আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ফুটপাতে পড়াশোনা করে মাধ্যমিক পাশ, অনন্য নজির গড়ল দুই কিশোরী

মৌমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: মাধ্যমিক পরীক্ষা হল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। যে কোনও প্রথমের মতো এর স্মৃতি অমলিন, চিরন্তন। তাই মাধ্যমিক নিয়ে সব কিশোর কিশোরীর মনেই স্বপ্ন থাকে। স্বপ্ন পূরণের পথ কারও হয় মসৃণ, কারও বা বন্ধুর। কেউ মসৃণ পথ বেয়ে সহজেই চলে যায় সাফল্যের শিখরে। কেউ আবার জীবনের পথে হোঁচট খেতে খেতে অদম্য জেদ, সমস্ত প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে যায় লক্ষ্যপূরণের দিকে। আজ আমরা তেমনই দু’জন অদম্য, জেদি মেয়ের গল্প শুনব। ফুটপাতের ভাঙা থেকে পড়াশোনা করে মাধ্যমিক পাস করেছে তারা।

দক্ষিণ কলকাতার ফুটপাতে বাস সোনিয়া ও প্রিয়াঙ্কার। বাবা থেকেও নেই। বলা ভাল পিতৃছায়া দুই কিশোরীর কাছেই আতঙ্কসম। রয়েছেন মায়েরা। দুজনেই ছোট থেকে লেখাপড়া করতে চাইত। কিন্তু ফুটপাতে যাদের সংসার তাঁরা সন্তানদের কীভাবেই বা লেখাপড়া শেখাবেন! এ যেন ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা। তাই মেয়েদের আশা দিলেও কীভাবে যে লেখাপড়া করাবেন তা জানতেন না দুই মায়ের কেউ। ঠিক এই সময়ই দেবদূতের মতো এগিয়ে আসে টালিগঞ্জ রামধনু ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।

এই এনজিওটির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রোজেক্ট ডিরেক্টর হলেন মিত্রবিন্দা ঘোষ। দুঃস্থ, অসহায়দের জন্য কাজ করে সংস্থাটি। বছর ছয়েক আগে মিত্রবিন্দারই একদিন চোখে পড়ে শিশু দুটিকে। তারাই আজকের প্রিয়াঙ্কা ও সোনিয়া। সেদিন মিত্রবিন্দা শিশু দুটির চোখে দেখেছিলেন অদম্য জেদ, লেখাপড়ার খিদে। কিন্তু সেই খিদে ব্যক্ত করার মতো কোনও সহৃদয় মানুষও যেন নেই। তাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মিত্রবিন্দা।

তিনি ওই এলাকায় যাতায়াত করতেন আগেই। এবার আরও বেশি করে শুরু হল যাওয়া আসা। সোনিয়া, প্রিয়াঙ্কার জন্য নিয়ম করে নিয়ে যেতেন রঙ পেন্সিল, ছবি আঁকার অন্যান্য সরঞ্জাম। সেই সঙ্গে ফুটপাতের সবার জন্য যেত খাবার। মিত্রবিন্দার মাতৃসত্ত্বাকে যেন অজান্তেই জাগিয়ে তুলেছিল ছোট্ট দুই পথ শিশু।

এর মধ্যে এসে গেল করোনা। কোভিডে জনজীবন বিপর্যস্ত হল। একসময় আবার কেটেও গেল ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। মানুষ আবার শান্ত হল, স্বাভাবিক হল। মিত্রবিন্দার সহায়তাতেই প্রিয়াঙ্কা-সোনিয়া ভর্তি হল দুটি সরকারি স্কুলে। এদিকে তখনও এনজিও’তে থাকার ব্যবস্থা নেই। তাই রাস্তাতেই চলেছে পড়াশোনা। মিত্রবিন্দা তো বটেই, তাঁর এনজিও টালিগঞ্জ রামধনু ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরাও গিয়ে পড়িয়ে আসতেন দুই ছাত্রীকে।

অবশেষে বছর খানেক আগে তৈরি হয় এনজিওর শেল্টার হোম। গত ৯-১০ মাস ধরে সেখানে থেকেই পড়াশোনা করেছে দুই কিশোরী। তার আগ পর্যন্ত ফুটপাতই ভরসা। এইভাবেই একজন কালীধন ইনস্টিটিউশন ফর গার্লস, অন্যজন টালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে চলতি বছরের মাধ্যমিকে। দু’জনেই দুশোর উপরে নম্বর পেয়েছে। সোনিয়া নিজে খুব ভাল অঙ্কনশিল্পী, তাই বড় হয়ে তার ইচ্ছা ট্যাটু আর্টিস্ট হওয়ার। প্রিয়াঙ্কা আগে আরও ভাল করে লেখাপড়া করতে চায়। পরের চিন্তা এখন করতে তার কিশোরী মন মোটেই রাজি নয়।

মিত্রবিন্দা ঘোষ তাঁর দুই ছাত্রীর সাফল্যে একইসঙ্গে আনন্দিত ও গর্বিত। সেই সঙ্গে তিনি বাহবা দিতে চান প্রিয়াঙ্কা-সোনিয়ার এই সাফল্যের নেপথ্যে থাকা কারিগরদের। টালিগঞ্জ রামধনু ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এই মুহূর্ত অনলাইনকে বলেছেন, “যারা এখানে পড়ান তাঁরা তো ভালবেসে পড়ান। নিজের সন্তান মনে করে যেভাবে পথশিশুদের শিক্ষা দিয়েছেন, নিজের পরিবার মনে করেছেন বলেই পেরেছেন।” প্রসঙ্গত, রামধনু ওয়েলফেয়ার কাজ করে সুদূর আদিবাসী গ্রামেও। সেখান থেকেও এই বছর দুজন মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। তারাও ভালভাবে কৃতকার্য হয়েছে।

জীবনের এত দূর পর্যন্ত টালিগঞ্জ রামধনু ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাহচর্যেই এগিয়েছে প্রিয়াঙ্কা ও সোনিয়া। ভবিষ্যতেও তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে পাশে থাকার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ সংস্থাটি। দুই কিশোরীই এগিয়ে চলুক তাদের জীবনের চলার পথে। তাদের ও টালিগঞ্জ রামধনু ওয়েলফেয়ার সোসাইটির জন্য এই মুহূর্ত অনলাইনের পক্ষ থেকে রইল অফুরান শুভেচ্ছা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে কালীঘাট থানার ওসি এবং অতিরিক্ত ওসিকে সরিয়ে দিল কমিশন

ভবানীপুরে শুভেন্দুর সভার মাইকের আওয়াজে নির্বাচনী জনসভা না করে ফিরে গেলেন ক্ষুব্ধ মমতা

কলকাতায় দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনে রাস্তায় নামছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

হাতে মাত্র আর ২ ঘণ্টা, মদের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন সুরাপ্রেমীদের

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন বঙ্গের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সর্তকতা জারি

বিজেপির হয়ে কলকাতায় প্রচারে আসছেন রাঘব চাড্ডা, হতে পারেন কেজরিওয়ালের মুখোমুখি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ