চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের প্রেস সচিবের ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’, ঘন ঘন ছুটছেন ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসের প্রেস সচিব তারকুল ইসলাম ভুঁইয়া ওরফে তারিক চয়নের সন্দেহজনক গতিবিধির উপরে বিশেষ নজর রাখছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, কলকাতায় কর্মস্থল হলেও গত ২০০ দিনের মধ্যে তিনি ৬২ দিনই ঢাকায় কাটিয়েছেন। শুধু তাই নয়, একবার ছাড়া প্রতিবারই স্থলবন্দর ব্যবহার করেছেন এবং যাওয়ার সময়ে সঙ্গে ছিল পেল্লাই সাইজের লাগেজ। কূটনৈতিক রক্ষাকবচের সাহায্য নিয়ে তিনি অবৈধ কোনও কার্যকলাপে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ ভারতীয় গোয়েন্দাদের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পেট্রাপোল, গেদে-সহ স্থল বন্দরে থাকা অভিবাসন দফতরের আধিকারিকদের তারিক চয়নের গতিবিধির উপরে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমিল্লার দেবিদ্বারের বাসিন্দা তারিক চয়নকে শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ দূতাবাসের প্রেস সচিব হিসাবে নিয়োগ করা হয়। ছাত্র জীবনে জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের অন্যতম নেতাকে কলকাতায় পাঠানোর ক্ষেত্রে  বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন খোদ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। মূলত রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-সাংসদ-আমলা-পুলিশ আধিকারিকদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতেই প্রাক্তন সাংবাদিক তারিককে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ২০ জুন থেকে ঘন ঘন ঢাকায় যাতায়াত করতে শুরু করেছেন তিনি। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, কোনও বারই সেগুন বাগিচার বিদেশ মন্ত্রকে পা রাখেননি। তবে বিএনপি-সহ ভারত বিরোধী দলগুলির নেতাদের সঙ্গে তাকে সাক্ষা‍ৎ করতে দেখা গিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন। গত বছরের  ২০ থেকে ২৪ জুন ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে ছিলেন তারিক চয়ন। ৪ থেকে ৬ জুলাই ৩ দিন ও ২৪ থেকে ২৭ জুলাই ৪ দিন কাটান। অগস্টের ১৫ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত দেশে কাটান ৬ দিন। পরের মাসে ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ৩ দিন দেশে কাটান। ১৮ থেকে ২৬ অক্টোবর মোট ৯ দিন তিনি দেশে ছিলেন। ছুটি শেষে ২৭ অক্টোবর কলকাতায় কাজে যোগদানের কথা থাকলেও আরও ৭ দিন কাটিয়ে দেন দেশে। ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ফের ৩ দিনের জন্য দেশে ফেরেন তারিক। ডিসেম্বরে দুই দফায় ৫ দিন দেশে কাটান। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর গিয়ে আবার সেদিনই ফেরেন কলকাতায়। জানুয়ারি মাসে এরই মধ্যে ৭ দিন দেশে কাটিয়েছেন।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানতে পেরেছে, এর মধ্যে শুধু একবার আকাশপথ ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশ উপ দূতাবাসের প্রেস সচিব। বাকি সময় নজিরবিহীনভাবে স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন। এর জন্য কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত এক দফা এবং বন্দর পেরিয়ে ঢাকা পর্যন্ত আরেক দফা গাড়ি ভাড়া করে আসা-যাওয়া করেছেন। আকাশপথের চেয়ে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হলেও রহস্যজনক কারণে তারিক এ পথ ব্যবহার করেন। তারিক সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছেন, ‘কুমিল্লার দেবিদ্বারে তার পরিবার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর জড়িত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে জামায়াতের সশস্ত্র সংগঠন শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তারিক। প্রথমে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলেও গত বছরের নভেম্বরে ফের এক বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বিধানসভা নির্বাচনে মদের দোকান খোলা–বন্ধের নিয়মে ব্যাপক রদবদল, চাপ সুরাপ্রেমীদের

ব্রাত্য লাল, তুমুল রেষারেষি চলছে গেরুয়া–সবুজের মধ্যে, বড়বাজারে তুঙ্গে চর্চা

‘‌বাংলার মানুষ–তৃণমূলের বন্ধন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি’‌, বার্তা ঘাসফুলের

কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু ও ২ ছেলেকে ইডির তলব, সোনা পাপ্পু যোগে তদন্ত

৮০০ কর্মীর গ্রেফতারির আশঙ্কা, কলকাতা হাইকোর্টে দৌড়ল তৃণমূল

বাংলাদেশের দিনাজপুরে এবার ঘরে আগুন ধরিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হল হিন্দু দম্পতিকে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ