এই মুহূর্তে

ট্রেন থামাতে লাইনে সাংসদ-বিধায়কেরা, তবুও জনতার চাপে ব্যর্থ বনধ

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: তাঁদের কেউ সাংসদ(MP), কেউ বা বিধায়ক(MLA)। সকাল থেকেই নেমে পড়েছিলেন দলের ডাকা বনধ সফল করতে। কিন্তু সেই সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই এদিন পিছু হঠতে হয়েছে অফিসমুখী জনতার চাপে। জনতাকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন পুলিশের কর্মী থেকে আধিকারিকেরাও। এদিন দক্ষিণবঙ্গের(South Bengal) একাধিক জায়গায় সকাল থেকেই ট্রেন আটকানোর কর্মসূচী নিয়েছিল পদ্মশিবির। কিন্তু কোথাও তা বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি, জনতার ও পুলিশের চাপে। কার্যত সাঁড়াশি আক্রমণে এদিন পদ্মের জনপ্রতিনিধিদেরও বড্ড অসহায় লেগেছে। কার্যত এদিনের বনধে আমজনতার তরফে কোথাও ছিঁটেফোঁটা সমর্থন পায়নি বিজেপি(BJP)। যার জেরে হাতেগোনা ২-৩ জায়গা বাদ দিয়ে সর্বত্র বিজেপির বনধ সমর্থনকারীদের মুখে বিপ্লবের বুলি তুলেই রাস্তা ছেড়ে দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, কেন বিজেপি ডাকা বনধ এদিন সরাসরি প্রত্যাখান করল বাংলার জনতা(Bengal People Refused Bandh)? অনেকেই মনে করছেন, পুজোর মুখে কর্মনাশা বনধ কেউ সমর্থন করছেন না। আর তাই বিজেপির ডাকা ১২ ঘন্টার বনধ পাশে পেল না বাংলার জনতাকে। 

আরও পড়ুন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস তিলোত্তমাকে উৎসর্গ করলেন মমতা

বিজেপির ডাকা বনধে এদিন সকালেই রেল অবরোধ হয়েছিল পূর্ব রেলের হাওড়া-ব্যান্ডেল শাখার হুগলি স্টেশনে। সেখানে সকালের হাওড়ামুখী লোকাল আটকেছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। রেললাইনে শুয়ে পড়ে সেই ট্রেন থামান বিজেপি কর্মীরা। আবার পূর্ব রেলেরই শিয়ালদা-নৈহাটি শাখার ব্যারাকপুর স্টেশনেও রেল অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু দুই জায়গাতেই চোখে পড়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে বচসা বাঁধে বনধ সমর্থকদের। তারপর সেই বসচার মধ্যেই তৃণমূল কর্মীরা ধাওয়া করেন বনধ সমর্থকদের। এর পরে আসে পুলিশের চাপ। ফলে ৩ দিক থেকে আসা চাপে দিশাহারা অবস্থা দেখায় পদ্মকর্মীদের। ফলে দুই জায়গাতেই ট্রেন চলাচল শুরু হতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগেনি। এদিন পূর্ব রেলের রানাঘাট-শান্তিপুর শাখার শান্তিপুর স্টেশনে রেল অবরোধ করতে দেখা যায় সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে। আবার বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই দুর্গাপুরে অবরোধের চেষ্টা করলে তাঁকেও পিছু হঠতে হয় পুলিশের চাপে পড়ে। বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার নেতৃত্বে বনগাঁ স্টেশনে অবশ্য রেল অবরোধ চলে দীর্ঘক্ষণ ধরে। মুর্শিদাবাদে বিজেপি ট্রেন আটকে দেয় বিজেপি বিধায়ক গৌরিশঙ্কর ঘোষের নেতৃত্বে। তবে সেই অবরোধ উঠে যায় পুলিশ আর আমজনতার চাপে। এদিন হুগলিতে বনধের সমর্থনে রাস্তায় নেমে বাস আটকাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন বিজেপির প্রাক্তবন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন, বিজেপির ডাকা বনধকে পাত্তাই দিচ্ছেন না বাংলার জনতা, তবে পড়ছেন হেনস্থা-ভোগান্তির মুখে

তবে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় এদিন বনধের কোনও প্রবানই পড়েনি। তা সে উত্তরবঙ্গ হোক কী দক্ষিণবঙ্গ। বিজেপির নেতানেত্রীরা এদিন ভাবতেই পারেনি যে আমজনতা বনধকে এভাবে প্রত্যাখান করবেন। বিজেপির পাশে যে আমজনতা নেই তা এদিন বার বার রাজ্যের সর্বত্র চোখে পড়েছে। যে উত্তরবঙ্গে কিছুদিন আগেই হয়ে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৬টি আসন জিতেছিল, এদিন সেই উত্তরবঙ্গে বনধের কোনও প্রভাবই পড়তে দেখা যায়নি। রাস্তায় সেভাবে দেখা মেলেনি বিজেপির কর্মী সমর্থকদের। কার্যত উত্তরবঙ্গের(North Bengal)) দুটি জেলা বাদে বোঝার উপায়ই নেই যে বিজেপি কোনও বনধ ডেকেছে। এদিনের বনধ ডেকেছিলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। অথচ তার জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে বনধের কোনও ছাপই পড়েনি। কিছু কিছু জায়গায় বিজেপির কর্মীরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলেও পুলিশি হস্তক্ষেপ তা উঠে যায়। কোচবিহারে কিছু বাস ভাঙচুরের খবর মিলেছে। এর বাইরে উত্তরবঙ্গ আপাত দৃষ্টিতে এদিন বেশ শান্তই রয়েছে। তুলনায় দক্ষিণবঙ্গে এদিন জায়গায় জায়গায় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে এবং পুলিশের সঙ্গে বনধ সমর্থকদের বচসা বাঁধতে দেখা গিয়েছে। কোথাও কোথাও তা হাতাহাতি অবধি গিয়েছে। কিন্তু কোনও জায়গাতেই তা বড়সড় সংঘর্ষের রূপ নেয়নি।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে, রেডরোড থেকে কটাক্ষ মমতার

সল্টলেকে পথচারীকে পিষে জোড়া মোটরবাইকে ধাক্কা, সরস্বতী পুজোয় বেপরোয়া গতিতে শোকের ছায়া

রামকৃষ্ণের নামে বিশ্ববিদ্যালয় বিল আটকে রাজভবনে, আরটিআইয়ে মিলল চাঞ্চল্যকর সাফাই

‘‌যে মূল্যবোধের জন্য তিনি সারাজীবন লড়েছেন, রক্ষা করব’‌, নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে শপথ অভিষেকের

নেতাজি সম্পর্কিত সব তথ্য প্রকাশ করা হোক, জন্মজয়ন্তীতে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা মমতার

সরস্বতী পুজোয় নামল পারদ, ১৪ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ