চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

কলকাতার পুজোর Sponsor ধাক্কা খেয়েছে আর জি কর কাণ্ডে

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ গণেশ চতুর্থী। ছেলে এসে গিয়েছেন ইতিমধ্যেই। এক মাসের মধ্যেই মা আসছেন সপরিবারে। মহালয়ার এক মাসও বাকি নেই। শহর কলকাতাও(Kolkata) সেজে উঠছে নানা থিমের শিল্পে আর রঙে। শহরের রাস্তায় রাস্তায় বিজ্ঞাপনী হোর্ডিংয়ের বাঁশের কাঠামো সেজে উঠেছে। কিন্তু এরই মধ্যে ধাক্কা খেয়েছে পুজোর Sponsor আসার প্রক্রিয়া(Sponsorship)। অনান্য বছর এই সময়ের মধ্যে দুর্গাপুজোর(Durga Puja) যে সব বিজ্ঞাপন দাতারা থাকেন তাঁদের সঙ্গে প্রায় ৭০ ভাগ চুক্তি হয়ে যায় পুজো কমিটিগুলির। এবার সেখানে জল গড়িয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশে। আর এটাই ভাবাচ্ছে পুজোকর্তাদের। শহরের বড়, মেজো, সেজো পুজোর পরিকল্পনা এক বছর আগে শুরু হয়। এবং চাঁদা নয়, বাণিজ্যিক সংস্থার টাকার ওপরেই তারা প্রধানত নির্ভরশীল। কিন্তু সেই টাকা আসার রাস্তাটাই এবার ধাক্কা(Badly Effected) খেয়েছে আর জি কর কাণ্ডকে(R G Kar Incident and Movement) ঘিরে আন্দোলনের জেরে।  

আরও পড়ুন, কোচিং থেকে ফেরার পথে গাড়িতে তুলে কিশোরীর শ্লীলতাহানি

কী বক্তব্য পুজোকর্তাদের? কলকাতার ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সভাপতি তথা হাতিবাগান সর্বজনীনের কর্তা শাশ্বত বসু রাজ্যের প্রথম শ্রেনীর এক দৈনিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘স্পনসরদের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হতে দোলাচল অবশ্যই তৈরি হয়েছে। মুম্বই, বেঙ্গালুরুর অনেক অফিসের কর্তারাই কলকাতার খবরে নজর রেখে জল মাপছেন। শহরের মেজাজ বুঝে সাবধানে পা ফেলছেন।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে পুজো বন্ধ রাখা হোক। পাল্টা দাবিও উঠেছে, পুজো উৎসবের আবহেই করা হোক। এই দুইয়ের মাঝে শহর কলকাতার পুজোর Sponsor-রা মেপে পা ফেলতে চাইছেন। এমনকি শহরে পুজো প্রতিযোগিতা আয়োজন বা বিজ্ঞাপনে নানা কারণে নজর কাড়তে ব্যর্থ কোনও কোনও সংস্থা এবার শহরের হাওয়া বুঝেই গুটিয়ে থাকছে। কার্যত বিজ্ঞাপন দেওয়ার পথেই হাঁটতে চাইছে না তাঁরা। এমনকি শহরের বহুল পরিচিত একটি শারদ সম্মাণের প্রতিযোগিতা এবছর আদৌ হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। সেই প্রতিযোগিতার আয়োজকদের দাবি, গত ১৫ দিন ধরে শহরের যা পরিস্থিতি, তা না-পাল্টালে নিশ্চিত কিছু বলা অসম্ভব। পুজোর প্রতিযোগিতা আদৌ হবে কি না, এখনই বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন, শুভেন্দুকে রামধাক্কা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের, বঙ্গে নয় রাষ্ট্রপতি শাসন

পুজোকর্তাদের দাবি, কোভিড ও তাকে ঘিরে লকডাউনের জেরে সেই সময়ে পুজোর কয়েক মাস আগেই আর্থিক বিপর্যয়টা স্পষ্ট হয়েছিল। তাই সবাই সেই সময়ে Low Budget-এ পুজো করেছিলেন। এবারে কিন্তু সেই ধাক্কাটাই ফিরে এসেছে একদম শেষ লগ্নে আর সেটা কাউকে বুঝতে না দিয়ে। তাঁদের দাবি, অন্য বার এত দিনে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেই হোক কী Sponsor পাওয়ার ক্ষেত্রেই হোক, শতকরা ৭০ ভাগ চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যায়। এ বার সেটা ৩০ শতাংশ হয়েছে মাত্র। গণেশ পুজোর পর পর অগ্রিম কিছু টাকা হাতে না-এলে অনেকেরই সমস্যা হবে। ছোটদের স্বাস্থ্যবর্ধক পানীয়ের সংস্থা এবং বাড়ি ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম নির্মাতা একটি সংস্থা এবারে মাঠেই নামতে চাইছে না। একই সঙ্গে অন্য বার যাদের প্রচার সর্বত্র দেখা যায়, এমন একটি অন্তর্বাস সংস্থার উপস্থিতিও শহরে হোর্ডিংয়ে চোখে পড়ছে না। পুজো কর্তাদের দাবি, Sponsor-রা মুখ ফেরালে প্রধানত আগামী বছরের পুজোর পুঁজিতেই টান পড়বে। এই বছরের পুজোর বাজেট প্রায় সবার ঘরেই অনেক আগে ঢুকে গিয়েছে। অন্তত বড় পুজোগুলির ক্ষেত্রে। মাঝারি পুজোগুলির ক্ষেত্রেও ৭০ শতাংশ টাকা ঘরে চলে এসেছে। কিন্তু ধাক্কা ক্ষাচ্ছে ছোট পুজোগুলি।  

আরও পড়ুন, নবান্নে সোম বৈঠকের পরে রাজ্য মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা

এই আবহে পাল্টা প্রশ্নও কিন্তু উঠছে। আর জি করের ঘটনায় বাঙালির বিষাদকে খাটো করছেন না কাশী বোস লেনের পুজো কর্তা সোমেন দত্ত। তবে তাঁর প্রশ্ন, পুজোর সঙ্গে যুক্ত ঢাকি, কারিগরদের সঙ্গে জাস্টিস বা সুবিচারের কী হবে? পুজো ধাক্কা খেলে তো তাঁদের পেটেই টান পড়বে! কোনও কোনও পুজোকর্তা আবার মনে করছেন, পৃষ্ঠপোষকেরা একটু ধীরে চললেও শেষ পর্যন্ত মুখ না-ফিরিয়ে গেট বা হোর্ডিংয়ের দর কমানোর চেষ্টা করবেন। বাঙালির আবেগ বুঝে নিজেদের ভাবমূর্তি নির্মাণে অনেক পুজো আবার তাদের আয়োজনেও প্রতিবাদের বার্তা দিতে উৎসাহী। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দুর্গাপুজো মানে ৮০ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের উৎসব। রাজ্যের জিডিপি-র চার শতাংশেরও বেশি। পথে নামা প্রতিবাদীরা দুর্গাপুজোর সঙ্গে এত মানুষের জীবিকার যোগ বোঝেন! তাই শেষমেষে একটা ভারসাম্য রেখেই পুজো সারার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। আজ, গণেশ চতুর্থী এবং সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পরেই পুজো ভাঁড়ারের লাভ-ক্ষতির অঙ্ক আর একটু পরিষ্কার হবে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

পুলিশের অনুমতি না মেলায় বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধির বঙ্গ সফর বাতিল

নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষক বদল কেন, সদুত্তর দিতে পারলেন না মনোজ

কলিন্স লেনে মিটিং করার অনুমতি না পেয়ে চা খেয়ে জনসংযোগ সারলেন মমতা

ফের রাজপথে মমতা, ২৭ এপ্রিল যাদবপুর থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত মিছিলে হাঁটবেন

বঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটে ২৩২১ কোম্পানি আধা সেনা, কলকাতায় কত?

ভোটের কাজ করতেই হবে অধ্যাপকদের, জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ