি দিয়ে শত্রুর প্রতীকী মূর্তি তৈরি করা হয়। রাজবাড়ির গৃহকর্তা তীর-ধনুক দিয়ে শত্রুবধ করেন, এই প্রথা শত্রুবলি নামে পরিচিত।রাজবাড়ির পুজোর আরেক আকর্ষণ হল ভোগ। দেবীর ভোগে খিচুড়ি, ভাজা, ছ্যাঁচড়া, নানাবিধ তরকারি, চাটনি, সুজি, পায়েস ইত্যাদি থাকে। তিথি মিলিয়ে এখানে ভাজা নিবেদন করার রেওয়াজ রয়েছে। সপ্তমীতে সাত রকমের ভাজা হয়। অষ্টমীতে পোলাও, ছানার ডালনার সঙ্গে ভাত, আট রকম ভাজা, মিষ্টি, ক্ষীরসহ একাধিক পদ থাকে। নবমীতে দেওয়া হয় ন’রকম ভাজা, তিন রকম মাছ, ভাত, মিষ্টি। দশমীতে গলা ভাত, শিঙি মাছ, খই, ফল, দই, চিঁড়ে ভোগ দেওয়া হয়। শীতলভোগে থাকে লুচি, ভাজা, তরকারি ও সুজি।

গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে রাখছেন? অজান্তেই বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

FD-তে সর্বোচ্চ ৮.৫% সুদ! গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে এই ব্যাঙ্ক?

‘বিয়ার খেতে চাইলে খান, তবে…’, খেলোয়াড়দের জন্য রাতের নিয়ম শিথিল করলেন জো রুট

রামমন্দিরের ট্রাস্টের CEO পদে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিকরা

পাক সেনার চাকরি না পেয়ে ISI এজেন্ট, কলকাতায় কতবার এসেছিল গুপ্তচর ইজাজ?

বৃহস্পতির কৃপায় অগস্টে ভাগ্যোদয় ৬ রাশির! জীবনে আসবে শুভ পরিবর্তন

দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব সেনা সরিয়ে নিচ্ছে আমেরিকা

ব্লাড প্রেশার বাড়লে নুন খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত? জেনে নিন কি বলছে গবেষণা

লালকেল্লায় বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত আল কায়দা! চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট রাষ্ট্রসংঘের

একই পরিবারের ২ মহিলা কি পাবেন ৩০০০ টাকা? অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন গাইডলাইনে বড় বদল

ফের নিম্নচাপের চোখরাঙানি, টানা বৃষ্টিতে ভাসবে দক্ষিণবঙ্গ, জারি রেড অ্যালার্ট

ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরামের প্রশ্নে চমকে গিয়েছিলেন জল্লাদ, মৃত্যুর আগে কি জানতে চেয়েছিলেন?

নেই কোনও সেতু! জীবন বাজি রেখে উত্তাল নদী পেরিয়ে স্কুলের পথে পড়ুয়ারা

রেড কর্নার নোটিসের পর এবার টুলু মণ্ডলের বাড়িতে সাঁটানো হলো কোর্টে হাজিরার নোটিস