চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সাগরদিঘী উপনির্বাচনে জয় নিশ্চিত তৃণমূলের, পরীক্ষা বিরোধীদের

কৌশিক দে সরকার: বাংলার বুকে আবারও এক বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। এবার ভোট হচ্ছে মুর্শিদাবাদ(Murshidabad) জেলার সাগরদিঘী(Sagardighi) বিধানসভা কেন্দ্রে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই বিধানসভা কেন্দ্রের ৩ বারের তৃণমূল(TMC) বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুব্রত সাহার(Subrata Saha) মৃত্যুর জেরে এই আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। সুব্রতবাবুর মৃত্যুর ২০ দিনের মাথায় নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রের ভোট ঘোষণা করে দেয়। এবারে এই আসনে তৃণমূলের দুর্গরক্ষার দায়িত্ব পড়েছে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Debasish Banerjee) ওপর। যিনি একাধারে শুধু দলের ব্লক সভাপতি তাই নয়, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও আত্মীয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী বলতে ২জন। প্রথমজন বিজেপির দিলীপ সাহা যিনি আবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন এবং দ্বিতীয়জন কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাস, যিনি আবার ঘটনাচক্রে প্রয়াত সুব্রতবাবুর ঘনিষ্ঠ হিসাবেই বেশি পরিচিত জেলার রাজনীতিতে। সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্র ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা সিপিআই(এম) দলের দখলে ছিল। অথচ সেই বামেরাই এখন এত খারাপ অবস্থায় যে জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই দেখে নিজেরা প্রার্থী না দিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন GST আদায় ও বৃদ্ধির নিরিখেও দেশের সেরা বাংলা

সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্রটি সাগরদিঘী ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে গঠিত। এই গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল হরহরি, বালিয়া, বোখারা-১, বোখারা-২, কাবিলপুর, পাটকেলডাঙা, বাণেশ্বর, মণিগ্রাম, সাগরদিঘী, বড়লা, গোবরধনডাঙা ও মোড়গ্রাম। ১৯৭৭ সালের আগে এই বিধানসভা কেন্দ্রে ছিল কংগ্রেসি দুর্গ। কিন্তু বাম জমানায় তা লালদুর্গে পরিণত হয়। ২০১১ সালে সেই বামদুর্গের পতন ঘটিয়ে জয়ের মুখ দেখেন সুব্রত সাহা। সেই বছর গোটা মুর্শিদাবাদ জেলায় মাত্র ১টি আসনেই জয়ের মুখ দেখেছিল তৃণমূল। সেটা ছিল এই সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্রটি। ৫৪ হাজার ৭০৮টি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে বামেদের হারাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে লড়াই করেছিল তৃণমূল। যদিও মুর্শিদাবাদের মাটিতে তৃণমূলকে বাম-কংগ্রেস অঘোষিত জোটের বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হয়েছিল। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সাগরদিঘী থেকে জয়ী হন সুব্রতবাবু। সেবার অবশ্য তিনি খুব কম ভোট পান এবং খুব কম ভোটেই জয়ী হন। ২০১১ সালে সুব্রতবাবু প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু ৫ বছর বাদে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সুব্রতবাবু পান মাত্র ২৮ শতাংশ ভোট। সংখ্যার হিসাবে ৪৪৮১৭টি ভোট। ২০২১ সালে অবশ্য সুব্রতবাবু প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি পেয়েছিলেন ৯৫ হাজার ১৮৯টি ভোট।

আরও পড়ুন রাজনৈতিক অবস্থান জানতে সুমনকে চিঠি দেবে বিজেপি

এই অবস্থায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে দেবাশিষবাবু অনেকটাই এগিয়ে থেকে তাঁর লড়াই শুরু করতে চলেছেন। তাঁর বাড়তি দুটি অ্যাডভান্টেজ পাবেন। এক তো তিনি দলের ব্লক সভাপতি হওয়ার দৌলতে পুরো বিধানসভা কেন্দ্র নিজের হাতের তালুর মতোই চেনেন। দলের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের, বুথের নেতাকর্মীদের চেনেন। দলের কে পাশে থাকবে আর কেই বা পর্দার পিছনে বিরোধিতা করতে পারে সেটাও জানেন। তাই নিজের প্রচারের ঘুঁটি নিজেই সাজাচ্ছেন। বুথে বুথে ভরসার কর্মীদের এজেন্ট হিসাবে কাজে লাগাচ্ছেন। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। সব থেকে বড় সুবিধা হয়েছে তিনি বাংলার অগ্নিকন্যার আত্মীয় এই পরিচয়টা। তাই নিজের জয় নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন দেবাশিষবাবু। বরঞ্চ তিনি ভাবছেন জয়ের ব্যবধান বাড়াবে না কমবে সেটা নিয়ে। সেই জায়গায় বিরোধী শিবিরের দুই প্রার্থী দিলীপ সাহা ও বায়রন বিশ্বাস কার্যত যোজন যোজন পিছিয়ে দেবাশিষবাবুর থেকে। যেহেতু দুইজনই তৃণমূল থেকে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন তাই দিলীপের পিছনে যেমন আদি বিজেপি নেই তেমনি বায়রনের পিছনে নেই কংগ্রেসের একাংশ। দুইজনই কার্যত লড়াই করছেন বিরোধী শিবিরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। শিবরাত্রির দুই সলতে। তবে এই দুইজনের মধ্যেও একটা লড়াই হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য। বামেদের সমর্থন পাওয়া কংগ্রেস প্রার্থী যদি দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে তাহলে তা ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে বিজেপির কাছে। কিন্তু যদি বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে থাকে তাহলে কিন্তু বাংলার মাটিতে আরও তলিয়ে যাবে বাম-কংগ্রেস জোট।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

অপেক্ষার অবসান, পুরুলিয়ায় মোদিকে ‘নিজের আঁকা’ ছবি উপহার দিলেন শিল্পী

গঙ্গায় স্নান করতে নেমে পরপর তলিয়ে গেল ৪ ছাত্র

ভোট বঙ্গে রাজনৈতিক কৌশল, ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেলেন মোদি

‘পবিত্রকে জেতালে ৫০ দিনের মধ্যে হলদি নদীর উপর সেতু’‌, নন্দীগ্রামে আশ্বাস অভিষেকের

নিউটাউনে নালার ধার থেকে ৫০০ আধার কার্ড উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

‘অনুপ্রবেশকারীদের সাহস বেড়ে গিয়েছে’, বেলদার সভা থেকে আক্রমণ মোদির

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ