দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

Durga Puja : পুজোর নয় দিনে দেবী পূজিতা হন এই নয় রূপে

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :  ওঁ সর্বমঙ্গলা মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে

                                   শরণ্যে ত্রম্ব্যকে গৌরি নারায়নী নমস্তুতেঃ।।

 

বাঙালির প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা। এটা শুধুমাত্র একটা পুজো না, এই দুর্গাপুজো হল বাঙালির আবেগ, বাঙালির মনের আশা। তবে এই দুর্গাপুজো নিয়ে বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা। প্রাচীন কিংবদন্তি আছে, রামায়ণ অনুসারে শ্রী রাবণ বসন্ত কালে দেবী দুর্গার পুজো শুরু করেছিলেন, বাংলায় বর্তমানে যেটি বাসন্তী পুজো নামে পরিচিত।  আবার, রাবণের সাথে যুদ্ধ করতে যাওয়ার প্রাক্কালে শ্রী রামচন্দ্র অসময়ে অর্থাৎ শরৎকালে দেবীর পুজো করেছিলেন, যা দেবীর অকালবোধন নামে পরিচিতি। জানা যায়, এরপর থেকেই যুগ যুগ ধরে শারদীয়া দুর্গাপুজো চলে আসছে ও এই অকালবোধনই প্রধান দুর্গাপুজোর মান্যতা পেয়েছে।

দুর্গাপুজোর সময় দেবী দুর্গাকে নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূজা অর্চ্চনা করা হয়। এর মধ্যে নবরাত্রি হল অন্যতম। আশ্বিনের শুক্লা প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত এই নয়দিন জুড়ে নবরাত্রি ব্রত পালন করা হয়। এই ন’দিন ধরে অর্থাৎ প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত দেবী দুর্গার নয়টি শক্তির যে পুজো হয়, তাকেই “নবরাত্রি” বলে।

‘নবরাত্রি’ কথার অর্থ হলো ‘নয়টি রাত’। ‘নব’ মানে ‘নয়’ এবং ‘রাত্রি’ মানে ‘রাত’। শারদীয়া নবরাত্রির তাৎপর্য নবদুর্গার উৎপত্তি থেকে মহিষাসুরের পরাজয়ের মধ্যে নিহিত। কথিত আছে, শারদ নবরাত্রি দেবী দুর্গা নয়টি রূপ — ভদ্রকালী, জগদম্বা, অন্নপূর্ণা, সর্বমঙ্গলা, ভৈরবী, চণ্ডিকা, ললিতা, ভবানী ও মুকাম্বিকা-কে উৎসর্গ করে।

আবার, পৌরাণিক বর্ণনা মতে দেবী দুর্গার নয়টি রূপকে “নবদুর্গা” নামে অভিহিত করা হয় ৷ এই ন’দিনে  প্রতিপদে “শৈলপুত্রী”, দ্বিতীয়ায় “ব্রহ্মচারিণী”, তৃতীয়ায় “চন্দ্রঘণ্টা”, চতুর্থীতে “কুষ্মান্ডা”, পঞ্চমীতে “স্কন্দমাতা”, ষষ্ঠীতে “কাত্যায়নী”, সপ্তমীতে “কালরাত্রি”, অষ্টমীতে “মহাগৌরী” ও নবমীতে “সিদ্ধিদাত্রী’র” পুজো করা হয়। আসলে এই নয়টি রূপের স্বগুন দেবী পার্বতীর দুর্গা রূপের মধ্যে অন্তর্নিহিত হয়ে আসে। কথিত আছে,  ব্রহ্মার বর অনুযায়ী মহিষাসুর কেবল একজন নারীর কাছেই পরাজিত হতে পারেন। তাই দেবতারা মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। তাই ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর তখন একত্র হয়ে মহিষাসুরকে হত্যা করার জন্য দেবী দুর্গার সৃষ্টি করেন। এই অভূতপূর্ব দশভূজা রূপে দেবী দুর্গা বধ করেছিলেন প্রবল পরাক্রমশালী মহিষাসুরকে।

                                             অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহম্‌

                                             আদিত্যৈরুত বিশ্বদেবৈঃ

                                             অহং মিত্রাবরুণোভা বিভর্ম্যহম্‌

                                             ইন্দ্রাগ্নী অহমশ্বিনোভা ।।

পৌরাণিক ব্যাখ্যা মতে নবরাত্রির প্রথম দিনে মা “শৈলপুত্রী”র আরাধনা করা হয়। শৈলপুত্রীর বাহন বৃষ। তাঁর দক্ষিণ হাতে ত্রিশূল আর বাম হস্তে পদ্ম থাকে। জানা যায়, দেবীর অপর নাম শূল-ধরিনি। শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা হওয়ায় দেবীর নাম শৈলপুত্রী, যিনি দেবাদিদেব শিবকেই পতিরূপে বরণ করেন।

দেবী পার্বতীর নবশক্তির দ্বিতীয় রূপ “ব্রহ্মচারিণী”। এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ হলো তপস্যা। ব্রহ্মচারিণী অর্থাৎ তপশ্চারিণী বা তপ আচরণকারী। তিনি বেদের অধিষ্ঠাত্রী। দেবী ব্রহ্মচারিণীর রূপ দিব্যজ্যোতিতে পূর্ণ, অতি মহিমামণ্ডিত। তিনি ডান হাতে রুদ্রাক্ষের মালা এবং বাঁ হাতে কমণ্ডলু ধারণ করে থাকেন।

তৃতীয় রাতে পুজো হয় নবদুর্গার তৃতীয় রূপ “চন্দ্রঘণ্টা”র। দেবীর মস্তকে অর্ধচন্দ্র থাকে বলে দেবীকে চন্দ্রঘণ্টা নামে ডাকা হয়। দেবীর এই স্বরূপ পরম কল্যাণকারী। তাঁর শরীরের রং স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল। এই দেবী দশভুজা। তাঁর রূপ অভূতপূর্ব। তাঁর হাতে কমণ্ডলু, ত্রিশূল, তরোয়াল, গদা, ধনুর্বাণ, পদ্ম, জপমালা থাকে।

নবরাত্রির চতুর্থী তিথিতে দেবী দুর্গা “কুষ্মান্ডা” রূপে পূজিতা হন। এই কুষ্মা শব্দের অর্থ হল দুর্বিষহ ত্রিতাপ। যিনি এই ত্রিতাপ নিজের উদরে বা অণ্ডে ধারণ করেন, তিনিই কুষ্মান্ডা । এই দেবী সিংহবাহিনী, ত্রিনয়নী ও অষ্টভুজা। তাঁর আটটি হাতে সুদর্শনচক্র, ধনুর্বাণ, রক্তপদ্ম, কমণ্ডলু, ইত্যাদি দৃষ্টিগোচর হয়। দেবীর বাম হস্তে একটি অমৃতপূর্ণ কলসও রয়েছে। কথিত আছে, দেবী তাঁর এই রূপে মহাবিশ্বের সৃষ্টি করেছিলেন। তাই তিনি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা হিসেবে পূজিতা হন।

পঞ্চম রাতে দেবী দুর্গা পূজিতা হন “স্কন্দমাতা” রূপে। স্কন্দ অর্থাৎ দেব সেনাপতি কার্তিকের জননী হওয়ায় তাঁকে স্কন্দমাতা বলা হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস, দেবী সূর্য মণ্ডলের প্রধান দেবতা হওয়ার কারণে তাঁর সুন্দর চিত্রটি বিশ্বজুড়ে আলোকিত হয়েছে।

নবরাত্রির ষষ্ঠ রাতে পুজো হয় নবদুর্গার ষষ্ঠ রূপ “কাত্যায়নী”র। এই নাম এবং রূপের নেপথ্যে আছে এক পৌরাণিক কাহিনি। বৈদিক যুগে কাত্যায়ন নামে এক মহাঋষি ছিলেন। কাত্যায়নের এক পুত্র থাকলেও তাঁর একটি কন্যাসন্তান লাভের ইচ্ছা হয়। এরপর দেবী পার্বতীর তপস্যা করলে তিনি ঋষির ইচ্ছা পূর্ণ করেন ও দেবী পার্বতী স্বয়ং কাত্যায়নের কন্যা রূপে জন্ম নেন। তখন তাঁর নাম হয় কাত্যায়নী। দেবী পার্বতী এই রূপ নিয়েই মহিষাসুরকে বধ করেন।

সপ্তম রাতে পুজো হয় নবদুর্গার সপ্তম রূপ “কালরাত্রি”র। নাম শুনেই বোঝা যায় যে, দেবী কৃষ্ণ বর্ণা। আলুলায়িত কেশে তিনি ধাবিত হন শত্রুর দিকে। তাঁর কণ্ঠে থাকে বিদ্যুতের মালিকা। ত্রিনয়নী ভয়ঙ্করী দেবীর শ্বাস-প্রশ্বাসে বেরিয়ে আসে আগুনের হলকা। ভীষণদর্শন দেবীর তিন হাতে অস্ত্র আর এক হাতে ভক্তদের প্রতি বরাভয়। এই রূপেই দেবী কালীর পুজো হয়। তিনি একদিকে ভয়ঙ্করী হলেও অন্যদিকে তিনি শুভংকরী। দেবী কালরাত্রির বাহন গর্দভ।

নবরাত্রির অষ্টম রাতে পূজিতা হন “মহাগৌরী”, যাঁর পুজো করলে সব পাপ ধুয়ে যায়। হিমায়লকন্যা গৌরী ছিলেন গৌর-বর্ণা। দেবী গৌরী প্রখর রৌদ্রে শিবের তপস্যা করে তিনি কৃষ্ণা হন। এরপর মহাদেব গঙ্গাজলে তাঁকে স্নান করালে তিনি পুনরায় ফরসা হয়ে ওঠেন। তখন তাঁর নাম হয় মহাগৌরী। সাদা পোশাক পরিহিতা, চার হাতবিশিষ্টা দেবীর বাহন ষাঁড়। দেবীর এক হাতে রয়েছে শোভিত বরাভয় মুদ্রা। বাকি তিন হাতে থাকে পদ্ম, ত্রিশূল এবং ডমরু।

নবদুর্গার শেষ রূপ “সিদ্ধিদাত্রী” পূজিতা হন নবমীতে। মার্কণ্ডেয় পুরাণে দেবী সিদ্ধিদাত্রী অষ্টভুজা ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ডে সিদ্ধিদাত্রী অষ্টাদশভুজা। তবে ‘সিদ্ধিদাত্রী’কে চতুর্ভুজা রূপেও দেখা যায়। দেবী সিদ্ধিদাত্রী শিবের আরাধ্য। সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে শুধু আশীর্বাদী মুদ্রা। তিনি সিদ্ধি দান করেন। অর্থাৎ তাঁর উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি। দেবী ভগবত পুরাণে আছে, স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতীকে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন ও তার ফলে মহাদেব সকল সিদ্ধি লাভ করেছিলেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

চা-কফি বাদ, মেকআপে শুধুই সানস্ক্রিন, সুতির শাড়ি-চুড়িদার পরেই প্রচারে ঝড় তুলছেন লাভলি

গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল পুরুলিয়ার গন্ধডি, ৭ কিমি পথ পেরিয়ে ভোট দিলেন গ্রামবাসীরা

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ