এই মুহূর্তে

মুক্তিযুদ্ধে মোদি জেলে ! তথ্য নেই বলে জানাল পিএমও দফতর

PM paying floral tributes at the Samadhi of Mahatma Gandhi, at Rajghat, on the occasion of 76th Independence Day, in Delhi on August 15, 2022.

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি : ফেঁসে গেল নরেন্দ্র মোদির প্রচারের ঢাক! বাংলাদেশের (Bangladesh) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গত বছরের ২৬ মার্চ ঢাকা সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  (Narendra Modi) দাবি করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ‘সত্যাগ্রহ’ করে জেল খেটেছিলেন তিনি। কিন্তু তথ্যের অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরই দফতর পিএমও সাফ জানিয়ে দিল, তাদের কাছে মোদির গ্রেফতারি, জেলে থাকা এবং মুক্তির বিষয়ে কোনও তথ্যই নেই। আরটিআই-এর জবাব উদ্ধৃত করে এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রধানমন্ত্রী তথা দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ভারত সফরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। তার আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদির দাবি ঘিরে প্রশ্ন ওঠায় অস্বস্তিতে নয়াদিল্লি। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর ওই দাবি অসাড় প্রমাণ হওয়ায় বিড়ম্বনা বেড়েছে ঢাকারও। উল্লেখ্য, মোদির ওই বাংলাদেশ সফর ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির স্মৃতিচারণ। সেইসঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিব বর্ষ), ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছরের উদযাপনও ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরের অঙ্গ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত তথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির অবদানের কথা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সব মহলই। সেখানে গত বছর মোদির ওই দাবি ঘিরে ধন্দে পড়ে যান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা পৌঁছে মোদি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আমার বয়স তখন ২০-২২ হবে। আমি ও আমার বহু সহকর্মী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সত্যাগ্রহে শামিল হয়েছিলাম। সে জন্য আমায় জেলে যেতে হয়েছিল।’’ মোদির ওই দাবি ঘিরে তখন থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধে। অনেকেই তাঁর দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মোদির ওই দাবির পরেই জয়েশ গুরনানি নামে এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আরটিআই করেন। গুরনানি পাঁচটি বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করা এফআইআর, গ্রেফতার কী অভিযোগে, গ্রেফতারের মেমো বা প্রাসঙ্গিক নথি, জেল থেকে তাঁর মুক্তির নথি এবং যেখানে তাঁকে রাখা হয়েছিল, সেই জেলের নাম। সরাসরি জবাব এড়িয়ে পিএমও জানিয়েছে, ‘রেকর্ডে পাওয়া তথ্যগুলি হাইপারলিংক ‘পিএম’স স্পিচেস-এর অধীনে পিএমও-র ওয়েবসাইটে পাওয়া যেতে পারে।’ তারা আরও জানায়, ২০১৪-য় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারা প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করে। জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে গুরনানি মুখ্য তথ্য কমিশনার ওয়াই কে সিনহার কাছে আবেদন করেন। ২০২২-এর ১৮ আগস্ট শুনানি করেও কোনও লাভ হয়নি।

তবে এই আবহেই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৭১-এর ১ থেকে ১১ আগস্ট একটি সত্যাগ্রহের ডাক দিয়েছিল জনসংঘ। কিন্তু তা ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব চুক্তির বিরোধিতায় পর্যবসিত হয়। ১২ আগস্ট দিল্লিতে জনসভায় ভাষণ দেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। এই চুক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দিল্লি-মস্কোর চক্রান্ত বলে অভিযোগ করেন তিনি। যুদ্ধের জন্য ভারতের প্রস্তুতি ছিল না, এটাই প্রমাণ করে জনমত গঠন করতে চেয়েছিল জনসংঘ। অসুস্থ বাজপেয়ীর হয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসরকারি সম্মান গ্রহণ করতে গিয়েও এই সত্যাগ্রহের কথা উল্লেখ করেছিলেন মোদি।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

CBSC-র দশম শ্রেণীর ফলাফল প্রকাশ, কীভাবে জানবেন রেজাল্ট?

অর্থ পাচার মামলায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধির স্বামী রবার্ট বঢরাকে তলব দিল্লির আদালতের

বিমানে পাশের আসনে বসা মহিলাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেফতার ভারতীয়

ফের পিছিয়ে গেল ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানি, নতুন তারিখ দিল সুপ্রিম কোর্ট

বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চমক, প্রথমবার বোনাস শেয়ার দিচ্ছে LIC

গুগলের কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে দুবাই, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তনু পুরি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ