এই মুহূর্তে

‘বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন অজিত পাওয়ারের দেহাংশ কম্বল চাপা দিয়েছিলাম, ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রত্যক্ষদর্শীর

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘আকাশ থেকে আগুনের গোলা হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল অজিত পাওয়ারের বিমান, নিমেষেই ছিন্নভিন্ন সকলের দেহ, আমরা টুকরো টুকরো দেহাংশগুলির উপর কম্বল চাপা দিলাম’, বারামতীতে মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার হাড়হিম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৯ টা নাগাদ একটি প্রাইভেট চাটার্ড বিমানে করে মহারাষ্ট্রের বারামতীতে সভা করতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। বারামতীতে অবতরণের সময়েই বিমানটি পাহাড়ের কোলে ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের স্থানীয়রা ছুটে আসেন। এরপর বিমানে থাকা অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচজনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সকলকেই মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। এই ঘটনায় গোটা মহারাষ্ট্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহারাষ্ট্র জুড়ে তিনদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও জানা যায়নি।

এবার এই বিমান দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর বর্ণনা করলেন বারামতীর এক প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেছেন, ‘বুধবার সকালে যখন বিমানটি আমার বাড়ির উপর দিয়ে উড়েছিল, তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু যখন ফিরছিল তখন এটি খুব নিচু হয়ে নেমে আসছিল। রানওয়েতে পৌঁছতে পারেনি, তখনই বিস্ফোরণটি ঘটে। আমরা দুর্ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলাম। বিস্ফোরণ এবং আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, আমরা তা দেখা মাত্রই বালতিতে জল নিয়ে দৌড়ে গেলাম। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল মৃতদেহগুলি। একটি দেহ একপাশে পড়ে ছিল, তার মাথা কেটে যায়, পাশেই পড়েছিল অর্ধেক দেহ। আমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, তবুও আমরা কম্বল আর কাপড় নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃতদেহগুলিকে ঢেকে রেখেছিলাম। পুলিশ আসতে ১৫-২০ মিনিট সময় লেগেছিল, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা জল আর কাপড় নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’

অজিত পাওয়ারের জীবনী

অজিত পাওয়ারের জন্ম ১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই আমেদনগরে তাঁর দাদার বাড়িতে। তিনি শরদ পাওয়ারের বড় ভাই অনন্তরাও পাওয়ারের ছেলে।
অজিত ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং একটি সমবায় চিনি কারখানার বোর্ডে নির্বাচিত হন। তিনি পুনে জেলা সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এই পদে তিনি ১৬ বছর ধরে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই সময়ে, তিনি বারামতি থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন। পরে তিনি শরদ পাওয়ারের জন্য এই আসনটি ছেড়ে দেন। বারামতি আসনটি পওয়ারের পারিবারিক আসন। শরদ পাওয়ার এবং অজিত পাওয়ার এই আসনে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। শরদ পাওয়ার ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এখানকার বিধায়ক ছিলেন। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে অজিত পাওয়ার আটবার এখান থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তারা কংগ্রেসের ব্যানারে আটবার এবং এনসিপির ব্যানারে চারবার জিতেছেন। শিবসেনা বা বিজেপির কেউ কখনও এই আসনটি জিতেনি। ২০১০ সালে কংগ্রেস-এনসিপি সরকারের সময় অজিত পাওয়ারকে প্রথম মহারাষ্ট্রে উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। তিনি তার সমর্থক এবং জনসাধারণের কাছে দাদা নামে পরিচিত ছিলেন।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

মানুষদের জন্য কাজ করা নেতাকে হারালাম’, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ সচিনের

বিজয় রুপাণী থেকে সঞ্জয় গান্ধি, অজিত পাওয়ারের আগে যে সকল নেতা-মন্ত্রীর প্রাণ কেড়েছে বিমান দুর্ঘটনা

অজিত পাওয়ারের বিমানে একাধিকবার বিস্ফোরণ, কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা?

‘মহারাষ্ট্রের বিশাল ক্ষতি’, অজিত পাওয়ারের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ রীতেশ দেশমুখের

বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রে ৩ দিনের শোক ঘোষণা

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ অভিষেকের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ