চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মাকে লেখা শেষ চিঠিতে কী লিখেছিল প্রীতিলতা ? ফিরে দেখা বীরাঙ্গনার কাহিনী

courtesy google

নিজস্ব প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার পালিত হতে চলেছে ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস।এই দিনে মহান বিপ্লবীদের প্রতি সম্মান জানানো হয়।চারিদিকে ওঠে ‘বন্দে মাতরম ধ্বনি’।তবে এই ধ্বনি আজ থেকে বহু বছর আগেই উঠেছিল।যখন রক্তপিপাসু ইংরেজদের অত্যাচারে ভারতবর্ষের মাটি রক্তে রাঙা হয়ে উঠেছিল। নারী পুরুষ নির্বিশেষে বহু মানুষ প্রান দিয়েছিল।এদের মধ্যে অন্যতম বীরাঙ্গনা হল- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।স্বাধীনতা দিবস পালন করার আগে জেনে নিন এই মহান বীরাঙ্গনা ফেলে আসা কাহিনী।

তৎকালীন সমাজে নিয়ন্ত্রণ ছিল কেবল পুরুষদের।আর নারীর জন্য বরাদ্দ ছিল অন্দরমহল, ফলে সেই অন্দরের আড়াল থেকে বাইরের পৃথিবী দেখা অতটাও সহজ ছিল না। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ভারতবর্ষের মহান বিপ্লবী নারীরা কেবল লড়াই করে নি, প্রমাণ করেছিল নিজেদের অস্তিত্ব। পুরুষের তরবারি কখনোই একা জয়ী হয়নি। তাকে শক্তি জুগিয়েছে নারীরা।

স্বাধীনতার চেতনা : ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে, বিতাড়িত করতে হবে রক্তপিপাসুদের, ভারতমাতাকে রক্ষা করতে হবে যে করেই হোক’…. এই কথাগুলো মনে প্রাণে বিশ্বাস করে নিয়েছিলেন প্রীতিলতা। চট্টগ্রামে জন্মানো এই মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী। ১৯৩০ সালে তিনি আইএ পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন।সবে দশম ক্লাসের ছাত্রী তিনি।এর মধ্যেই সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত কিছু গোপন বই প্রীতিলতাকে রাখতে দেওয়া হয়। আর সেখান থেকেই প্রীতিলতা লুকিয়ে পড়ে ফেলেন বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম আর কানাইলালের জীবনের কথা। এই লড়াইয়ের কথা ভেবে চোখে জল নয়, বরং প্রতিশোধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল সেই ছোট্ট মেয়েটির বুকে। যেনে এই লেলিহান শিখা শেষ করে দেবে ঐ পিশাচ সাহেবদের।লাঠি খেলা, ছোরা খেলা ভালভাবে রপ্ত করেছিলেন তিনি।

শিষ্যত্ব গ্রহণ : নিজেকে মাস্টারদার উপযুক্ত শিষ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখে নি প্রীতিলতা।যেভাবেই হোক মাস্টারদা সূর্য সেনকে রাজি করাতেই হবে। সেই যোগত্যা প্রমাণও করলেন তিনি। দলে যোগ দিলেন প্রীতিলতা।এদিকে বাবার চাকরি নেই। ঘরে আর্থিক অনটন, বাড়িতে একমাত্র রোজগেরে বলতে তিনিই, এই অবস্থায় বিপ্লবীদের দলে নাম লেখানো সহজ ছিল না, কিন্তু সব বাধাকে জয় করেছিলেন প্রীতিলতা।

মাকে লেখা শেষ চিঠি : চারিদিকে শুধু রক্তের বন্যা। চিৎকার, আর্তনাদ ভেসে আসছে। আর চুপ করে থাকতে পারলেন না তিনি। সম্মুখ সমরে নামার আগের দিন অজ্ঞাতবাস থেকে শেষবারের জন্য মাকে একটি চিঠি লিখলেন। মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছিলেন, ‘তিনি আর ফিরে আসবেন না। কারণ, দেশ মাকে মুক্তি দিতে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে ভয় পান না তিনি। অনেক পুত্র প্রাণ দিয়েছে, কিন্তু কোনও কন্যা এখনও প্রাণ দেয়নি।’

নেতৃত্ব : এই বিধবা নারী সমাজের তোয়াক্কা না করে, পুলিশের ভয় না করে আশ্রয় দিতেন পলাতক বিপ্লবীদের। সেখানেই অনেক আক্রমণের পরিকল্পনা কষেছিলেন সূর্য সেন। সেখানেই ১৯৩২ সালের ১২ জুন, প্রীতিলতাকে ডেকে পাঠালেন সূর্য সেন। সেখানে তখন নির্মল সেন, ভোলা সেনরা রয়েছেন, পুলিশের চোখে যাঁরা ভয়ংকর বিপ্লবী। আর সেই খবর পেয়েই সেখানে পরদিন হানা দিল পুলিশ। সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন নির্মল ও ভোলা দুজনেই। মাস্টারদা ও প্রীতিলতা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আত্মগোপন করতে হল।

শেষ নিশ্বাস ত্যাগ :  এর কিছু মাসের পর ইউরোপিয়ান ক্লাবে বোমা ছোড়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন প্রীতিলতা। ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পুরুষের পোশাক পরে চট্টগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাবে হানা দিলেন প্রীতিলতা, যেখানে লেখা ছিল, কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ। ক্লাবের সাহেব-মেমরা তখন নাচ-গান মত্ত তখন হঠাৎ গোটা ক্লাবঘর কেঁপে উঠল প্রচণ্ড বিস্ফোরণে। সেই সঙ্গে আওয়াজ হল পিস্তল, সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম্’। অভিযান সফল হল। পটাশিয়াম সায়ানাইডের ক্যাপসুলটা দাঁতে চেপে পড়ে রইলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। নিজের প্রাণ দিয়ে আরও মেয়েদের নাম ইতিহাসে রচনা করে দিয়ে গেলেন এই বীরাঙ্গনা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ডেটিং অ্যাপে সঙ্গী নয়, চাকরি খুঁজছেন অনেকেই! ভাইরাল নতুন ট্রেন্ড

প্রতিদিন ইয়ারবাড ব্যবহার করছেন, জানেন এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী?

অক্ষয় তৃতীয়ায় ৫ টাকায় এই জিনিস কিনলেই মিলবে সারা বছরের ধন-সম্পদ!

গরমে বদহজম থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া পানীয়, জানুন সহজ রেসিপি

সকালের এই সাতটি অভ্যাসের ফলেই বাড়তে পারে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা

ক্যানসার প্রতিরোধের চিকিৎসার পথে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ