আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

৪০ ডিগ্রির গরম থেকে মুক্তি পেতে ফ্যান ব্যবহার? সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গ্রীষ্মে দ্রুত বাড়ছে তাপপ্রবাহের দাপট ! দেশের একাধিক প্রান্তে পারদ ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। এই ভয়াবহ গরমে বেশিরভাগ সাধারন মানুষের প্রথম আশ্রয় বৈদ্যুতিক পাখা। বিদ্যুতের খরচ তুলনামূলক কম, ব্যবহার সহজ, আর ঘরের ভেতর কিছুটা হাওয়ার অনুভূতি  সব মিলিয়ে পাখাই যেন  মধ্যবিত্তের স্বস্তির প্রতীক। কিন্তু সেই পরিচিত স্বস্তির উপকরণই চরম তাপমাত্রায় শরীরের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে  এমনই সতর্ক করেছে  WHO । প্রচণ্ড গরমে শুধু পাখার উপর নির্ভর করে শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা সবসময় কার্যকর নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনকও হয়ে উঠতে পারে।বিশেষত যেসব এলাকায় বাতাসে আর্দ্রতা কম, সেখানে এই প্রভাব বেশি দেখা যায়। এতে শরীরের জল দ্রুত কমতে শুরু করে, ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, বমিভাব, মাথা ঘোরা, পেশিতে টান ধরা  এমন নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তা হিট এক্সহস্টশন বা হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক অবস্থার দিকেও এগোতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী, হৃদরোগী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই  ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বয়স বা অসুস্থতার কারণে অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় গরম বাতাসের দীর্ঘ এক্সপোজার শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, অনেকেই মনে করেন বেশি ঘাম হওয়া মানেই শরীর ঠান্ডা হচ্ছে। বাস্তবে কিন্তু ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণ ও জলও বেরিয়ে যায়, যা দ্রুত পূরণ না হলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক তাপমাএায় পাখার বাতাস শরীরের ঘাম শুকোতে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বকের উপরিভাগ থেকে তাপ বেরিয়ে গিয়ে শরীর কিছুটা ঠান্ডা অনুভব করে। কিন্তু বাইরের তাপমাত্রা যখন অত্যন্ত বেশি  বিশেষ করে ৪০ ডিগ্রির উপরে   তখন বাতাস নিজেই এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পাখা সেই গরম হাওয়াকেই আরও দ্রুত শরীরের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে শীতলতার বদলে শরীরের উপর তাপের চাপ আরও বাড়তে পারে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ, এই ধরনের চরম গরমে কেবল পাখা চালিয়ে বসে থাকাই যথেষ্ট নয়। শরীর ঠান্ডা রাখতে একাধিক পদ্ধতি একসঙ্গে অনুসরণ করা জরুরি। যেমন ঘন ঘন জল পান করা, ওআরএস বা ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত পানীয় খাওয়া, ফলের রস বা ডাবের জল পান করা, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরা, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদে না বেরোনো, প্রয়োজনে ঠান্ডা জলে স্নান করা বা শরীরে ভেজা কাপড় চাপা দেওয়া। ঘরের জানালায় পর্দা টেনে রাখা, সরাসরি সূর্যের আলো আটকানো, কুলার বা এসির সীমিত ব্যবহার এবং ঘরের ভেতর বায়ু চলাচল ঠিক রাখা এই উপায়গুলোও অনেক বেশি কার্যকর। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর বহু অঞ্চলে হিটওয়েভ এখন দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে। শহরে কংক্রিটের জঙ্গল, কমে যাওয়া সবুজ এলাকা এবং তাপ শোষণকারী নির্মাণসামগ্রীর কারণে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবও বাড়ছে। অর্থাৎ রাতের বেলাতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকছে, ফলে শরীর বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে গরমকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্ভিক্যাল ক্যানসার রুখতে এগোচ্ছে উন্নত দেশ, পিছিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্ব

প্ল্যাটফর্মে ঘুমন্ত যাত্রীর পকেট থেকে চুপিসারে মোবাইল নিয়ে চম্পট, ক্যামেরায় ধরা পড়ল চোর!

‘কিং কোবরা’ সঙ্গে খেলছিলেন, শেষে মর্মান্তিক পরিণতি! ভাইরাল ভিডিও দেখে শোরগোল নেটদুনিয়ায়

iPhone ডিজাইনে বড় চমক,  ম্যাগসেফ বাদ দেওয়ার ভাবনায় Apple

কম খরচে ভ্রমণ কীভাবে সম্ভব? ৩টি সহজ কৌশলেই বদলে যাবে আপনার ট্রিপ

সদর দরজায় এটি ঝুলিয়ে রাখলে কেল্লাফতে, আর্থিক সমস্যা হবে দূর

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ