আর কিছুক্ষণ, তারপরেই বদলাচ্ছি আমরা

আমরা আসছি

00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
আমরা এখন লাইভ!
এই মুহূর্তে

সন্ন্যাসী বেশে বাড়িতে ঢুকে সর্বস্ব ‘লুট’ করে পালাল মহিলা, চাঞ্চল্যকর ঘটনা নদিয়ায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: সন্ন্যাসী বেশে বাড়িতে ঢুকেছিলেন, এমনকি তিনদিন থেকেছেন, খেয়েছেন, শেষে সবাইকে অচৈতন্য করে পরিবারের সর্বস্ব হাতিয়ে পালালেন এক অপরিচিত মহিলা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, নদীয়ার চাপরা থানার অন্তর্গত পিঁপড়াগাছি পঞ্চায়েতের তারাতলা গ্রামে। সূত্রের খবর, সেখানকার বাসিন্দা কার্তিক প্রামানিক। তিনি সম্প্রতি এক মহিলাকে বাড়িতে এনে রেখেছিলেন। ওই মহিলা নিজেকে সন্ন্যাসিনী বলে দাবি করেছিলেন। তাই বাড়ির মঙ্গলের জন্যে মহিলাকে বাড়িতে এনেছিলেন কার্তিক প্রামানিক। কিন্তু সূচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোলেন তিনি। বাড়িতে ঢোকার পর মহিলা দাবি করেছিলেন যে, তিনি কার্তিক বাবুর বাড়ির সমস্ত অশান্তি দূর করে দেবে। সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনদিন ধরে ওই বাড়িতে ছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু তাঁর মনে যে অন্য কিছু চলছে, তা ঘুনাক্ষরেও টের পাননি মানিক বাবু এবং তাঁর পরিবার।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে হঠাৎ প্রতিবেশীরা লক্ষ্য করেন যে, মানিক বাবুর বাড়ি থেকে কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তাঁরা বাড়িতে গিয়ে দেখেন বাড়ির দরজা খোলা। ভিতরে সমস্ত আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর বাড়ির পাঁচজন সদস্যই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এরপর তাঁদের ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু তাঁরা ব্যার্থ হন। প্রতিবেশীদের অনুমান, ওই মহিলাই বাড়ির সকলকে বেহুঁশ করে সর্বস্ব লুঠ করে পালিয়েছেন। এরপরেই চাপরা থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এবং সেই বাড়ির পাঁচজন সদস্যকেই দ্রুত কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কার্তিক প্রামানিক ও তার বাড়ি সদস্যদের সম্পূর্ণভাবে জ্ঞান ফেরেনি বলেই জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই এখনও পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি যে, তাঁদের বাড়ি থেকে ঠিক কি কি জিনিস চুরি হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন চাপড়া থানার পুলিশ। অজ্ঞাত পরিচয়ের মহিলার খোঁজ চালাচ্ছেন, তার পাশাপাশি সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার জেরে গোটা গ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মানিকবাবুর পরিবারের এক সদস্য বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে সুস্থ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েই ওই মহিলা প্রামাণিক বাড়িতে ঢুকেছিল। গতকাল সন্ধ্যায় সম্ভবত খাবারের মধ্যে কোনও ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন ওই মহিলা। তিনি রান্না করেছিলেন। যা খেয়ে পাঁচজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অচৈতন্য হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে বাড়ির সমস্ত গহনা লুঠ করে পালিয়েছেন। মহিলার বাড়ি নৈহাটি। একটি স্মরণসভা থেকে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল পরিবারের। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হল যে, ঠাকুর দেবতার প্রতি বিশ্বাস ভাল কিন্তু অতিরিক্ত বিশ্বাস ভাল নয়। তাহলে এমনভাবেই অপরিচিতদের ঘরে ঢুকিয়ে ঠকতে হবে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ফের ধাক্কা ধূমপায়ীদের, এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ল‌ সিগারেটের দাম

বিজেপির দাবিতে সরানো হল কালীঘাট থানার মহিলা ওসিকে

কলকাতার ইতিহাস সংক্রান্ত কবিতার বই স্থান পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে

মর্মন্তিক দুর্ঘটনা কোচবিহারে, যাত্রীবোঝাই অটো ও চারচাকার সংঘর্ষে মৃত ২

কয়েক মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হিঙ্গলগঞ্জের সাহেবখালির কারিগর পাড়া

কালীঘাটের বাড়ি থেকেই আজ বৈঠকে মমতা, কোন খুঁটিনাটি নিয়ে ডাক পড়ল?‌

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ