চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে তেষ্টার জল তুলে দিয়েছিলেন! স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে কে এই সাবিত্রী দেবী ?

courtesy google

নিজস্ব প্রতিনিধি : দেখতে দেখতে কেটে গেল ৭৭ টা বছর। সেই ৭৭ বছর আগে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল। আর বেশি দিন নেই। হাতে আর ৪ টে দিন মাত্র। এরপরই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসতে চলেছে স্বাধীনতা দিবস। সাজো সাজো রব উঠবে চারিদিকে। ইংরেজদের অকথ্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল প্রকারের মানুষ। দেশ সেবায় নিজেদের সঁপে দিয়েছিল বহু মানুষ। দেশকে মুক্ত করতে রক্ত ঝরিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের সকলকে স্বাধীনতার দিবসে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হয়। এই আন্দোলনে শহিহ হয়েছেন বহু মানুষ। তেমনই শহিদ হয়েছিলেন সাবিত্রী দেবী। ভারতছাড়ো আন্দোলনের এক অন্যতম অজানা মুখ হলেন সাবিত্রী দেবী। এই বিরাঙ্গনা নারীর ইতিহাস অনেকের কাছে অজানা।শহীদ মাতঙ্গিনী হাজরার নামের সঙ্গে আর একজনের নাম উল্লেখ আছে তিনি হলেন ‘সাবিত্রী বালা দেবী। ওরফে সাবিত্রী বালা দে।’
ইংরেজ পুলিশের গুলিতে একের পর এক দেশপ্রেমী রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েছেন মাটিতে। সবার মুখে এক আর্তনাদ- ‘জল চাই, জল…….’ তখন মৃত্যুমুখী দেশপ্রেমীদের মুখের সামনে জল ধরে শেষ তৃপ্তিটুকু মিটিয়েছিলেন সাবিত্রী। তাঁদেরকে পরম যত্নে তুলে দিয়েছিলেন পিপাসার জল। তবে এর জন্য তাঁকে কম ত্যাগ করতে হয় নি। বন্ধুকের গুলিকে উপেক্ষা করে, মৃত্যু ঝুঁকি কে আলিঙ্গন করে তবেই দেশপ্রেমীদের মুখে তুলে দিয়েছিলেন পিপাসার জলটুকু।
তাঁদের আর্তির কণ্ঠ-নিসৃত আর্তনাদের খবর পেয়েই স্থানীয় এক গ্রাম্য মহিলা, যার নাম সাবিত্রী দেবী, তিনি সমস্ত মৃত্যু-ভয়কে ভুলে ছুটে গিয়েছিলেন তমলুক থানার কাছে শঙ্করআড়া পোলেতে এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকা আহত-রক্তাক্ত বিপ্লবী দেশপ্রেমিকদের মুখে তুলে দিয়েছিলেন পিপাসার জল।
তিনি নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন সেই দেশমায়ের সন্তানদের সেবা-শুশ্রুষায়। আহতদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্তও তিনি করেছিলেন। সাবিত্রী দেবী আহতদের সেবা-শুশ্রুষা করছেন, তখন ইংরেজের বন্ধুকধারী রক্তপিপাসুর দল রাইফেল উঁচিয়ে সাবিত্রী দেবীকে ভয় দেখিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার হুঙ্কার দিয়েছিলেন তখন সাবিত্রী দেবী বাড়ি থেকে ঝাঁটা ও বঁটি হাতে ইংরেজ বাহিনীর দিকে এগোতে থাকে। এবং তার সঙ্গে আরও অনেক মহিলারা। হাতে আঁশ বঁটি ও ঝাঁটা হাতে ইংরেজ বাহিনীকে ধাওয়া করে। সত্যিই সেদিন নারীদের এই নারীর তেজ দেখে চমকে উঠেছিল রক্তপিপাসু ইংরেজদের দল। এমন নারী কোন সাধারণ নারী হতে পারে না… এসব ভাবতে ভাবতে নিমেষে ঝাঁটা বটিঁ হাতে তেড়ে এল সাবিত্রীরা। তাঁদের সেই রণ মূর্তি দেখে ভয়ে পিছোতে থাকে ইংরেজরা।
তৎকালীন সমাজে সাবিত্রী দেবী ছিলেন সমাজচ্যুত মহিলা। চরম দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে কাটতো তাঁর জীবন। ছিল মাটির ঘরে, মাটির উনুন, ভাঙা তোবড়ানো একটি অ্যালুমিনিয়ামর থালা, শতচ্ছিন্ন কাপড় জামা, কোনদিন ঠিক করে পেট পুরে খেতেও পেতেন না। এমন সমাজচ্যুত নারী হয়ে তাঁর মধ্যে আগুল জ্বললো কী করে ? আসলে সেই জীবনের সমস্ত ক্ষোভকে একজায়গায় এনে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তিনি।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ডেটিং অ্যাপে সঙ্গী নয়, চাকরি খুঁজছেন অনেকেই! ভাইরাল নতুন ট্রেন্ড

প্রতিদিন ইয়ারবাড ব্যবহার করছেন, জানেন এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী?

অক্ষয় তৃতীয়ায় ৫ টাকায় এই জিনিস কিনলেই মিলবে সারা বছরের ধন-সম্পদ!

গরমে বদহজম থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া পানীয়, জানুন সহজ রেসিপি

সকালের এই সাতটি অভ্যাসের ফলেই বাড়তে পারে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা

ক্যানসার প্রতিরোধের চিকিৎসার পথে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ