চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

নাগাল্যান্ডের ঘটনায় বিএসএফ নিয়ে শক্ত করল তৃণমূলের স্ট্যান্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি: মর্মান্তিক। নৃশংস। এই শব্দদুটিও খুব কম নাগাল্যান্ডের ঘটনাকে বর্ণনা করতে। উত্ত্র-পূর্ব ভারতের এই ঘটনা জাতিয় স্তরের রাজনীতিতে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে মোদি সরকারকে। আর বলা ভাল হবে অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে। একইসঙ্গে এই ঘটনা বিএসএফ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের স্ট্যান্ডকে শক্ত করে দিল। কেননা যে ঘটনা শনিবার রাতে নাগাল্যান্ডে ঘটেছে সেই ঘটনা যে আমাদের বাংলায় কোনও সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটবে না তার গ্যারেন্টি কোথায়? বরঞ্চ তৃণমূল থেকে বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধি নিয়ে যে আপত্তি তোলা হয়েছে তার পিছনে থাকা যুক্তিকেই তো শক্ত মাটিতে দাঁড় করিয়ে দিল। আজ অসম রাইফেলসের হাত ধরে যে গণহত্যা ঘটানো হয়েছে সেই ঘটনা যে বাংলার বুকে বিএসএফ ঘটাবে না তার গ্যারেন্টি কোথায়? বিজেপি থেকে মোদি সরকার মায় শেহের মন্ত্রক পর্যন্ত চুপ। অথচ এ রাজ্যের বিজেপি নেতারা বিএসএফ প্রসঙ্গে তৃণমূলের অবস্থানের দরুন দলটিকে ‘রাষ্ট্রদোহী’, ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করতেও পিছুপা হয়নি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু এদিন রাজনীতির কূট লড়াইয়ে নামেননি। বরঞ্চ নাগাল্যান্ডের ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে টুইট করে সমবেদনা জানাবার পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতার কামনা করেছেন এবং ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নাগাল্যন্ডের মন জেলায় শনিবার রাতে মায়ানমার সীমান্তবর্তী ওটিং গ্রামে সন্ত্রাসদমন অভিযানে নেমেছিল অসম রাইফেলেসের জওয়ান ও আধিকারিকেরা। তিরু-ওটিং রোডে অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় একটি কয়লাখনির শ্রমিক বোঝাই একটি মিনি লরিতে গুলি চালান তাঁরা। পরে অসম রাইফেলসের তরফে জানানোও হয় যে সেই সময় কার্যত ‘ভুল করে’ সন্ত্রাসবাদী ভেবে ওই খনি শ্রমিক তথা স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর বিনা প্ররোচনাতে গুলি চালিয়েছিল বাহিনীর জওয়ানরা। তাতেই মারা যান ১৩জন। ঘটনার জেরে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসী পরে পাল্টা হামলা চালান অসম রাইফেলসের জওয়ানদের ওপরে। তাতে ১ জওয়ানও মারা গিয়েছেন। বাহিনীর কয়েকটি গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে অসম রাইফেলস-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ‘ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে। দোষীদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।’ নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও টুইটারে এই ঘটনার উল্লেখ করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। একে ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

কিন্তু এই ঘটনাই তৃণমূলের হাত শক্ত করে দিয়েছে। কেননা অসম রাইফেলস নাগাল্যান্ডে যে ক্ষমতার অধিকারী প্রায় একই রকম ক্ষমতার অধিকার এ রাজ্যের ক্ষেত্রে বিএসএফ-কেও দেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ সীমানার ৫০কিমি ভিতর পর্যন্ত টহল দেওয়ার পাশাপাশি যাকে খুশু যখন খুশি আটক করে তল্লাশি চালাতে পারে। তল্লাশি চালাতে পারে এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িতেও। এমনকি সন্দেহজনক যা খুশি তাঁরা বাজেয়াপ্তও করতে পারে। আর এখানেই প্রশ্ন এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তখন স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিএসএফ কী গুলি করে মানুষ মারার পথে হাঁটা দেবে! তৃণমূল তথা রাজ্য সরকার উভয়ই কিন্তু এই আশঙ্কার কথাই বার বার তুলে ধরছে। যে ঘটনা নাগাল্যান্ডে ঘটেছে তা আমাদের বাংলাতেও কিন্তু যে কোনও দিন ঘটে যেতে পারে! শাহ কী জবাব দেবেন তিনিই জানেন। আদৌ কোনও জবাব তিনি দেবেন কিনা তাও অজানা। তৃণমূলের দাবি ও তার পিছনে থাকা যুক্তি যে ভুল নয় তা কিন্তু ন্যাগাল্যান্ডের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

দু’দফায় হবে পরিচয় যাচাই, বাংলায় ‘মুসলিম’ ভোটারদের আটকাতে নয়া ছক জ্ঞানেশের!

ইডি গ্রেফতার করতেই অসুস্থ ব্যবসায়ী জয় কামদার, ভর্তি R.G.KAR হাসপাতালে

নির্বাচনে আগে কলকাতায় গঙ্গার পাড়ে ধরা পড়ল বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ধৃত ২

কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের ডিরেক্টরকে তলব ইডির

কলকাতায় গরম বেড়ে হবে ৩৭ ডিগ্রি, পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা পৌঁছবে ৪১’র ঘরে

প্রথম দফার ভোটের দিন রাজ্যে থাকবেন মোদি-শাহ, বড় পরিকল্পনা বিজেপির

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ