চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ঝুঁকে পড়া শতবর্ষী নিমগাছের তলায় বাবা ভূতনাথ, পুরুলিয়ায় ঐতিহ্যবাহী শিবের গাজন

নিজস্ব প্রতিনিধি:  শতবর্ষ প্রাচীন একটি নিম গাছ, বয়সের ভারে বহু আগেই যা মাটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আর সেই ঝুঁকে পড়া নিমগাছের তলাতেই কয়েকশো বছর ধরে অবস্থান করছেন বাবা ভূতনাথ। নীল ষষ্ঠীর সকালে বাবার পুজো দিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শিবের গাজন। পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া থানার রামপুর ব্রাহ্মণপাড়া ভূতনাথ থানে এই প্রথা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে।

আজ নীল ষষ্ঠী, শিবের গাজনের দিন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভক্তরা উৎসাহের সঙ্গে গাজন পালন করছেন। তবে রামপুর ব্রাহ্মণপাড়ার ভূতনাথ থানের গাজন একটু আলাদা মাত্রা পায়। এখানে বাবা ভূতনাথের কোনও পাকা মন্দির নেই। তিনি অবস্থান করছেন নিম গাছের তলায়, খোলা আকাশের নিচে। স্থানীয়দের কথায়, প্রায় দুই দশক আগে নিমগাছটি বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়ে। তারও আগে বহু বছর ধরে গাছটি শতবর্ষ পার করেছিল। সেই গাছের তলাতেই শিলারূপে পূজিত হন বাবা ভূতনাথ। বহু বছর আগে এখানে মন্দির তৈরির চেষ্টা হলেও তা ভেঙে যায়। এরপর আর পাকা মন্দির নির্মাণ করা হয়নি। ভক্তদের বিশ্বাস, বাবা নিজেই খোলা আকাশের নিচে থাকতে ইচ্ছুক, তাই আজও নিমগাছের তলাতেই তাঁর অবস্থান।নীল ষষ্ঠীর দিন ভোর থেকেই এই থানে ভক্তদের ভিড় জমে। আশেপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ উপোস করে এসে বাবার পুজো দেন। কেউ মানত পূরণ করেন, কেউ দণ্ডি দেন, আবার কেউ সারাদিন ধরে শিবভক্তির নানা আচার পালন করেন।

আরও পড়ুন: গরমে অতিথিদের স্বাগত জানাতে ওয়েলকাম ড্রিঙ্কে রাখুন কাঁচা আমের সরবত

এই দিন ভক্তরা দল বেঁধে বাবা ভূতনাথকে মাথায় নিয়ে রামপুর, লক্ষণপুর, বাউরি পাড়া, পাহাড় গোড়া, গবাই পাড়া সহ বিভিন্ন গ্রাম প্রদক্ষিণ করেন। ঢাক ঢোল, ধূপ ধুনোর মধ্যে দিয়ে এই শোভাযাত্রা ঘিরে তৈরি হয় ভক্তিময় পরিবেশ। দিনভর উপোসের পর সন্ধ্যায় তিথি মেনে শুরু হয় শিবের গাজন। ঢাকের বাদ্যি, ধূপ ধুনোর গন্ধ আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ভক্তরা বাবা ভূতনাথকে মাথায় নিয়ে গাজনের আচার সম্পন্ন করেন এবং ভক্তিভরে উৎসবে অংশ নেন। ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের সেবাইত সন্তোষ সিকদার ও অরূপ মুখার্জি জানান, বাবা ভূতনাথ অত্যন্ত জাগ্রত দেবতা হিসেবে পরিচিত। কয়েকশো বছর ধরে তিনি একইভাবে নিমগাছের তলাতেই পূজা গ্রহণ করছেন। ভক্তদের বিশ্বাস, আন্তরিকভাবে মানত করলে বাবা তা পূরণ করেন। শতাব্দী প্রাচীন এই প্রথা আজও অটুট রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রামপুর ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষ এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, যা পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতির এক বিশেষ পরিচয় বহন করে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পরই মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল, মোবাইল অ্যাপে জানা যাবে

নির্বাচনের আগে উত্তরে দুর্যোগ বাড়লেও দক্ষিণে তাপমাত্রা পৌঁছবে ৪০ ডিগ্রির ঘরে

‘‌মথুরাপুরকে আলাদা মহকুমা করা হবে’‌, রায়দিঘি থেকে বড় আশ্বাস অভিষেকের

ডুয়ার্সের মাল বিধানসভা কেন্দ্রে জোরকদমে নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী

ডিলিট নাম ভোটার লিস্টে তুলে দেওয়ার অছিলায়, সোনার বালা নিয়ে চম্পট শান্তিপুরে

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ