আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সোনার বিনিময়ে যৌনতা, ব্রাজিলের অবৈধ খনির অন্ধকার জীবনের কাহিনী শুনলে চমকে উঠবেন

courtesy google

নিজস্ব প্রতিনিধি : অনেকে বাধ্য হয়ে যৌনকর্মীর পেশা বেছে নেয়। এর মধ্যে একজন হল  ব্রাজিলিয়ান অ্যামাজনের ছোট্ট শহর ইতাইতুবার বাসিন্দা দায়ানে লেইতে। তিনি কখনোই যৌনকর্মী হতে চাননি। তাঁর ইচ্ছে ছিল জীবনে বড় কিছু করে দেখানোর। কিন্তু মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর স্বামী হৃদরোগে মারা যায়। সেইসময় প্রবল অর্থকষ্টে ভুগছিলেন দায়ানে। সংসার চালানোর মত ক্ষমতা তাঁর ছিল না। পেটের দায়ে দুমুঠো অন্ন জোগাতে ও স্বামীর শেষকৃত্যের জন্য অর্থ জোগাড় করতে নাম লেখান এই দলে।

দায়ানের যখন ১৮ বছর বয়স তখন তিনি প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। তবে দায়ানে শুধু একজন যৌনকর্মী নন, পাশাপাশি গত ১৬ বছর ধরে, ইতাইতুবার অনেক নারীর মতোই, তিনিও অবৈধ স্বর্ণ খনিতে কাজ করেন। কখনো রান্না করে, কাপড় ধুয়ে, ককনো বা  বারকিপার বা যৌনকর্মী হিসেবে। বর্তমানে তাঁর সাত সদস্যের পরিবার রয়েছে, যাদের ভরনপোষণের ভার রয়েছে দায়ানের উপর।

ব্রাজিলিয়ান সরকারের তথ্য মতে, ৮০ হাজার থেকে ৮ লক্ষ পুরুষ এই সব অবৈধ খনিতে কাজ করেন। ‘গোল্ড নাগেট সিটি’ নামে পরিচিত ইতাইতুবায় কিছু মহিলা তাঁদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। তবে মহিলাদের জন্য এই অবৈধ খনি এলাকাগুলোতে যাওয়া এখনও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

অ্যামাজনের খনি এলাকাগুলোর জীবন যাপন এতটাও সহজ হয় না। বেশিরভাগ গ্রামই শুধু কাদা মাটির রাস্তা, একটি বার এবং একটি গির্জা নিয়ে তৈরি। তবে খনি শ্রমিকরা আরও দূরে কাঠ এবং ত্রিপলের তৈরি ঘরে বসবাস করে। যেখানে সাপ এবং জাগুয়ারের মতো বন্যপ্রাণী থাকে। জেনারেটর বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। রান্নার কাজ করা নারীদেরও পুরুষদের সঙ্গে এই শিবিরে ভাগাভাগি করে থাকতে হয়।

কিন্তু ব্রাজিলের এই খনি গ্রামগুলোতে প্রায় সময় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। নারী হত্যার মত ঘটনা ঘটে চলে। গত বছর ২৬ বছর বয়সী রাইয়েলে সান্তোস নামের এক তরুণীর মৃতদেহ কুইউ-কুইউ স্বর্ণখনির কাছে তার কক্ষে পাওয়া যায়। এই এলাকাটি গাড়িতে ইতাইতুবা থেকে ১১ ঘণ্টার পথ। এই নিয়ে রাইয়েলের বড় বোন রাইলানে জানান, ‘একজন পুরুষ তাকে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয় নি। তাই সে ব্যক্তি তাকে প্রতিশোধ নিতে বোনকে পিটিয়ে হত্যা করে। রাইলানে বলেন, প্রতিদিন অনেক নারী মারা যায়, অনেক নারী। আমি খনিতে জন্মেছি, খনিতে বড় হয়েছি, আর এখন খনিতে বসবাস করতে ভয় পাই।’

এই নিয়ে দায়ানে বলেন, ‘এখানে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব, যতক্ষণ পর্যন্ত পারি, কারণ আমার পরিবার রয়েছে। আমার সন্তানেরা রয়েছে। তাঁদের মুখের দিকে চেয়ে আমি লড়াই করে যাব। একদিন আমার সন্তানেরা বলবে, আমাদের মা আমাদের জন্য অনেক কিছু সহ্য করেছেন, কখনো হাল ছাড়েন নি।’

উল্লেখ্য, গত ১০ বছরে ব্রাজিলে অবৈধ স্বর্ণখনির আয়তন দ্বিগুণ হয়ে ২০২৩ সালে ২ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টরে পৌঁছেছে, যা বৃহত্তর লন্ডনের চেয়েও বড় এলাকা। তবে এই এলাকায় কতজন নারী কাজ করেন বা কতজন অবৈধ খনি শ্রমিক রয়েছেন তা এখনও অজানা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

দু’মাস পর তেহরান থেকে পুনরায় বিমান পরিষেবা চালু করল ইরান, যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত?

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল আমেরিকা

ইরানি সেনার হাতে আটক ট্যাঙ্কারে রাজস্থানের মার্চেন্ট নেভি অফিসার, উদ্বিগ্ন পরিবার

প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার হামলা, নিহত ২

যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই নতুন ব্যবসার ছক আমেরিকার

আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে না ইরান, কি হতে চলেছে পাকিস্তানে?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ