চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সব পরিষেবাতেই কাজ করতে হবে জুনিয়র ডাক্তারদের, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: আমজনতার স্বস্তি বাড়িয়ে রাজ্যে কর্মবিরতিমুখী চিকিৎসকদের বড় বার্তা দিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট(Supreme Court)। এদিন আর জি কর মামলার(R G Kar Incident Case) শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। দুপুরে সেই মামলার শুনানির কথা থাকলেও মামলার শুনানি শুরু হতে হতে বিকাল হয়ে যায়। সেখানেই শুনানির শেষ দিকে সন্ধ্যার মুখে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির(Strike of Junior Doctors) প্রসঙ্গটি উঠে আসে। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, জুনিয়র ডাক্তারেরা শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা দিচ্ছেন। বহির্বিভাগ ও অন্য ক্ষেত্রে পরিষেবা দিচ্ছেন না তাঁরা। যদিও তাতে আপত্তি জানান জুনিয়র ডাক্তারদের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ। তিনি বলেন, ‘এটি ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।’ তখন প্রধান বিচারপতি(Chief Justice) ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়(D Y Chandrachud) জানতে চান, ‘কেন শুধু প্রয়োজনীয় পরিষেবা কথা বলা হচ্ছে? তা হলে কি সব ডাক্তারেরা সব ডিউটি করছেন না?’ সেই প্রশ্নের জবাবে ইন্দিরা জানান, ‘প্রয়োজনীয় পরিষেবা মধ্যে বহির্বিভাগের পরিষেবা পড়ে না।’ কিন্তু ইন্দিরার সেই যুক্তি মানতে চাননি প্রধান বিচারপতি। উল্টে তিনি জানিয়ে দেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্য ক্ষেত্রগুলি-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা কাজ করবেন জুনিয়র ডাক্তারেরা।

আরও পড়ুন, বিদেশের বাজারেও এ বার মিলবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি

এদিন বিকাল ৪টে ১৫মিনিট নাগাদ আর জি কর মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। শুরুতেই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অনুরোধ জানান, মঙ্গলবার কিংবা বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য। যদিও তাতে সায় দেননি প্রধান বিচারপতি। সেই সময় নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার জানান, আদালতের নিষেধ সত্ত্বেও নির্যাতিতার ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা ক্রমাগত ব্যবহার করা হচ্ছে নানান অনুষ্ঠানেও। তিনি আরও জানান, আর জি কর নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি বানানো হয়েছে। তাঁর আর্জি, ওই ছবিটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হোক। যদিও প্রধান বিচারপতি জানান, ওই ছবিটি বন্ধের নির্দেশ দিতে হলে শুনানির প্রয়োজন রয়েছে। তখন বৃন্দা আবেদন জানান, সমাজমাধ্যমে নজরদারি চালানোর জন্য নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হোক। নির্যাতিতার ছবি-সহ তথ্য দেখলে তা মুছে ফেলার জন্য এই নিয়োগের আর্জি জানান তিনি। এরপরেই আর জি করের ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া কতদূর এগোল, তা জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআইয়ের থেকে স্টেটাস রিপোর্ট দেখতে চান প্রধান বিচারপতি। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, ‘সিবিআই তদন্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। তারা তদন্ত চালিয়ে নিয়ে যাক।’

আরও পড়ুন, বয়সের কারণে বাতিল বাস চালাতে মামলা কলকাতা হাইকোর্টে

এদিনের শুনানিতে জুনিয়র ডাক্তারদের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ আদালতে বলেন, ‘এটা সাধারণ খুন ও ধর্ষণের ঘটনা হিসাবে দেখলে ভুল হবে। আমাদের কাছে চার জনের নাম রয়েছে। দু’জনের নাম আমরা সিবিআইকে দিয়েছি। ওই চার জন অকুস্থলে ছিলেন।’ পাশাপাশি তদন্তের আওতায় আসা হাসপাতালের ৭ জনকে আপাতত সাসপেন্ড করারও দাবি জানান তিনি। ইন্দিরার যুক্তি, তাঁরা এখনও হাসপাতালে কাজ করছেন এবং তাঁরা প্রভাব খাটাতে পারেন। একই আর্জি জানান জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস-এর আইনজীবী করুণা নন্দীও। তিনি বলেন, ‘যে হেতু দুর্নীতির তদন্ত করছে সিবিআই, তাই তদন্তের স্বার্থে কয়েক জনকে প্রভাবশালীকে নিলম্বিত করা হোক।’ সেই আর্জি শুনে কারা তদন্তের অধীনে রয়েছেন সেই নামের তালিকা আদালতে জমা দেওয়ার জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তখন রাজ্যের আইনজীবী জানান, ৫ জনকে ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তখন কোন ৫ জনকে নিলম্বিত করা হয়েছে তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি। সেই সময় রাজ্যের তরফেও আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়, তদন্তকারী সংস্থা নামের তালিকা দিলে পদক্ষেপ করা হবে। রাজ্যের আইনজীবী জানান, কেউ যত প্রভাবশালীই হোন, সিবিআই তাঁদের নামের তালিকা দিলে পদক্ষেপ করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে রাজ্যের কোনও সমস্যা নেই। এরপর প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দিয়ে জানান, তদন্তের আওতাধীন রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নাম সিবিআই রাজ্যকে দিলে পদক্ষেপ করতে হবে। রাজ্যকে আইন মেনে পদক্ষেপ করতে হবে।

আরও পড়ুন, ১১২ ফুটের দুর্গা, অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জেলা শাসককে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

এরপরে সিসিটিভি বসানোর কাজ কতদূর এগিয়েছে তা রাজ্যের আইনজীবীর থেকে জানতে চান প্রধান বিচারপতি। রাজ্য জানিয়েছে, তাতে আরও কিছু সময় লাগবে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে সিসিটিভি বসানোর কাজ হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। আইনজীবী জানান, রাজ্যে উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতির কারণে কাজ কিছুটা থমকে গিয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ২৮টি হাসপাতালে সিসিটিভি বসানো এবং শৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হয়ে যাবে। সে কথা শুনে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, রাজ্যকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হয়। রাজ্য আরও জানিয়েছে, আর জি কর হাসপাতালে ডিউটি রুমের টেন্ডার হওয়ার পরে কাজ থমকে রয়েছে। সিবিআই ছাড়পত্র দিলে কাজ শুরু করা যাবে। যদিও তখন সিবিআই জানায়, ঘটনার পরে ৫ দিন কাজ হয়েছে। এখন আর তাঁদের আপত্তি থাকবে কেন? এরপরেই আসে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রসঙ্গ। সব শেষে রাজ্যের আইনজীবী জানান, হাসপাতালে বেড না দেওয়ার জন্য এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। কোনও ডাক্তার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ জানান তিনি। যদিও ডাক্তারদের আইনজীবী করুণী নন্দী এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। এই তথ্য সঠিক নয় বলেই জানান তিনি।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

৮০০ কর্মীর গ্রেফতারির আশঙ্কা, কলকাতা হাইকোর্টে দৌড়ল তৃণমূল

মুখে নারী ক্ষমতায়ন! বাংলার প্রথম দফার ভোটে বিজেপির মহিলা প্রার্থী মাত্র ১৫

অক্ষয় তৃতীয়ায় জমজমাট প্রচারে মমতা-অভিষেক, জেলায় জেলায় সভা ও রোড শো নাড্ডা-রাজনাথের

দু’দফায় হবে পরিচয় যাচাই, বাংলায় ‘মুসলিম’ ভোটারদের আটকাতে নয়া ছক জ্ঞানেশের!

ইডি গ্রেফতার করতেই অসুস্থ ব্যবসায়ী জয় কামদার, ভর্তি R.G.KAR হাসপাতালে

নির্বাচনে আগে কলকাতায় গঙ্গার পাড়ে ধরা পড়ল বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ধৃত ২

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ