আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বেসরকারি বাসে টাঙাতে হবে ভাড়ার সুস্পষ্ট তালিকা, নির্দেশ আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে বিশেষ করে কলকাতা ও শহরতলি এলাকায়(Kolkata and Suburban Areas) বেসরকারি বাস ভাড়ার(Private Bus Fare) বিতর্কের জল এখনও নিত্যদিন দেখতে পাওয়া যায় চলন্ত বাসে। ভাড়া নিয়ে সেখানে কাজিয়ায় জড়ান বাসের কন্ড্রাক্টর আর যাত্রীরা। এরই মাঝে গত বছর বেসরকারি বাসের ভাড়া সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের(Calcutta High Court) নির্দেশ ছিল, বেসরকারি বাসে ভাড়ার তালিকা(Fare Chart) এমন ভাবে টাঙাতে বলা হয়েছে, যাতে তা সকলের চোখে পড়ে। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত কোনও বাস মালিকই মানেননি। কেননা তাঁরা সরকার অনুমোদিত ভাড়া নিয়ে বাস চালাচ্ছেন না। প্রতিটি রুটে প্রায় নিজেদের ইচ্ছামতো একটা বাস ভাড়া করে নিয়েছে বাস মালিক ও বাস কর্মীরা। সেই ইচ্ছামতো ভাড়াই এখন গুণতে হচ্ছে বাস যাত্রীদের। যেখানে যাত্রীরা সেই ইচ্ছাখুশি মতো বাস ভাড়া দিতে চাইছেন না বা প্রশ্ন তুলছেন, সেখানেই বিবাদ বাঁধছে ভাড়া নিয়ে চলন্ত বাসে। কিন্তু এবার নড়চড়ে বসেছে আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর(Regional Transport Department)। সম্প্রতি তাঁরা বাসমালিক সংগঠনগুলিকে নির্দেশ পাঠিয়েছে যে, বেসরকারি সব বাসে টাঙাতে হবে সরকার অনুমোদিত ভাড়ার সুস্পষ্ট তালিকা।

আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর কলকাতা ও শহরতলির সব কটি চালু থাকা বেসরকারি বাস ও মিনিবাসে রুটের বাসমালিক সংগঠনগুলিকে যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে, বাস ও মিনিবাসে ভাড়ার তালিকা এমন ভাবে টাঙাতে বলা হয়েছে, যাতে তা সকলের চোখে পড়ে। কোথাও বেশি ভাড়া নেওয়া হলে যাত্রীরা যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন, তার ব্যবস্থাও করার কথা বলা হয়েছে। এই নির্দেশেই এখন প্রমাদ গুনছেন বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনগুলি। কেননা সরকারি ভাড়া মানতে গেলে তাঁরা রাস্তায় বাস নামাতেই পারবেন না বলে দাবি তাঁদের। আর এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আমজনতার আশঙ্কা, রাস্তা থেকে বাস উধাও হয়ে যাওয়ার। গত বছর জনৈক প্রত্যুষ পাটোয়ারির দায়ের করা একটি মামলার রায়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ বেসরকারি বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়া আটকাতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল। যার মধ্যে বাসে ভাড়ার তালিকা টাঙানো ছাড়াও লিখিত অভিযোগ জানানোর জন্য আলাদা খাতা রাখার কথা বলা হয়েছিল। যদিও যারা নিত্যদিন বাসে যাতায়াত করেন তাঁরা বিলক্ষণ জানেন সেই নির্দেশ কার্যত কোনও বাসরুটেই মানা হয়নি। আদালত অবমাননার বিষয়টিও কেউ গুরুত্ব দেননি।

আদালত থেকে ওই সময়ে বলে দেওয়া হয়েছিল যে, বেসরকারি বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হলে যাত্রীরা যাতে রাজ্য পরিবহণ দফতরে অভিযোগ জানাতে পারেন তার জন্য নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বর চালু করতে হবে। কোনও জায়গা থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পেলে দফতরের আধিকারিকেরা যাতে তা খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছিল। পরিবহণ দফতর সূত্রের খবর, পুরনো নির্দেশের কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের মাধ্যমে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, শুধু মনে করিয়ে দিলেই কী হল? সেই নির্দেশ যে মানাই হচ্ছে না সেটা কে দেখবে? বস্তুত লকডাউনের পর থেকেই জ্বালানি-সহ নানা খাতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বাসে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। সরকারি ভাবে ভাড়া না বাড়লেও যাত্রীদের বর্ধিত হারে ভাড়া দিতে হচ্ছে। ভাড়া নিয়ে এই লুকোচুরি খেলাসমর্থন করছে না বাসমালিক সংগঠনগুলিও। কিন্তু ছবি বদলাচ্ছে না। ১৩ টাকার ভাড়া এখন গুণতে হচ্ছে প্রায় ২৬ টাকা। কোথাও বা ৩৯ টাকা। অর্থাৎ ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দ্বিগুণ বা তিনগুণ হারে।

ঘটনা হচ্ছে, সরকারি ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাসমালিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ‘অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে বাসমালিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিল। ওই মামলায় রাজ্য তাদের অবস্থানের কথা না জানানোয় তাঁরা ফের আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, নানা ধরনের খরচ বৃদ্ধির কারণে সারা দেশে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহণের ভাড়া নির্ধারণের একটিই নীতি রয়েছে। সেই নীতি উপেক্ষা করার ফলে পরিষেবা ভেঙে পড়ছে। বাস শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষও, একথা তিনি কার্যত স্বীকার করেও নিয়েছেন। আবার ‘সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিস’-এর সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা জানিয়েছেন, ‘বাসের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ২০২০-২১ সালে পর পর দু’টি কমিটি তৈরি হলেও তাদের রিপোর্ট বাইরে আসেনি। ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সরকারকে যথাযথ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ এক দিকে, ১৫ বছর বয়সের গেরোয় শহরে প্রায় দেড় হাজার বাস বাতিল হতে চলেছে। তার মধ্যে এই সরকারি নির্দেশ নিয়ে কড়াকড়ি বাড়লে বেসরকারি বাসের পরিষেবা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বাসমালিকেরাও।   

Published by:

Share Link:

More Releted News:

হাতে মাত্র আর ২ ঘণ্টা, মদের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন সুরাপ্রেমীদের

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন বঙ্গের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সর্তকতা জারি

বিজেপির হয়ে কলকাতায় প্রচারে আসছেন রাঘব চাড্ডা, হতে পারেন কেজরিওয়ালের মুখোমুখি

সল্টলেকের গোপন ডেরায় বিজেপির ভিন রাজ্যের লোকজন, সুজিত বসুর অভিযোগে অ্যাকশন

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে আরও ১১ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ

সিপিএমের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল, লালপার্টির সমীক্ষায় পদ্মের সংখ্যা কত?‌

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ