এই মুহূর্তে

সরকারবিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতার ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে বিক্ষোভকারীদের আল্লাহ-র শত্রু বলে ঘোষণা করে ইরান সরকার। অভিযুক্তদের ধরে ধরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। যা নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে বয়ে গিয়েছে সমালোচনার ঝড়। এবার চাপে পড়ে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামিল হয়ে গ্রেফতার হওয়া ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় স্থগিত করল সরকার। 

বৃহস্পতিবার আমেরিকা জানিয়েছে যে ইরান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জ্বলছে ইরান। এক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার কারবণে বিক্ষোভ কমেছে বলেই অনেকে মনে করছে। ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এলেও, হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যে “প্রেসিডেন্টের কাছে সমস্ত বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।” হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আজ বুঝতে পেরেছেন যে গতকাল নির্ধারিত এবং অনুমিত ৮০০ মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন,  বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা অব্যাহত থাকলে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে “ভয়াবহ পরিণতি”র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর প্রবল চাপের মুখে ইরান পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ক্রিকেটে কাটল জট, শুক্রে‌ ফের শুরু বিপিএল

গত ২০ দিন ধরে ইরানে চলছে  তীব্র গণবিক্ষোভের। যার জেরেই  তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা  নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে । অনেকেই বলছেন ইরানের ইতিহাসে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ৪৭ বছরের এমন বিক্ষোভ ও এত বড় গণআন্দোলন আগে কখনো দেখা যায়নি।  দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং মুদ্রাস্ফীতির চরম অবমূল্যায়নই এই বিক্ষোভের প্রধান কারণ বলে দাবি করা হয়েছে। 

জানা গিয়েছে, ৮ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে ৩ হাজার ৩৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের বেশিরভাগই ৩০ বছরের নিচে। বেশ কয়েকজন অপ্রাপ্ত বয়স্কের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইজরায়েলি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০ হাজারের বেশি। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে খবর, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান ব্যবহার করছে। রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকা বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে গুলি করা হচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ, মোহারেব (ঈশ্বরের শত্রু), সন্ত্রাসী এবং বিদেশী-সমর্থিত আন্দোলনকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কুর্দি–অধ্যুষিত অঞ্চলে সামরিক আইন জারি করা হয়েছে। সেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।  

 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রেভিলিউশনারি গার্ডের সামরিক মহড়া শুরু, বাড়ছে উত্তেজনা

সাত পাকিস্তানি সেনাকে বন্দি করল বালুচ লিবারেশন আর্মি, ইসলামাবাদকে ৭ দিনের চরমসীমা

দুর্নীতির অভিযোগে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের প্রাক্তন মন্ত্রী গ্রেফতার

উত্তর কোরিয়ার মসনদে কিমের মেয়ে, ভাই-বোনের সংঘাত নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

জুতো থেকে অন্তর্বাস সবই গায়েব, রহস্যময় চুরির নেপথ্যে ‘বিড়াল চোর’

‘পরিচয়পত্র দেখান’, পাক সেনা প্রধান আসিম মুনিরের পথ রুখলেন নিরাপত্তা রক্ষীরা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ