শেষ বিদায়ের পথেই ইতি পড়ল ১৮ জীবনের! শোকস্তব্ধ বাগদা

Published by:
https://www.eimuhurte.com/wp-content/uploads/2021/09/em-logo-globe.png

Koushik Dey Sarkar

28th November 2021 10:23 am

নিজস্ব প্রতিনিধি: কোভিডকালে এখনও ইতি পড়েনি। রাজ্য সরকার এখনও পুরোপুরি ভাবে কোভিড বিধি প্রত্যাহার করার কথাও বলেনি। বরঞ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে কোভিডবিধি পালনের ওপর। কিন্তু সেই কথা যে এক শ্রেনীর মানুষ কর্ণপাতও করছেন না সেটা এবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল নদিয়া জেলার বুকে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দলবল নিয়ে মৃতদেহ সৎকার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ল একাধিক পরিবার। আর তার জেরেই এক শিশু ও ৬ মহিলা সমেত মারা গেলেন ১৮জন। আহতেদের মধ্যে আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এই অবস্থায় দুর্ঘটনার কারন নিয়ে যত না প্রশ্ন উঠেছে তার থেকেও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠে এসেছে শীতের রাতে শিশু, মহিলা ও দলবল নিয়ে সৎকার করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কতখানি যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই।

জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার বাগদা থানার এলাকার বাসিন্দা শিবানী মুহুরী মারা যান শনিবার দুপুরে। এরপরেই তাঁর পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় নবদ্বীপে তাঁরা দেহ সৎকার করবেন। সেই পরিবারের সকল সদস্য ও বেশ কিছু আত্মীয়স্বজন, পরিজন, প্রতিবেশীরা তাঁদের সঙ্গী হওয়ার কথা জানিয়ে দেন। স্থানীয় বেশ কিছু বাসিন্দা এদিনের দুর্ঘটনা ঘটার পরে জানিয়েছেন, মৃত্যু নিয়ে কেউ শোকাতুর ছিলেন না। বরঞ্চ অনেকটা পিকনিকের মুড নিয়ে সকলে সেজেগুজে রওয়ানা দিয়েছিলেন নবদ্বীপের পথে। মূল উদ্দেশ্য ছিল দেহ সৎকারের ফাঁকে নবদ্বীপ মায়াপুর ঘুরে দেখা। সেই যাত্রার আগে অনেকেই বিস্তর মদ্যপানও করেন। তাঁদের মধ্যে শবদেহবাহী লরির চালক ও খালাসিও ছিলেন। কার্যত এইসব কিছুর জেরে কোনওরকম সাবধানতা অবলম্বন না করেই শনিবার মাঝরাতের দিকে তাঁরা রওয়ানা দেন বাগদা থেকে নবদ্বীপের পথে। রাতের আঁধারে যখন কুয়াশা জমাট বাঁধছে তখন যাত্রা করার সিদ্ধান্ত কিভাবে নেওয়া হয়েছিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

বাগদা থেকে রওয়ানা দেওয়ার পরে পরেই ওই শবদেহবাহী লরি কার্যত দুরন্ত গতিতেই এগোতে থাকে। এরপরেই নদিয়া জেলার হাঁসখালি থানার ফুলবাড়ি এলাকায় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে এক পাথরবোঝাই লরিতে। দুই লরির তীব্র সংঘর্ষেই মারা যান সকলে। রাত ২টো নাগাদ বিকট শব্দ পেয়ে ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দারাই বাড়ির বাইরে এসে দুর্ঘটনাগ্রস্থ লরিটি দেখতে পান। তাঁরাই প্রাথমিক ভাবে উদ্ধারকাকাজ শুরু করেন। খবর দেন পুলিশে। তাঁরাই আহতদের দ্রুত শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। রবিবার সকাল পর্যন্ত ১৮জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে যাদের মধ্যে ১টি শিশু ও ৬জন মহিলাও রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় এক আহত যাত্রী জানিয়েছেন, ‘রাস্তা খারাপ ছিল। কুয়াশাও ছিল। তার মধ্যেই জোরে গাড়ি চলছিল। নবদ্বীপের কাছে এসে পাথরবোঝাই লরিতে ধাক্কা মারে আমাদের গাড়ি।’

অন্য এক আহত যাত্রী আবার জানিয়েছেন, ‘আমরা উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা থেকে নবদ্বীপ যাচ্ছিলাম শবদাহ করতে। রাস্তার পাশে একটি পাথর বোঝাই গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। সেই সময় সামনাসামনি ধাক্কা মেরে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তিরিশ জনের মধ্যে কুড়িজনের প্রাণ চলে গিয়েছে যতদূর জানি। বাকি দশজন বেঁচে রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।’ কাঁদো-কাঁদো অবস্থায় আরও এক যাত্রী বলেন, ‘রাস্তায় কুয়াশা ছিল। খানাখন্দ ভরা ছিল। হয় ড্রাইভার ঘুমিয়ে পড়েছিল নয়ত দেখতে পায়নি। এত জোরে গাড়ি চালাচ্ছিল। নবদ্বীপের সামনে এসে পাশের একটি পাথর বোঝাই লরিতে ধাক্কা মারে। প্রায় জনা সতেরো-আঠারো মানুষ মারা গিয়েছেন। যার শব নিয়ে ওই গাড়িটি রওনা দিয়েছিলেন তার পরিবারের মোট পাঁচজন মারা গিয়েছে। ওদের সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি মেয়েও ছিল। সেও আর রইল না। কয়েকদিন আগেই আমার আত্মীয় বাড়ি ফিরেছিল। সে সিআরপিএফ জওয়ান। ওই গাড়িতে সেও ছিল। এখন আর বেঁচে নেই।’ দুই ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর এক বৃদ্ধ। দিগ-বিদিগ জ্ঞানশূন্য অবস্থা হয়ে গিয়েছে তাঁর। ঠিকভাবে বলতে পারলেন কী হয়েছে। শুধু কাঁদো-কাঁদো গলায় বললেন, ‘আমার দুই ছেলে। দু’জনেই মারা গিয়েছে।’ এদিন সকালে রানাঘাট পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ‘১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জখম ১৪ জনের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্ঘটনাগ্রস্থ লরির চালক ও খালাসি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে যেমন জানা গিয়েছে তেমনি মৃত ও আহতদের মধ্যে অনেক পুরুষ যাত্রীও মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।’

More News:

Leave a Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

নজরকাড়া খবর

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

Subscribe to our Newsletter

134
মিশন দিল্লি, পিকের চাণক্যনীতি কতটা কাজ দিল মমতার?

You Might Also Like