আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

২৪’র ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে আসন সমঝোতায় আপত্তি নেই দীপার

নিজস্ব প্রতিনিধি: কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কাছে কদর পেয়ে কী নিজের চিরাচরিত অবস্থানে বদল আনছেন দীপা দাসমুন্সি(Deepa Dasmunshi)? সর্বভারতীয় কংগ্রেসের(INC) নতুন ওয়ার্কিং কমিটির ঘোষণা হয়েছে রবিবার। লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী এবং রায়গঞ্জের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীপা দাশমুন্সিকে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটির সদস্য করা হয়েছে। দীপাকে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকও করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে তেলেঙ্গানায় দলের পর্যবেক্ষকও করা হয়েছে। আর এই অবস্থাতেই অনেকে মনে করেছিলেন দীপা এই রাজ্যে তৃণমূলের(TMC) সঙ্গে যে কোনও রকমের আসন সমঝোতা বা জোটের তীব্র বিরোধিতা করবেন। কেননা তিনি চিরাচরিত ভসবেই মমতা(Mamata Banerjee) বিরোধী হিসাবেই চিহ্নিত। কিন্তু মঙ্গলবার রাজ্যের একটি সংবাদমাধ্যমের তুলে ধরা তাঁর বিবৃতি বলে দিচ্ছে দীপা বদলাচ্ছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সমঝোতা হলে তাঁর দিকে থেকে তা নিয়ে কোনও আপত্তি নেই।

আরও পড়ুন নেত্রীর আদর্শ, নেত্রীর জয়, INDIA হোক মমতাময়

ঠিক কী জানিয়েছেন দীপা? প্রিয় ঘরণী জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি বিরোধী একটা জোট তৈরি হয়েছে। সেখানে কংগ্রেস ও তৃণমূল দুজনেই শরিক। বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে জাতীয় স্বার্থে এই জোট তৈরি হয়েছে। সুতরাং জোট যখন হয়েছে তখন আসন সমঝোতার প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা নেই। দলের সিদ্ধান্ত আমি বরাবর মেনে চলেছি। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে প্রথমে বামেদের সঙ্গে জোট করার ব্যাপারে কথা হয়েছিল। মহম্মদ সেলিম তখন রায়গঞ্জের সাংসদ ছিলেন। দল বলেছিল, রায়গঞ্জ আসন সিপিএমকে ছাড়তে হবে। আমি রাজি হয়ে গেছিলাম। সিপিএম নেপাল মাহাতোকে আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় পরে অবশ্য জোট আলোচনা ভেস্তে যায়।’ অর্থাৎ দীপা বোঝাতে চেয়েছেন, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব যা স্থির করবেন তা মেনে নিতে আপত্তি নেই তাঁর।

আরও পড়ুন কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক মামলার রায় ৫ সেপ্টেম্বর

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দীপা বা কংগ্রেস চাইলেও বাংলার মাটিতে জোট নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল কতটা নরম হবে? সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা চাইছেন বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১২টি আসন তৃণমূল যেন তাঁদের ছাড়ে। এই ১২টি আসন হল – আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, রায়গঞ্জ, উত্তর মালদা, দক্ষিণ মালদা, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর, বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, বসিরহাট, পুরুলিয়া ও বীরভূম। কিন্তু এই সব আসনের মধ্যে মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর, বসিরহাট ও বীরভূম আগে থেকেই তৃণমূলের দখলে রয়েছে। সেই আসন কোনও ভাবেই তৃণমূল ছাড়বে না। বাকি ৭টি আসনের মধ্যে দক্ষিণ মালদা ও বহরমপুর কংগ্রেসের দখলেই রয়েছে। বাকি ৫টি আসন নিয়ে অবশ্য আলোচনার জল গড়াতেই পারে। যদিও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা কংগ্রেসের দখলে থাকা ২টি আসন ব্যতীত আর কোনও আসনই ছাড়তে আগ্রহী নন। কেননা রাজ্য বিধানসভায় কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্বও নেই। একই সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের একশ্রেনীর নেতারা নিত্যদিন বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে মমতা সহ তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন। এই অবস্থায় মমতাও কংগ্রেসকে বাড়তি জমি ছাড়তে চান না।

আরও পড়ুন ‘বাঙালিরা হিপোক্রিট’, ‘ভণ্ড ও কাঁকড়ার জাত’, বিবৃতি বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইটে

তাই দীপা চাইলেও বাংলার মাটিতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে জোট গঠন বা আসন সমঝোতা হওয়া বেশ কঠিন। সেটা বুঝেই তৃণমূলও রাজ্যের ৪২টি কেন্দ্রেই প্রার্থী দেওয়ার মতো প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বলেই সূত্রে জানা গিয়েছে। এই আবহেই সামনে এসেছে রাজ্যের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষার ফলাফল। সেই রেজাল্ট বলছে, বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও জোট না হলে বিজেপি(BJP) সর্বাধিক ৬টি আসন পেতে পারে। বাকি সব আসনই যাবে তৃণমূলের ঝুলিতে। আর যদি জোট হয় তাহলে তৃণমূলের ঝুলিতে যাবে ৩৩টি আসন, কংগ্রেস পাবে ৩টি এবং বিজেপি ৬টি। অর্থাৎ জোট না হলে তৃণমূলের লাভই বেশি। একই সঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট হওয়া বা না হওয়া নিয়ে বিজেপির কোনও লাভ বা লোকসান হবে না। তবে উনিশের ভোটে তাঁদের প্রাপ্তি এবার এক তৃতীয়াংশে নেমে আসতে পারে। 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বিহারে ঘূর্ণাবর্তর জেরে সোমবার থেকে বঙ্গে ঘনিয়ে আসছে প্রবল দুর্যোগ

ভবানীপুরে মমতার সভা ভণ্ডুলের চেষ্টা, কমিশনে অভিযোগ দায়ের তৃণমূলের

গরমে আলিপুর চিড়িয়াখানায় পশুদের জন্যে ইলেক্ট্রোলাইট ও ‘আইস ট্রিট’-এর বাড়তি ব্যবস্থা

‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’, ডায়মন্ড হারবারে বাইক বাহিনীর হুমকির অভিযোগ উড়িয়ে কটাক্ষ তৃণমূলের

গড়িয়াতে স্ত্রীকে খুন করে পলাতক অধ্যাপক স্বামী, পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ৮ বছরের ছেলে

‘ভয়ঙ্কর খেলা হবে’, ডায়মন্ড হারবারে বাইক বাহিনীর হুমকি, কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ