চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

দিল্লি দাঙ্গা মামলায় শরজিল ইমাম-খালিদ উমরকে জামিন দিল না সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি: সুপ্রিম কোর্টে জামিন হল না উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের। ২০২০ সালে দিল্লি দাঙ্গায় মূল অভিযুক্ত দুজনের জামিনের আর্জিই খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারী) তাঁদের জামিনের শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে। কিন্তু শুনানি শেষে এই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচজনের জামিন মঞ্জুর করলেও উমর খালিদ ও শারজিল ইমামে জামিন খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং এনভি অঞ্জরিয়ারের বেঞ্চ ১০ ডিসেম্বর জামিন আবেদনের উপর রায় সংরক্ষণ করার পর এই রায় দিয়েছেন। তবে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, উমর এবং শারজিল চাইলে অন্তত এক বছর পর আবারও জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

জানা গিয়েছে, মামলার সুরক্ষিত সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এখনও সম্পন্ন হয়নি। তা যদি এক বছরের আগেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাঁরা এক বছরের আগেই জামিনের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন। আগামী দিনে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমাম নতুন করে জামিনের আবেদন করলে তা নতুন হিসাবেই গ্রাহ্য করা হবে। আজকের রায়ের সঙ্গে সেই আবেদনের রায়ের কোনও সম্পর্ক থাকবে না। এদিন দিল্লি দাঙ্গায় মূল অভিযুক্তদের জামিন খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানে ব্যক্তিস্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ঠিকই, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগের ঊর্ধ্বে নয়।

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। সেই সময় বেআইনি কার্যকলাপ আইনের অধীনে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন উমর খালিদ, যিনি একজন কর্মী এবং JNU-এর প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। একই বছরেই উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত ৬ বছর জেল খাটছেন তাঁরা। তবে হিংসার ঘটনায় তাঁদের কতটা ভূমিকা ছিল তা জানা যায়নি। এরপর থেকে একাধিক আদালতের শুনানি হয়েছে তাঁদের মুক্তির জন্যে। অক্টোবরে বেঞ্চের সামনে এক শুনানি তে, খালিদ যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি দাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত ৭৫১টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করার সময় তাঁকে কেবল একটি এফআইআরে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সোমবার শুধুমাত্র খালিদের জামিনের আবেদনটি বিচার করে দেখেছে আদালত। এর আগে উমরের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল জানিয়েছেন, “উমরের বিরুদ্ধে ৭৫১টি FIR রয়েছে। কিন্তু তাঁর একটিতে অভিযোগ আনা হয়েছে। যদি এটি একটি ষড়যন্ত্র হয়, তবে এটি আশ্চর্যজনক। দাঙ্গার সময় খালিদ দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন না। তার কাছ থেকে বা তার নির্দেশে তৈরি কোনও অস্ত্র, অ্যাসিড বা কোনও অপরাধমূলক জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়নি। যদি সে তখন দেশে না থাকেন, তাহলে কীভাবে আন্দোলনে সংযুক্ত হতে পারেন?”

এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্টের জামিন খারিজের রায়ে প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছে যে, খালিদ এবং ইমামই প্রথম ব্যক্তি যারা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। মুসলিম জনবহুল এলাকায় বিক্ষোভ এবং ছক্কা-জামের ডাক দিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছিলেন। ইমাম এবং খালিদ ছিলেন পুরো ষড়যন্ত্রের মূলচক্রী। এদিকে আজ বিচারপতি কুমার এবং বিচারপতি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দিল্লি হিংসার পরিকল্পনা এবং ষড়যন্ত্রে যে ভাবে উমর ও শারজিলের কেন্দ্রীয় ভূমিকার উল্লেখ হয়েছে, তার ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ বিচার-পূর্ব দীর্ঘ কারাবাসের উদ্বেগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এদিন জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে থাকা আরও ৫ অভিযুক্ত গুলফিশা ফতিমা, মীরন হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ শাকিল খান এবং শাদাব আহমেদের। আদালত জানিয়েছে, এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ, তা উমর ও শারজিলের চেয়ে তা আলাদা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ছত্তিশগড়ে ভেঙে পড়ল ব্যক্তিগত বিমান, বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

থালাপতি’র ডুপ্লিকেটেই জমছে প্রচার! কলাথুরে নজর কাড়ছেন বিজয় মাধি

উত্তর জাপানে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা

মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি, ৪ ঘন্টা ঘুরপাক খেতেই আতঙ্কে চোখে জল যাত্রীদের

জম্মু-কাশ্মীরে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা! মৃত ১০, আহত একাধিক

‘HR-কে জড়িয়ে ধরে চুমু’! প্রকাশ্যে নাসিকের মতো ঘটনা, গ্রেফতার NGO-র চেয়ারম্যান

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ