চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সুরাতের উধনা স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্মম লাঠিচার্জ পুলিশের

নিজস্ব প্রতিনিধি: এলপিজি সঙ্কটে সুরাতের উধনা স্টেশনে ধুন্ধুমার কাণ্ড! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে লাগাতার এলপিজি (LPG) সঙ্কটের জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সুরাত। রান্নার গ্যাসের অভাবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। এই সঙ্কটের মুখে কর্মহীন হয়ে পড়া হাজার হাজার শ্রমিক আজ বাড়ির পথে রওনা দিতে সুরাতের উধনা রেলস্টেশনে ভিড় জমিয়েছিলেন। জনসমুদ্র সামলাতে তাঁদের উপর চলল পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ভারতীয়দের হেঁশেলে। গ্যাস-জ্বালানির আমদানির অভাবের কারণে রান্না-বাণিজ্যিক এলপিজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার ফলে হাহাকার পড়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে। কর্পোরেট ভবনগুলো বন্ধ হয়েছে। কাজের অভাবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। সূত্রের খবর, রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারগামী ট্রেন ধরার জন্য মানুষের হুড়োহুড়ি শুরু হয়। স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত কেবল মানুষের মাথা দেখা যাচ্ছিল। অত্যধিক গরম এবং দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মানুষের মধ্যে ধৈর্যের বাধ ভাঙে, যা মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ​লাইন ভাঙার চেষ্টা করেন অনেকে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় জিআরপি এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে। হুড়োহুড়ির জেরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখনই জনতার ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে ব্যাগ-পত্তর ফেলে শ্রমিকদের দিগ্বিদিক ছুটতে দেখা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের লাঠির আঘাত থেকে বাঁচতে যাত্রীরা লোহার রড টপকে যাচ্ছেন। অনেকে আটকে পড়েছেন। বাড়ি ফিরতে পারেনি। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছে। উধনা স্টেশনে এই বিপুল ভিড়ের পেছনে কারণ ছিল, গরমের ছুটি এবং গত এক-দুই মাস ধরে এলপিজি সঙ্কটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার তাড়া। তবে কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় সাফাই দিয়ে রেল কর্মকর্তা অনুভব সাক্সেনা জানিয়েছেন, ‘গ্রীষ্মকাল চলছে। আমরা যাত্রীদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালিয়েছি। আজ এ পর্যন্ত ছয়টি ট্রেন চালানো হয়েছে। প্রথম ট্রেনটি রাত দেড়টায় উধনা থেকে জয়নগরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পরবর্তী ট্রেনটি ভোর সাড়ে ৫টায় উধনা থেকে মধুবণীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আমরা ক্রমাগত যাত্রীর সংখ্যার ওপর নজর রাখছি এবং রেল কর্তৃপক্ষ সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং যাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জের বিষয়ে রেল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘যাত্রীদের স্টেশনে আনা হচ্ছিল, তখনই কিছু লোক লাইন ভাঙার চেষ্টা করে। শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য লোকজনকে অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা লাইন ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ করা হয়। শৃঙ্খলা বজায় রাখাই আমাদের কাজ।’ এখানেই বোঝা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের এলপিজি সঙ্কট দেশজুড়ে বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পুলিশের মোদি রাজ্যে পুলিশের এই নির্মমভাবে লাঠিচার্জের ঘটনায় বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। উল্লেখ্য, গ্যাসের ঘাটতি সুরাতের বস্ত্রশিল্পে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ বা ৩ লক্ষ শ্রমিক অন্যত্র চলে যাওয়ায় দৈনিক উৎপাদন ৬৫ মিলিয়ন মিটার থেকে কমে ৪৫ মিলিয়ন মিটারে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই শিল্পের জন্য ১৫,০০০ গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও শ্রমিক চলে যাওয়ার এবং আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তামিলনাড়ুতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ঝলসে মৃত্যু ১৬ শ্রমিকের

শ্রীনগরের বিমানবন্দরে পাকড়াও দুই মার্কিন নাগরিক, তল্লাশিতে মিলল স্যাটেলাইট ফোন

তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভের ‘মাস্টারমাইন্ড’

মুচির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৮০ কোটি টাকার লেনদেন! গ্রেফতার ২

কর্ণাটকে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, ট্রাকের ধাক্কায় মৃত ৪, আহত একাধিক

কানপুরে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড! দুই খুদেকে গলা কেটে খুনের পর ফ্ল্যাটে যা দেখল পুলিশ…

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ