চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ভোটের আগে বাড়ছে উত্তরবঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ, রাজবংশী ও কামতাপুরী ভোট কার ঝুলিতে?

নিজস্ব প্রতিনিধি:পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে উত্তরবঙ্গে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলাই বিজেপির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই এবারের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪ টি আসনের মধ্যে অন্তত ৪৫ টিতে জয়ের দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে বাস্তবে এই লক্ষ্য পূরণ করা বিজেপির জন্য এতটা সহজ নাও হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, রাজবংশী ও কামতাপুরী সম্প্রদায়ের ভোট এবার কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। 

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কোচবিহারে কামতাপুর পিপলস পার্টি (কেপিপি)-র একটি কর্মীসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার ঘাসফুল শিবিরের থেকে দূরত্ব বাড়াতে পারেন কেপিপি সুপ্রিমো অমিত রায়? কর্মীসভা শেষে তাঁর বক্তব্যে সেই সম্ভাবনার আভাস মিলেছে। কোচবিহারে দলের কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অমিত রায় জানান, যে রাজনৈতিক দল কামতাপুরী মানুষের দাবি, অধিকার এবং আবেগকে গুরুত্ব দেবে, কেপিপি সেই দলকেই সমর্থন করার বিষয়ে ভাববে। 

দলীয় সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু আসনে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে কেপিপি। অমিত রায়ের এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা দানা বাঁধছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি আড়ালে বিজেপির সঙ্গে কোনো সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে কেপিপি? যদিও কেপিপি নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম প্রকাশ করেনি। ফলে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা না গেলেও অমিত রায়ের মন্তব্য যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই যায়।

এদিকে, গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মনের দিল্লি যাত্রা নিয়েও কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। শোনা যাচ্ছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বংশীবদন নিজে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবুও বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর এই আকস্মিক দিল্লি সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছে। বিশেষ করে রাজবংশী ভোটকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক অঙ্ক তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি এবং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-উভয়ের কাছেই ২৫টি আসনের দাবি জানিয়েছেন বংশীবদন বর্মন। তাঁর সংগঠন নির্দল প্রার্থী হিসেবে এই আসনগুলিতে লড়াই করতে চায়। শুধু আসনের দাবিই নয়, রাজ্য সরকারের কাছে প্রায় দুই হাজার রাজবংশী স্কুলের অনুমোদন, রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ডকে স্বশাসিত করার দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পৃথক কোচবিহার রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব এবং রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। বংশীবদন বর্মনের দাবি, রাজ্য বা কেন্দ্র-যে পক্ষ এই দাবিগুলি মেনে নেবে, গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন তাদের দিকেই সমর্থন জানাবে। আর যদি দুই পক্ষই দাবি মেনে নেয়, তবে তারা কেন্দ্রের পক্ষকেই বেশি গুরুত্ব দেবে। তাঁর কথায়, “যে নুন দেবে, তারই গুণ গাওয়া হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোচবিহার জেলায় প্রায় ৩৩ শতাংশ রাজবংশী ভোটার রয়েছেন, যা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু কোচবিহার নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতেও এই সম্প্রদায়ের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই কোচবিহারের আর এক গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজ ওরফে নগেন রায়কে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, বংশীবদন বর্মনও এতদিন রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তাঁর ২৫টি আসনের দাবি এবং রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে। ফলে বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে যে নতুন অঙ্ক তৈরি হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

পুলিশের অনুমতি না মেলায় বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধির বঙ্গ সফর বাতিল

সালানপুরে বলিউডের ‘গ্ল্যামার কুইন’ মন্দাকিনীর রোড’শো ঘিরে জনজোয়ার

নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষক বদল কেন, সদুত্তর দিতে পারলেন না মনোজ

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী টোটোকে ধাক্কা বেপরোয়া লরির, মৃত্যু বৃদ্ধার, জখম ৪

কলিন্স লেনে মিটিং করার অনুমতি না পেয়ে চা খেয়ে জনসংযোগ সারলেন মমতা

মোদির ঝালমুড়ির পাল্টা, ভোটপ্রচারে বেরিয়ে ফুচকা খেলেন তৃণমূল প্রার্থী

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ