চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অনুপ্রবেশ নিয়ে শাহি মন্তব্যে শাহের ব্যর্থতাই প্রকট, মুখ লুকাচ্ছে বিজেপি

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ১৩ নভেম্বর বাংলার ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন রয়েছে। সেই ৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২টি রয়েছে উত্তরবঙ্গে, যেখানে বিজেপি(BJP) শক্তিশালী, ৪টি রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে যেখানে তৃণমূল(TMC) শক্তিশালী। সেই উপনির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী(Union Home Minister)  অমিত শাহ(Amit Shah)। এদিন অর্থাৎ রবিবার তাঁর একমাত্র সরকারি কর্মসূচীটি ছিল রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা(North 24 Pargana) জেলার বনগাঁ(Bongna) মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে থাকা পেট্রাপোল(Petrapol) এলাকায়। সেখানে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা BSF’র একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শাহ পেট্রাপোল সীমান্তে যাত্রী টার্মিনাল ভবন এবং মৈত্রী দ্বার উদ্বোধন করেন। সেই অনুষ্ঠান থেকেই তিনি তৃণমূলকে আক্রমণ শানতে গিয়ে তুলে আনেন অনুপ্রবেশের(Infiltration Remarks) সমস্যা। বলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ সমস্যা মিটিয়ে দেবে। কার্যত তাঁর সেই দাবিই এখন শুধু বিজেপির মুখ পোড়াচ্ছে তাই নয়, খোদ তাঁর নিজেরও মুখ পোড়াচ্ছে। কেননা সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে যে কেন্দ্রের সরকার ব্যর্থ সেটা যেমন তিনি প্রকারন্তরে স্বীকার করে নিলেন, তেমনি তাঁর নিজের হাতে থাকা মন্ত্রকের অধীনস্থ BSF’রও ব্যর্থতা মনে করিয়ে দিলেন। আর তিনি নিজে যেহেতু ওই মন্ত্রকের মন্ত্রী তাই সেই সব ব্যর্থতা তাঁর ঘাড়েই এসে পড়ছে।

আরও পড়ুন, অবশেষে দাবি উঠেই গেল, কালীপুজোতেও চাই সরকারি অনুদান

কথায় বলে, ভাবিয়া বলিও, বলিয়া ভাবিয়ো না। কিন্তু ভেবে না বললে কী হতে পারে সেটাই এখন বিজেপির নেতাকর্মীদের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। এদিন পেট্রাপ্পোলের অনুষ্ঠান থেকে শাহ বলেছেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের সমস্যা আর থাকবে না। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেবে বিজেপি সরকার। ২০২৬ সালে আপনারা পরিবর্তন এনে দিন রাজ্যে। আমরা বেআইনি অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেব। আমরা সোনার বাংলার সরকার করব। ২০২৬ সাল বাংলার মানুষের জন্য সোনার বাংলা নিয়ে আসবে। আমরা ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ বন্ধ করে তবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস নেব। এই অনুপ্রবেশ বন্ধ হলে তবেই বাংলায় শান্তি ফিরবে।’ শাহের এই মন্তব্যকেই এখন লুফে নিচ্ছে তৃণমূল। এদিন শাহি মন্তব্যের জেরে জোড়াফুল শিবির থেকে দাবি করে বলা হয়েছে, ‘সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব অমিত শাহের মন্ত্রকের। তিনি যে অভিযোগ তুলেছেন তাতে ধরে নিতে হয় তাঁর মন্ত্রক ঠিকমতো কাজ করছে না। এটা তো শুধু BSF’র ব্যর্থতা নয়। এটা ওনার মন্ত্রকের এবং ওনার নিজেরও ব্যর্থতা। উনি কী এখানে নিজের ব্যর্থতার ঢাক ঢোল পেটাতে এসেছেন। আসুব একবার কেন, হাজারবার আসুন কোনও অসুবিধা নেই। বাংলার মানুষ বিজেপিকে চিনে নিয়েছে, দেখে নিয়েছে, বুঝে নিয়েছে। সেই জন্যই আর ১৮ নয়, ১২-তে নামিয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে আরও নামাবে।’ বক্তব্য জয়প্রকাশ মজুমদারের।

আরও পড়ুন, মমতার জমানায় বাংলায় উল্লেযোগ্য ভাবে বেড়েছে মহিলা আয়কর দাতার সংখ্যা

বস্তুত বিজেপির নেতারাও এখন শাহি মন্তব্যের জেরে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছেন। তাঁরা ভাবতেও পারেননি যে, শাহ আত্মঘাতী গোল করে বসে থাকবেন। তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকারকেই ‘ব্যর্থ’ বলে বুঝিয়ে দেবেন। তাঁরা এটাও ভাবতে পারেনি যে জোড়াফুল শিবিরকে নিশানা করতে গিয়ে শাহ নিজে তাঁর মন্ত্রকের ব্যর্থতা স্বীকার করে বসে থাকবেন। পদ্মের ভক্তরা ভেবেছিল, শাহি ভোকাল টনিক খেয়ে তাঁরা নিজেরা উপনির্বাচনের লড়াইয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়বেন। কিন্তু কোথায় ভোকাল টনিক! এখন তো ভুলভাল কথার জন্য জবাবদিহি করতে করতেই সময় চলে যাচ্ছে। গলা ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে। শাহ এদিন উপনির্বাচনের বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি। যদি তিনি সারাদিন এই নিয়ে নীরব থেকে যান তাহলে ধরে নিতেই হবে যে, তিনি নিজে ধরে নিয়েছেন ৬ কেন্দ্রেই বিজেপির হার হবে। কার্যত সেই ঘটনা যে ঘটতে পারে সেটা আঁচ করেই তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক এদিন ট্যুইট করে লিখেছেন, ‘জনগণ বলছে তৃণমূল জিতছে’। বিজেপির কর্মীরাও বোধহয় সেটা এখন দেখতেও পারছেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

পুলিশের অনুমতি না মেলায় বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধির বঙ্গ সফর বাতিল

সালানপুরে বলিউডের ‘গ্ল্যামার কুইন’ মন্দাকিনীর রোড’শো ঘিরে জনজোয়ার

নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষক বদল কেন, সদুত্তর দিতে পারলেন না মনোজ

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী টোটোকে ধাক্কা বেপরোয়া লরির, মৃত্যু বৃদ্ধার, জখম ৪

কলিন্স লেনে মিটিং করার অনুমতি না পেয়ে চা খেয়ে জনসংযোগ সারলেন মমতা

মোদির ঝালমুড়ির পাল্টা, ভোটপ্রচারে বেরিয়ে ফুচকা খেলেন তৃণমূল প্রার্থী

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ